• ঢাকা
  • সোমবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং | ১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৫ই মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

রাত ৪:০৩

প্রধানমন্ত্রীর ফলপ্রসু চীন সফর


মো: সাহেদ : চীন আমাদের পুরনো বন্ধু। সত্তর দশকের প্রথম দিকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চীনের সঙ্গে  সম্পর্কের সূচনা করেছিলেন। আজ তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেটা আরও বিকশিত করতে চান। ঢাকা-বেজিং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নয়টি চুক্তি স্বাক্ষর সেটিই প্রমান করে। তাই বলা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঁচদিনের চীন সফর ফলপ্রসূ হয়েছে।

বাংলাদেশের উন্নয়নে অন্যতম সহযোগী চীন। এ সম্পর্কের আরো বিস্তার চায় সরকার। আগামী এক থেকে দেড় দশকে চীন বাংলাদেশের জ্বালানি, বিদ্যুত ও যোগাযোগ খাতে ৫ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ করবে বলে আশা বাংলাদেশের। আমরা আশাকরি, চীন অচিরেই  বাংলাদেশের প্রধান বিনিয়োগকারী দেশে পরিণত হবে। বর্তমান সরকারের সময়ে বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্ক পৌঁছেছে গেছে অন্যমাত্রায়। বাংলাদেশের পদ্মা সেতুসহ বড় বড় স্থাপনা নির্মাণের কাজ করছে চীন। শেখ হাসিনা সরকারের অন্যতম কূটনৈতিক সাফল্য হলো একইসঙ্গে প্রতিবেশী দুই শক্তিশালী রাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা, যা অনেকটাই দুঃসাধ্য ছিল ।

বাংলাদেশ-চীনের নতুন মাত্রার এই সম্পর্ক শুধু বাংলাদেশের জন্যই গড়ে ওঠেনি, বরং নানা কারণে চীনেরও স্বার্থ রয়েছে বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা। এছাড়া দুই দেশের প্রধান নদীর তথ্য বিনিময় এবং সাংস্কৃতিক ও পর্যটন সংক্রান্ত বিষয়ে আদান প্রদানেও গতি আসবে। তবে এসবের পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হলো রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুতে চীনের সক্রিয় ভূমিকার আশ্বাস।

রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা হয়েছে এবং প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে চুক্তিও হয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হয়নি। মিয়ানমার সরকারের সদিচ্ছার ঘাটতি রয়েছে। রোহিঙ্গা ফিরাতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে হবে।তাদের  ন্যূনতম মৌলিক অধিকার প্রদান করতে হবে।এব্যাপারে চীনের ভুমিকা রয়েছে এবং চীনকে তা পালন করতে হবে।যদিও চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মিয়ানমারকে সম্মত করাতে চীন চেষ্টা করছে। আমরা মনে করি,এ সমস্যা মাধানে চীনের সক্রিয় ভূমিকা থাকলে  দেশ দুইটির মৈত্রী বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।