• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২১শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

সকাল ৬:৪২

প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজের দর ৯০ টাকা হতে পারে


ডেস্ক : ভারত পেঁয়াজ রপ্তানির সর্বনিম্ন মূল্য প্রায় তিন গুণ বাড়িয়ে টনপ্রতি ৮৫০ মার্কিন ডলার নির্ধারণের পর দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। নতুন রপ্তানি মূল্য কার্যকর করায় গতকাল শনিবার ভারত থেকে কোনো পেঁয়াজ আমদানি হয়নি। এরই মধ্যে স্থলবন্দরঘেঁষা পাইকারি ও খুচরা বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের দর বাড়তে শুরু করেছে। গতকাল হিলির পাইকারি বাজারে কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা ও খুচরা বাজারে বেড়েছে ১০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানির যে মূল্য নির্ধারণ করেছে, ওই দরে তা আমদানি হলে দেশের খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি দাম পড়বে ৯০ টাকার মতো।

ভারতের বাজারে দাম কমাতে গতকাল পেঁয়াজের সর্বনিম্ন রপ্তানি মূল্য আগের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বাড়িয়ে নির্ধারণ করেছে দেশটির সরকার। এত দিন বাংলাদেশের আমদানিকারকরা প্রতি টন পেঁয়াজ আমদানি করতেন ২৫০ থেকে ৩০০ ডলার দরে। মধ্যপ্রদেশ ও কর্ণাটকে পেঁয়াজ উৎপাদন কমে যাওয়া ও দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে দর বাড়ায় ভারত সরকার সর্বনিম্ন রপ্তানি মূল্য প্রতি টনে ৮৫০ ডলার নির্ধারণ করেছে। ফলে বাংলাদেশি আমদানিকারকদেরও ওই মূল্যে আমদানি করতে হবে, এমনকি আগে থেকে কম দরে খোলা এলসির (ঋণপত্র) বিপরীতে পেঁয়াজ সরবরাহ করাও বন্ধ করে দিয়েছে ভারত।

আমদানিকারক ও বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা জানান, ৮৫০ ডলার দরে আমদানি করলে প্রতি কেজি পেঁয়াজের আমদানি মূল্য পড়বে ৭২ টাকা ২৫ পয়সার মতো। প্রতি টন পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে বন্দরে ফি দিতে হয় ২ ডলার। এতে কেজিতে খরচ পড়বে আরও ১৭ পয়সা। দেশের বাজারে যখন পেঁয়াজের দর চড়া থাকে, তখন আমদানিকারকরা বন্দরেই পাইকারি বিক্রি করেন কেজিতে ২-৩ টাকা মুনাফায়। আমদানি মূল্য বেশি হলে মুনাফার পরিমাণও বাড়ান তারা। কেজিতে ৩ টাকা মুনাফা ধরলে প্রতি কেজির পাইকারি মূল্য দাঁড়ায় ৭৫ টাকার বেশি। হিলি স্থলবন্দর থেকে ঢাকা পর্যন্ত ১০ টনের ট্রাক ভাড়া ১৫ হাজার টাকা। এতে প্রতি কেজিতে খরচ আরও দেড় টাকা যোগ হয়ে দাঁড়াবে ৭৬ টাকার বেশি। এরপর খুচরা ব্যবসায়ী হয়ে ভোক্তার হাতে পৌঁছায়।

পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের মুনাফার পরিমাণ বা হার নির্ভর করে বাজার পরিস্থিতির ওপর। দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকলে তারা মুনাফা বাড়ান, কমার সম্ভাবনা থাকলে কম লাভেও বিক্রি করেন। তবে ঢাকার পাইকাররা কেজিতে সাধারণত ৩-৫ টাকা মুনাফা করে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। খুচরা ব্যবসায়ীরা বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী কেজিতে ৮-১০ টাকা মুনাফা করেন। তাতে নতুন দরে আমদানি করা পেঁয়াজ বিভিন্ন পর্যায়ে হাতবদল হয়ে খুচরা ক্রেতা পর্যন্ত পৌঁছাতে দাম ৯০ টাকার কাছাকাছি হতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।