• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৭ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২২শে সফর, ১৪৪১ হিজরী

সকাল ৬:০৩

বন্দুকযুদ্ধে নিহত ডাকাত সর্দার সোলেমান


কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার): মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ডাকাত সর্দার সোলেমানের মৃত্যুতে স্বস্তি ফিরেছে কমলগঞ্জের সর্বমহলে। কমলগঞ্জে আতঙ্কের এক নাম ছিল ডাকাত সর্দার সোলেমান মিয়া (৩৮)। সাম্প্রতিক সময়ে সে কমলগঞ্জের আলীনগর চা বাগান, শমশেরনগর চা বাগান, কুলাউড়ার ভাটেরা বাজারে ডাকাতির নেতৃত্বে ছিল। কমলগঞ্জের আলীনগর ইউনিয়নের কালীপুর গ্রামে তার বাড়ি।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার শানখলা ইউনিয়নের ডেওয়াতলী কালিনগর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে কমলগঞ্জের ডাকাত সর্দার সোলেমান মারা যায়। ডাকাতদের হামলায় চার পুলিশ সদস্যও আহত হয়। আহতদের চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা চলছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে ডাকাতরা তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়লে সোলেমান গুলিবিদ্ধ হয়। এ সময় তার সঙ্গীরা পালিয়ে যায়। ডাকাত সোলেমানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু ঘঠে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডাকাত সর্দার সোলেমান ঢাকা, নারায়নগঞ্জসহ আন্ত:জেলা ডাকাতদলের সাথে যুক্ত ছিল। গত এক মাসে সে বহিরাগত ডাকাতদের নিয়ে কমলগঞ্জের আলীনগর চা বাগানের দুটি বাসায়, শমশেরনগর ও কানিহাটি চা বাগানের ২টি বাসায় ডাকাতি করে। গত ১৪ জুলাই রাতে ডাকাত সদস্যদের মুঠোফোন ট্রেক করে রাসেল আহমদ (২২) ও সেজু মিয়া (২৩) দুই ডাকাত সদস্যকে পুলিশ কমলগঞ্জের শমশেরনগর পশ্চিম বাজার এলাকা থেকে আটক করেছিল। আটককৃত দুই ডাকাতকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছিল ঐ রাতে তারা শমশেরনগর ইউনিয়নের বড়চেগ গ্রামের আমদানি রপ্তানি কারক তাসদিক হোসেনের বাসায় ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। দুই ডাকাতকে সে রাতে আটক করা হলেও বাকিরা পালিয়ে গিয়েছিল। সে জন্য সে রাতে পুলিশ সারারাত ব্যবসায়ীর বাড়ি পাহারা দিয়েছিল। সোলেমানের বিরুদ্ধে কমলগঞ্জ থানায় ৬টি মামলা রয়েছে।

গত ১৪ জুলাই দুই ডাকাতকে আটকের পর রাসেল আহমদ নামের ডাকাতের বাড়ি থেকে ডাকাতির সময় ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারও উদ্ধার করা হয়েছিল। তাদের কাছ থেকে পালিয়ে থাকা অন্যান্য সদস্যদের মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করে রাতে সে ফোনগুলি ট্রেক করা হয়। এমনিভাবে বৃহস্পতিবার (০১ আগষ্ট) সোলেমান ডাকাতের মুঠোফোন ট্রেক করে দেখা যায়, সে সিলেট থেকে রওয়ানা দিয়ে শমশেরনগরের দিকে আসছে। সেজন্য বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ সতর্কতা বাড়ানো হয়েছিল। তারা আরও বলেন, পুলিশ সতর্কতা বাড়ানোর ফলে সম্প্রতি ডাকাতদল শমশেরনগর প্রবেশ করতে পারেনি।

শমশেরনগরের কয়েকজন ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘গত দুই মাস ধরে কমলগঞ্জের সর্বমহলে ডাকাত সোলেমান আতঙ্ক কাজ করছিল। রোববার রাতে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বন্দুকযুদ্ধে ডাকাত সর্দার সোলেমানের মৃত্যুর খবর শুনে জনমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।’

কমলগঞ্জ থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান বন্দুকযুদ্ধে ডাকাত সর্দার সোলেমানের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সাম্প্রতিক কমলগঞ্জ ও কুলাউড়ার ডাকাতির সব ঘটনায় সে জড়িত ছিল। সে কমলগঞ্জে এক আতঙ্ক ছিল। এখন সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। ডাকাত সোলেমানের মরদেহ গ্রহনে তার পরিবার সদস্যরা হবিগঞ্জে গিয়েছেন।’