• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২রা এপ্রিল, ২০২০ ইং | ১৯শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ৮ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

সকাল ১১:২৫

প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎ শিল্পীরা


রাউজান (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : সময়ে সাথে সাথে দুর্গা পূজা ঘনিয়ে আসায় প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চট্টগ্রাম রাউজানে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎ শিল্পীরা। হাতের ছোঁয়ায় পরিপূর্ণতার দিকে প্রতিমাগুলো। এ দুর্গা পূজা উৎসব ঘিরে রাউজানের ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা জুড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়েছে। রাউজানে সবচেয়ে বেশি মন্ডপে দুর্গাপূজা হয় বলে জানা যায়।

সরেজমিনে রাউজানে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রতিমার কাঠামো তৈরি শেষ, এখন চলছে সাজানোর কাজ। রং-তুলির আঁচড়ে দুর্গাকে দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় করে তুলছেন প্রতিমা তৈরি শিল্পীরা। এছাড়া নানা রঙিন শাড়ি দিয়ে চলছে সাজসজ্জার আয়োজন। শেষমুহুর্ত এখন রঙ-তুলির আঁচড়ে সাজানোর কাজ চলছে। গত বৃহস্পতিবার উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের পল্লী মঙ্গল সমিতির গৌরাঙ্গ বাড়ির মাঠে গিয়ে কথা হয় শরিয়তপুরের প্রতিমা শিল্পী অনিল পালের সঙ্গে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর ধরেই প্রতিমা তৈরী করে আসছেন তিনি। শুধু দুর্গাপূজা নয় বছরের অন্যান্য সময়ে স্বরস্বতি পূজাসহ বিভিন্ন পূজা-পার্বনে প্রতিমা তৈরীর অর্ডার আসে। বছর জুড়েই তিনি এই কাজে ব্যস্ত থাকেন। তাকে সহযোগিতা করেন তার দুই পুত্র সমল পাল ও অলক পাল। তিনি বলেন, এ বছর বড়-ছোট মিলিয়ে ৩৪ টি প্রতিমার অর্ডার পেয়েছেন তিনি। প্রকারভেদে তার তৈরীকৃত প্রতিমা সর্বোচ্চ ৩৭ হাজায় তিনি অর্ডার নিয়েছেন। বাকীগুলো ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে।

প্রতিমা শিল্পী অনিল পাল আক্ষেপ করে বলেন, এখন প্রতিমা তৈরী করতে খরচ অনেক বেড়ে যাওয়ায় তাদের সংসার চালাতে অনেক হিমশিম খেতে হয়।

তিনি বলেন, আগে আমরা কম টাকার অর্ডার নিয়েও পোষাতে পারতাম আর এখন কারিগরের বেতন, প্রতিমা তৈরীর আনুষাঙ্গিক খরচাদি বেড়ে যাওয়ায় তেমন একটা লাভ হয়না। একেকজন কারিগরের বেতন ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। দুর্গাপূজা মৌসুমে কারিগর ও হেলপার মিলে তার সাথে আটজন কাজ করেছেন। বর্তমানে শেষের দিকে কাজ কমে আসায় বর্তমানে ৪ জন কাজ করছেন।

জানা যায়, আগামী ৪ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে ৮ অক্টোবর রাউজানস্থ কেন্দ্রীয় গঙ্গা মন্দীরে বির্সজনের পরিসমাপ্তি হবে শারর্দীয় দুর্গোৎসবের। এ বছর রাউজান উপজেলায় ২৩১টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে বেশি দুর্গা পূজা উদযাপন হবে পূর্ব গুজরা ও পাহাড়তলী এই দুই ইউনিয়নে মোট ৪৮টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি নোয়াপাড়া ইউনিয়নে ১৬টি, বাগোয়ান ইউনিয়নে ১২, পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নে ১১ কদলপুর ইউনিয়নে ১২টি, গহিরা ইউনিয়নে ১৬টি, উরকিরচর ইউনিয়নে ১৫টি, বিনাজুরী ইউনিয়নে ১৪টি, নোয়াজিশপুর ইউনিয়নে ১৮টি, চিকদাইয় ইউনিয়নে ১৪টি, ডাবুয়া ইউনিয়নে ১৩টি, হলদিয়া ইউনিয়নে ১৭টি, এবং পৌরসভায় মোট ২৫টি পূজা মন্ডপে এবছর দুর্গা পূজা উদযাপন করা হবে বলে জানান দঃ রাউজান পূজা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ম্যালকম চক্রবর্তী।

তিনি আরো জানান অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আমরা আশা করি, গতবারের মতো এবারো সবাইকে নিয়ে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে সার্বজনীন এই উৎসব সফলভাবে সমাপ্ত হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোনায়েদ কবির সোহাগ বলেন, ‘বাংলাদেশের মধ্যে চট্টগ্রামের রাউজানে সবচেয়ে বেশি পূজামন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করা হয়। এ বছর রাউজানের ১৪ ইউনিয়নে ও পৌরসভার ২৩১টি পূজামন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করা হবে।

রাউজান থানার ওসি কেপায়েত উল্লাহ জানান, আগামী ০৪ অক্টোবর থেকে শুরু হবে সনাতন ধর্মীয় অনুসারীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গাপূজা। এ নিয়ে এলাকায় আনন্দ বয়ে যাচ্ছে। দুর্গোৎসবে নিরাপত্তা প্রদানের জন্য পুলিশ, আনসার বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত থাকবে।

ন/ক/র