• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২০ ইং | ২৬শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৫ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

সকাল ৭:৩৩

ফুলবাড়ীতে সওজের শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে



অভিযোগ : ব্যক্তি মালিকানাধিন সম্পত্তির স্থাপনাসহ স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান চালানো

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রশস্তকরণের জন্য দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের সড়কের দুইপার্শ্বের সড়কের জায়গায় গড়ে ওঠা শতাধিক স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার ও গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দিনব্যাপী নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. ইমদাদুল হক শরিফের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের যূগ্ম-সচিব মো. মাহবুবুর রহমান, দিনাজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিতি কুমার চাকমাসহ সড়ক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। উচ্ছেদ অভিযানে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

উচ্ছেদ অভিযানে সড়কের পার্শ্বের সড়কের জায়গায় গড়ে ওঠা ব্যক্তি বিশেষের ঘরবাড়ী, দোকনপাট, শো-রুমসহ বিভিন্ন স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া হয়। ফুলবাড়ীস্থ ঢাকা মোড় থেকে ফায়ার সার্ভিস এলাকা পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এতে সড়কের জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো গুড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গায় গড়ে ওঠা স্থাপনাগুলোর যে পরিমাণ জায়গা সড়কের মধ্যে পড়েছিল সেগুলোও গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি পরিচ্ছন্ন হয়ে গেছে বড় ব্রিজের পশ্চিম পার্শ্বের কলেজ সংলগ্ন সড়কের দক্ষিণ প্রান্ত। সেখানে গড়ে ওঠা ছোটবড় সবগুলোই স্থাপনা গুড়িয়ে পার্শ্বের পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন! একই স্থানের সড়কের পার্শ্বের কাচা টিনসেডের বেড়াচালা গুড়িয়ে দেওয়া হলেও ওই টিনসেড সংলগ্ন এলাকার পাকা ইমারতগুলোর অবস্থা একই হলেও রহস্যজনকভাবে সেগুলোতে অভিযান চালানো হয়নি।

অপরদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে অন্তত সহস্রাধিক পরিবারের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। সড়কের জায়গার ওপর ছোটবড় স্থাপনা নির্মাণ করে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠান গুড়িয়ে দেওয়ায় এখন ব্যবসায়ী ও তাদের কর্মচারীরা বেকার হয়ে পড়েছেন। চিরতরে বন্ধ হয়ে গেলো আয়ের পথ।

স্থানীয় এক কলেজের সহকারী অধ্যাপক আলতাফ হোসেন স্বপন অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার গৌরীপাড়া মৌজার ৩০৯ ও ২১৬ দাগে এবং কানাহার মৌজার ২০৮ দাগের পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত জমির ওপর স্থাপনা গড়ে তুলে ৯জন ভাড়াটিয়া বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করে আসছিলেন। অতিতে ওই জমি সড়ক ও জনপথ বিভাগ কিংবা অন্য কেউ অধিগ্রহণ করেনি। বিয়ষটি একাধিকবার লিখিত আবেদনের মাধ্যমে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক, দিনাজপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে অধিগ্রহণের কাগজপত্রসহ সীমানা নির্ধারণ করার জন্য আবেদন করা হয়। কিন্তু কেউই অধিগ্রহণের কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এরপরও ওই দুই সীমানার জমিতে গড়ে তোলা বৈধ স্থাপনাগুলো অবৈধভাবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে দেড় কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতিসহ মানসিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সওজ যা করেছে, তার সবটাই গায়ের জোরে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে করেছে।

ফুলবাড়ীর শিল্পপ্রতিষ্ঠান মির্জা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব নূর আলম মিজা বলেন, ফকিরপাড়াস্থ সড়কের পার্শ্বে তার নিজস্ব জমিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। ওই জায়গায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সময় সড়ক ও জনপথ বিভাগের দিনাজপুরের কর্তাব্যক্তিদের সাথে সড়কের জায়গার সীমানা সম্পর্কে জেনে শেষ সীমানা থেকে দুই ফুট দূর প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে বলা হচ্ছে বতর্মানে আরো পাঁচ ফুট তার জায়গা অধিগ্রহণ করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এটা কেমন কথা। আমার জায়গা অধিগ্রহণ করা হলো। কিন্তু আমাকে এ বিষয়ে কোন কিছুই বলা হলো না। জমি অধিগ্রহণ করা হলে তার তো উপযুক্ত মূল্য দিতে হবে? এগুলোর কোন কিছুই করছে না সড়ক ও জনপথ বিভাগ। হঠ্যাৎ করে এসেই উচ্ছেদ অভিযান। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে সড়ক বিভাগ এক প্রকার গায়ের জোরেই উচ্ছেদ অভিযানের নামে মানুষের খরিদকৃত জমিজমা দখল করে নিচ্ছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের যূগ্ম-সচিব মো. মাহ-বুবুর রহমান ফারুকী উচ্ছেদ অভিযান সম্পর্কে বলেন, সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের জন্য সড়কের দুইপার্শ্বে জায়গার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সড়কপথকে নিরাপদক ও নিবিঘ্ন করতে সড়ক মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ দখলদারদের স্থাপনাগুলো গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অবৈধদখলদারকে জায়গা ছেড়ে যাওয়াসহ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য একাধিকবার নোটিশসহ মাইকিং করে জানানোর পরও তারা স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে স্থাপনাগুলো গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

দিনাজপুর জেলার মধ্যে দিনাজপুর থেকে ঘোড়াঘাট পর্যন্ত ১০৬ কিলোমিটার সড়কের দুই পার্শ্বের অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামীতে যাতে সড়কের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলতে না পারে সেজন্য উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।