• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ৩১শে মার্চ, ২০২০ ইং | ১৭ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ৫ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

রাত ১২:৪৭

বগুড়ায় কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে কারাবন্দীরা


সুব্রত ঘোষ, বগুড়া : বগুড়া জেলা কারাগারের কয়েদি দুলু মিয়া। বাড়ি বগুড়ার ধুনট উপজেলায়। এত দূর থেকে স্বজনেরা এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেন না। কারাগারে তিনি একাকী সময় কাটান। 

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে কারাগার থেকে মুঠোফোনে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। আর তাঁর কথা বলার মধ্য দিয়েই বগুড়ায় চালু হলো স্বজনদের সঙ্গে কারাবন্দীদের ফোনে কথা বলার কার্যক্রম।

বৃহস্পতিবার সকালে বগুড়া জেলা কারাগারের জেল সুপারিনটেনডেন্ট মো: সাঈদ হোসেন বগুড়া কারাগারে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। ‘স্বজনের সাথে সংশোধনের পথে’ শ্লোগান কে সামনে নিয়ে টেলিফোনে কথা বলার এই কার্যক্রমের নামকরণ করা হয়েছে ‘স্বজন পরিবারের বন্ধন’। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জেলার মো: শরিফুল ইসলাম, ডেপুটি জেলার মিজানুর রহমান ও দিলিপ কুমার উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনের পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিসহ প্রায় ৩২ জন বন্দি তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ পান।

অনেক বন্দীদের পরিবারের সদস্যদের ইচ্ছে থাকলেও বৃদ্ধ মা ছেলেকে দেখতে আসতে পারেন না। এই কার্যক্রম চালু হওয়ায় দুলু কয়েদীসহ বহু বন্দীর স্ত্রী, সন্তান ও মা বাবা খুব খুশি। একইভাবে বগুড়া জেলার বাইরে থেকে আসা বন্দীরাও টেলিফোনে তাদের স্বজনদের সাথে কথা বলতে পারবেন।

জেলা কারাগার সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশনের (এটুআই) সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ড ও বাংলাদেশ জেলের সহায়তায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রমের আওতায় বন্দীরা কারাগারে আসার পর তাঁদের কাছ থেকে স্বজনদের দুটি মুঠোফোন নম্বর রাখা হবে।

একজন বন্দী প্রতি সপ্তাহে একবার ৫ মিনিট করে কথা বলার সুযোগ পাবেন। কথা বলার ক্ষেত্রে নারী, বৃদ্ধ ও বন্দীদের সঙ্গে আসা শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

সরেজমিনে বগুড়া কারাগারে গিয়ে দেখা গেছে, কারাগারের ভেতর একটি কক্ষে ফোন বুথ তৈরি করা হয়েছে। জেলার শরিফুল ইসলাম জানান, কোনো বন্দী বুথে গিয়ে সরাসরি কল করতে পারবেন না। নির্ধারিত সময়ে বন্দীরা বুথে ঢুকে এক বা দুই চাপলে সফটওয়্যার থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভীষ্ট নম্বরে সংযোগ পাওয়া যাবে। নির্ধারিত সময় ৫ মিনিট পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে কল কেটে যাবে।

সময় শেষ হওয়ার তিন মিনিট আগে সতর্কসূচক ‘বিপ’ হবে। নির্ধারিত সময়ের পূর্বে বা পরে কল ডায়াল হবে না। শুধু নির্ধারিত সময়েই কল করতে হবে। বন্দীদের স্বজনেরা নির্ধারিত সময়ে যাতে কথা বলার জন্য প্রস্তুত থাকতে পারেন, সে জন্য আগের দিন তাঁদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে সময় জানিয়ে দেওয়া হবে।

বগুড়া জেল সুপার মো: সাঈদ হোসেন জানান, বন্দীরা কারাগার থেকে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কথা বলতে পারলে তাঁদের পারিবারিক যোগাযোগ অক্ষুন্ন থাকবে। তিনি জানান, বন্দীদের মধ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী, জঙ্গি, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সদস্য এবং অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলায় অভিযুক্ত বন্দীরা ফোনে কথা বলার সুযোগ পাবেন না। নিরাপত্তার স্বার্থে বন্দীদের প্রতিটি কল রেকর্ড করা হবে।

এ ছাড়া বুথে সার্বক্ষণিক কারারক্ষী নিয়োজিত থাকবেন। তিনি আরও জানান, নির্ধারিত ৫ মিনিটের জন্য ৫ টাকা করে নেয়া হবে। পিসির মাধ্যমে বন্দীদের পরিবারের পক্ষ থেকে পাঠানো টাকা থেকে টেলিফোন বিল কেটে নেয়া হবে বলে তিনি জানান।