ঢাকা রবিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং | ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

রাত ৪:৩৭
সারা বাংলা

বরিশাল পুলিশের নামে মাদক বিক্রেতাদের থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র!

বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশালে এবার অভিনব পন্থায় মাদক বিক্রেতাদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কৌশল নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। মাদক বিক্রেতাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ক্ষেত্রে পুলিশ ম্যানেজের নামে উত্তোলন করা হচ্ছে অর্থ। এমনকি বলা হচ্ছে- উত্তেলিত অর্থের একটি বড় অংশ বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে দেওয়া হবে। এই ভয়ানক প্রতারক চক্রটি এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৭ নম্বর গলির চিহ্নিত মাদক বিক্রেতাদের কাছ থেকে এ পর্যন্তত কয়েক দফায় ২০ হাজার টাকার বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। রানা নামে এক যুবক নিজেকে সাংবাদিক দাবি করে এই অর্থ তুলেছেন বলে অভিযোগ একাধিক মাদক বিক্রেতার। যদিও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট থানা এই প্রতারণার বিষয়টি সম্পর্কে মোটেও ওয়াকিবহাল নন।

পলাশপুর এলাকার মাদক বিক্রেতা জয়ফুলি বলেন- তিনিসহ স্থানীয় আরও অন্তত ৫ জন নারী বিগত সময়ে মাদকে সম্পৃক্ত থাকলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পথ খুঁজছেন। পুলিশের হয়রানি ও সামাজিক কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিলেও কোন কেউ সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি। তাছাড়া স্থানীয় একটি গ্রুপ চাইছিল না স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসি।

এমন পরিস্থিতিতে রানা নামে এক যুবক নিজেকে পুলিশের কাছের মানুষ পরিচয় দিয়ে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এবং পরবর্তীতে পুলিশ কর্মকর্তাদের ম্যানেজের নামে ৫ জনের কাছে ৪ হাজার করে টাকা দাবি করেন। এতে রাজি হলে রানাসহ অন্তত ৮ জন যুবক মিলে কয়েক দফা অর্থ উত্তোলন করেন। এমনিভাবে কয়েক মাসে সকলের কাছ থেকে ২০ হাজার ৫’শ টাকা হাতিয়ে দেয়। এসময় তারা দাবি করে উত্তেলিত সমুদয় অর্থ পুলিশ কমিশনারকে দিয়ে ম্যানেজ করতে হবে। এই সংক্রান্ত একটি মোবাইল রেকর্ডিংও এ প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।

পরে অবশ্য মাদক বিক্রেতাদের আত্মসমপর্ণ করানোর নামে থানা পুলিশসহ বেশ কয়েকটি দপ্তরে নিয়েও যাওয়া হয়। কিন্তু জয়ফুলিসহ মাদক বিক্রেতাদের বাসায় পুলিশ প্রায়শই হানা দেয় এবং তল্লাশি চালালে আত্মসমপর্ণের নামে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি একটা পর্যায়ে প্রকাশ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে এই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লেখালেখিতে বরিশালে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হলে পুলিশকে ফেলে দেয় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। যদিও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন ব্যাখ্যা না পাওয়া গেলেও ভেতরে ভেতরে যে তোলপাড় চলছে সেটি অনুমান করা গেছে।

যদিও পুলিশের ভেতকার একটি সূত্র জানিয়েছে- ইতিমধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে পুলিশের একটি টিম তদন্তও শুরু করে দিয়েছে। তাদের তদন্তে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তবে অভিযুক্ত রানা অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলছেন- জয়ফুলিসহ বেশ কয়েকজন চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সহযোগিতা চেয়েছিলেন। তাদের পুলিশের কাছে নিয়ে যাওয়া বাবদ কিছু টাকা দিয়েছিল।

এদিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য হচ্ছে- মাদক বিক্রেতাদের কাছ থেকে কেন, কারও কাছ থেকে পুলিশের নামে অর্থ তোলা অপরাধ। এই বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এতে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’