• ঢাকা
  • সোমবার, ২১শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২১শে সফর, ১৪৪১ হিজরী

সকাল ১১:৫৭

প্রণয়িনী ।। ফখরুল হাসান


সদ্য বিধবা রুনার, কিছুদিন আগেই স্বামী মারা গেলো হার্ট এ্যাটাকে। জগৎ সংসারে সবকিছুর প্রতি নিরাশ হয়ে পরে রুনা। বিধবার অভিশাপটা বয়ে বেড়ানোর যন্ত্রণায় টিকতে পারছিলো না সে। চারপাশের পরিচিত মানুষদের কথাদ্ষূণে বেঁচে থাকার পরিবেশটাই পাল্টে যাচ্ছে। আজ কালকার গ্রামের সমাজ যা বুঝে, বিশেষ করে বাঙালি সমাজ, এই যেমন সমাজের মেয়েরা শুধু ঘরে কিংবা পর্দার আড়ালে বসে থাকবে। কোন পর পুরুষের সামনে যাবে না। কথা বলবে না। রাস্তা দিয়ে বোরখা পরে হাঁটতে হবে। অপরিচিত পুরুষকে দেখলে চেহারা লুকাতে হবে শাড়ি কিংবা ওড়নার আঁচলে। একটু এদিন সেদিক হলো তো এ বাড়ি থেকে ও বাড়ি এমন করে পুরো গ্রামে চাউর হবে মেয়েটির বদনাম। আর রুনা তো সদ্য বিধবা। হৃদয়ের গোপন দেয়ালে ফাটল ধরা দুঃসহ অতীত কাহিনিটা যখন চারপাশের মানুষ গুলো বারবার মনে করিয়ে দেয় অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে। মুহূর্তে ইচ্ছে করে দুনিয়াটা ছিড়ে ফুড়ে লণ্ড ভণ্ড করে ফেলতে। আমার জীবনের পুরোনো ঝড়ের তান্ডব লীলা যখন কেউ মনে করিয়ে দেয় অন্তর বেদনা ক্লিষ্ট হয়ে ফুটে ওঠে তখন এ জগৎ সংসার ছিন্নভিন্ন করে ফেলতে ইচ্ছে করে। আস্তে আস্তে নিজকে ঘুটিয়ে নিচ্ছিলো রুনা।

মাত্র ২১ বছর বয়সে বিয়ে। ২২ বছর বয়সে বিধবা! নিয়তির কী নিষ্ঠুর খেলা! অথচ রুনাকে প্রথম দেখেই বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে পাঠিয়েছিল সেলিম। মৌপুর গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছিল দুইজনের। সেদিন রুনার পরনে ছিলো নীল কালারের কারুকাজ করা কামিজ আর সালোয়ার, খোঁপায় গোঁজা ছিলো বকুল ফুলের মালা, হাত দুইটি মেহেদিতে টকটকে লাল, নাকে কাঁচের নীল ফুল আর কানে ডিজাইন করা নীল রঙের দুল! তাকে দেখে সেলিমের মনে ধরেছিল। রুনা যেন মৌপুর গ্রামের মৌচাকের মৌরানী। সরকারি চাকরি করা এমন জামাই তো হাত ছাড়া উচিত নয়। যদিও সেলিমের বয়স আর রুনার বয়সের ব্যবধান ছিলো ১৫ বছরের। তাতে কি পুরুষের কাছে তো টাকাটাই আসল। সেই টাকা-পয়সা যখন আছে তখন বয়সের বিচার করে কি আর লাভ। সেলিমকেও যে রুনার খুব খারাপ লেগেছে সে কথা হলফ করে বলতে পারবে না। রুনা যখন শুনেছিলো সেলিম তাকে পছন্দ করে। সেদিন সেও তো ঘুমাতে পারেনি। সারারাত বিছানার এপাশ-ওপাশ করেই কাটিয়ে দিয়েছিল। বিয়ের পরের জীবনে প্রতিটি মুহূর্তেই তাদের আনন্দ আব্দার আর আহ্লাদে কেটেছে। সারাদিনের কাজের শেষে দুজনের ক্লান্ত শরীর যখন বিছানায় এলিয়ে দিতো তখন আঙুলের কারুকাজে সেলিম মুগ্ধ করে রাখতো রুনাকে। রুনার কখনো মনেই হয়নি তাদের বয়সের পার্থক্য। পাঁচ আঙুলে যখন মাথার চুলের বেণী কাটতো তখন নিদ্রায় চোখ মুদিলেও শরীরে থাকতো অপার্থিব উন্মাদনা। সেই উন্মাদনার রেশ থাকতো রাত্রিজুড়ে। মাঝে মধ্যে মজা করে বলতো কি গো রুনা, বয়স্ক স্বামীর আদরে আবার বিরক্ত হচ্ছো নাতো। তখন আঙুল দিয়ে দুঠোট বন্ধ করে দিতো রুনা। আর বলতো, খবরদার আর এমন অমঙ্গলের কথা ভুলেও মুখে আনবে না, কথা দাও। আজ সে সব স্মৃতি হয়ে রুনাকে ক্ষত-বিক্ষত করছে সারাক্ষণ।

বিয়ের অল্প কিছুদিন পরেই মারা যায় সেলিম। অল্পবয়সে স্বামী মারা গেলে যতো দোষ যেনো স্ত্রীর। পাড়ায় কুটনি মহিলারা মুখের উপরেই বলে স্বামীর মাথা খাইছে রুনা। আবার কেউ কেউ বলে রুনার মুখ দেখলাম, ইশ্ আজ দিনটাই মাটি। কোনো কাজেই মঙ্গল হবে না। এসব শুনে ইচ্ছে করে নিজের জীবনটা নিজেই শেষ করে দিতে। তাতে কি আর লাভ হবে! স্বামী মৃত্যুর যন্ত্রণার চেয়ে স্বামীছাড়া একরাত থাকার কষ্টও যেনো অনেক বেশি। তাই তো সেলিমের মৃত্যুর পরপরই রুনার নামে শুরু হয় বদনাম! যেন সেলিমের মৃত্যুর জন্য রুনাই দায়ী। রুনার জন্য বুঝি অপেক্ষা করছে বাকি সময়টুকু বঞ্চনা আর লাঞ্ছনার অন্ধকার এক ভবিষ্যৎ।

কন্তিু না মানুষরে কথাদূষণে খুব বশেদিনি অন্ধকারে রাখতে পারবে না রুনাক।ে সে সদ্ধিান্ত নয়িেেছ চাকরি করব।ে চাকররি জন্য কয়কেটি অফেিস যোগাযোগ করে যাচ্ছে নয়িমতি। কন্তিু সমস্যা হচ্ছে নজিরে ভরাট শরীরটা নয়ি।েহরণি যমেন তার নজিরে মাংসরে জন্য শকিাররি কাছে লোভনীয় ঠকি তমেনি যেেনা রুনার সুন্দর চহোরাই তার কাছে বষিাক্ত। তবুও তার মনে জাের এই যে এই চহোরা দেিয় তাকে তা করতে হব।ে চাকররি  প্রধান যোগ্যতাই যনে তার শরীর। পঁয়ত্রশি বছর বয়সরে পুরুষ থেেক পঞ্চাশ বছররে পুরুষরে কামনার দৃষ্টি পরে রুনা দহে।ে অথচ এই পুরুষ গুলো হতে পারতো নর্ভিরতার প্রতীক। হতে পারতো ভাই, বন্ধু ও পতিা। কন্তিু পুরুষদরে বা কী দোষ! তার দেিক তাকালে য-েকোনো পুরুষরে চোখ প্রথমে স্থরি হবে তার সুডৌল বুকরে দকি,ে তারপর অর্পূব সুন্দর মুখরে দকি।ে প্রথম যদেনি ইন্টারভউি নচ্েিছ সইে দনি চরম বরিক্ত হয়ে ছলি রুনা। বসরে চাহনেিত ছলি কামনার আগুন। নজিেেক সদেনি নয়িন্ত্রণ করছেলি রুনা। ইচ্ছে হচ্ছলি খসেিয় একটা থাপ্পড় মারত।ে কন্তিু চাকরি টা খুব প্রয়োজন ছলি। তাই কামনার দৃষ্টরি তীর সহ্য করে ও ইন্টারভউি দেিয় ছলি। সমস্যা তখনই হলো কয়কে দনি চাকরি করার পর যখন বস তার রুমে ডেেক নেিয় বললো। ‘তুমি কত টাকা ইনকাম করতে চাও? আমি তোমাকে টাকার বালশি গফিট করবো। তুমি আরামে ঘুমাব।ে টাকার কোনো চন্তিা করতে না। আরে কষ্ট করে কাজ করে লাভ ক?ি তোমার মতো সুন্দরদিরে কাজ করতে হবে কনে? তোমার পেিছ পুরো শহর ঘোরপাক খাব।ে তুমি শুধু আমারে ৩০ মনিটি সময় দবিা। আমি তোমারে পুরো ৩০ দনিরে বতেন দেিয় দবে।’ তার পর আর চাকরি টা করা হলো না রুনার। এই পুরুষ গুলোই পড়াশোনা শষে কর,ে চাকুরী পাবার পর। বয়িরে জন্য মন চনমন করে উঠ,ে আত্মীয় স্বজনদরে কউে কউে হয়তো বলব,ে একটু ধর্যৈ ধর, ভাল আর সুশীলা রমণী সহজে কি এই সমাজে মলে?ে চাকরি পেেয় অফসিরে বস হয়ে বশেভিাগ পুরুষ, অফেিস কাজরে নামে অন্যরে স্ত্রী বা যৌবনা জুনয়ির এর সাথে র্কপোরটে ঘষাঘষি কর।ে তাদরে কাছে নারীর উপস্থিিত ইয়াবার মতো। প্রথমে একটা খলেইে পনিকি আস।ে পরে ২০-২৫টা খলেওে কাজ হয় না। ব্যাস! একসময় সইে নারীর প্রতি আর ফলিংিস কাজ করে না। সইে নারীকে তার ভালোবাসা-কে পানসে লাগ।ে একটার পর একটা সুন্দরী রমনী বদল করে টাকার জোর।ে স্থরি হতে পারে না কোনোটাতইে। জানা-শোনা মলোমশো শষে হলইে আর ভালো লাগে না তাক।ে বোরংি লাগ।ে কারণ, ডফিারন্টে টস্টে নতিইে ভালবাসা বা শারীরকি সর্ম্পকরে প্রয়োজন, দরকার নতুন কছিু। আগরে অনুভূতি গুলো হয়ে যায় মৃত। তখন র্বতমান হয়ে যায় এক্স। তারপর আবারও খোঁজা শুরু নতুন মুখ, অথচ এই পুরুষদরে কইে শুনতে বলি ময়েটেরি চরত্রিদোষ আছ।ে আহারে পুরুষ। এরাই আবার নজিরে বয়িরে জন্য খ্ুঁজে সতীসাবত্রিী! কোনকোন অফসি তো নারীকে কনজউিমার বশ্েিব পণ্য হসিাবইে উপস্থাপন কর।ে প্রত্যকেটা পণ্যরে গায়ে নারী। খাবার জনিসি থেেক শুরু করে খলোধূলা সবকছিুতইে অপ্রয়োজনীয়ভাবে নারীকে উপস্থিিত কর।ে এজন্য কছিু নারীরাও কম দায়ী নয়। পয়সার জন্য নজিেেক অশোভনভাবে পণ্য হসিেেব বকিেিয় দচ্েিছ কছিু নারী। চাকররি সুবাদে সুমনরে সাথে পরচিয় হয় রুনার, তাকে দখেইে ভালো লেেগ যায় সুমনরে! কন্তিু সুমনরে চোখে কোনদনি কামনার আগুন দখেিেন রুনা।অফিসের সকল কাছে সবসময় সহযোগিতা করেছে সুমন। ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্কটা গভীর থেকে আরো গভীরে পৌঁছে যায়। নিজের অজান্তেই সুমনকে একান্ত করে পাবার বাসনা জাগে মনে। তাই, রুনা যেন সেই আগের উচ্ছল তরুণী হয়ে গেছে। রুনার মুখ দেখলে মনে হবে কচি শসা। গোলাপের পাপড়ি যেন ঢেউ খেলে যাচ্ছে তার সারা দেহে। এখন সুমনের স্পর্শে রুনা প্রজাপতির মতো ডানা মেলে উড়তে চায়। রুনার কৃষ্ণপক্ষের আঁধার ঘরে। অমাবর্ষার চাঁদ হয়ে মনের জানালার ফাঁক দিয়ে ডুকে আলোয় ঝলমল করে সুমন নামের চাঁদ। সুমনও অফিস শেষে প্রায় রাতেই রুনাকে বাড়ি পৌঁছে দেয়।

আজ সকাল বেলা অফিস থেকে ফোন এসেছে! সকাল মানে সকাল ৭টা! বুধবার কোম্পানির চট্টগ্রামে নতুন ব্রাঞ্চের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে একটা জরুরী মিটিং ডেকেছে। মঙ্গলবার সকালে দুদিনের জন্য চট্টগ্রাম চলে যেতে হবে। সুমনকে তা জানাতেই ফোন! তার কাজে অফিস কর্তৃপক্ষ খুশি হয়ে নতুন ব্রাঞ্চের দায়িত্ব দিলো। ফোনটা রেখেই ভাবছে রুনার কথা, তাকে সাথে করে চট্টগ্রাম নিয়ে যেতে পারলে অফিসের পর, সময়টুকু নিজেদের মতো কাটানো যেত। তিন চার দিন রুনার সঙ্গ পাওয়া, রুনাকে কাছে পাওয়া যেত। রুনারও ইচ্ছে তাই। সে একবার তাকে প্রস্তাব দিয়েছিল। দূরে কোথাও দু’জনে যেতে। সেদিন দুষ্টুমি করে বলে ছিলো দিনে ডেটিং। আর রাতে তোমার সাথে নিশ্চিন্তে বিছানায় মিটিং! তবে দুষ্টুমিটাই কী আজ সত্যি হতে যাচ্ছে! মোবাইল হাতে নিয়ে রুনাকে কল দিলো সুমন । কল বেজেই যাচ্ছে কিন্তু রিসিভ হচ্ছে না! মনে হয় রুনা গভীর ঘুমে অচেতন। কিছুক্ষণ পর আবার কল দিলো।

‘হ্যালো ‘               

‘হ্যালো’

‘তোমার ঘুম ভাঙলো তাহলে?’

‘হ্যাঁ কেনো কোন সমস্যা?’

‘না’

‘তাহলে এতো সকালে কল দিলা যে?’

‘কল দিয়েছি আমার বিয়ের দাওয়াত দিতে।’

‘আরে ধ্যাত বলো না’

‘আমি মঙ্গলবার চট্টগ্রাম যাচ্ছি ‘

‘বলো কী!’

‘হ্যাঁ সত্যি বলছি’

‘ওয়াও আমিও যাবো তোমার সাথে!’

‘হুম, সেজন্য তো কল করা!’

‘তাই!’

‘হ্যাঁ তাই।’

‘তুমি কি ছুটি নিতে পারবে?’

‘পারবো, নিতে হবে তোমার সাথে যেতে। তাছাড়া আমিতো জয়েন্ট করার পর কখনো ছুটি নিইনি।’

‘তাহলে অফিস থেকে ছুটি নিয়ে আমাকে জানাও।’

‘ওকে জানাচ্ছি’

‘ওকে,বাই।’

‘বাই’

রুনার জন্য অপেক্ষা করছে সুমন। সে পাঁচ মিনিটের মধ্যে একটা কুচকুচে কালো শাড়ি পরে বেরিয়ে এলো। সুমনের পূর্ব অভিজ্ঞতা বলে কোন নারীকে এত তাড়াতাড়ি সাজতে দেখিনি সে কখনো। ধপধপে সাদা শরীরের সঙ্গে কালো শাড়িটা মানিয়েছে দারুণ। যেন চিত্রকর্মের পশ্চাৎপট। রুনা ব্যাকগ্রাউন্ডে ভেনাস। শুধু ভেনাসের মত ন্যুড নয়, কালো শাড়িতে আবৃত তার দেহ। সাদা মেরুন ব্রার স্ট্রাপ তার ধপধপে কাঁধে চেপ্টে আছে। ঠিক স্ট্রাপের পাশেই একটা কালো তিল, সাদা পাতায় কলমের একবিন্দু ফোঁটা যেন। রুনার শরতের মেঘের মত হাতে আলতো কালো চুলের রেখা। রেখাটা ঠিক যেখানে সেখানেই ব্লাউজের হাতা। হাতাটা যেন কেটে বসেছে মাংসে। যা দেখার মত সিনই বটে। রুনার ব্লাউজের দরজা দিয়ে উত্তাল কৌতূহল নিয়ে চেয়েছিল ওর ডাগর বুক দুটো। সুমনের চোখ দুটো পথ হারিয়েছিল ওর বুকের আলোআঁধারি গলিতে। খুব ইচ্ছে করছিল ব্লাউজের নিষেধ সরিয়ে উদ্দাম ঢেউ ভাঙতে। রুনার হাতের ইশারায় তার ধ্যান কাটে। হাতের ইশারায় বললো সুমন আমি রেডি। বাসা থেকে বেরুনোর সময়ই আচ করেছিলো, মিলন দূরে নয়। গরম বাতাস ছড়িয়ে পড়ছিল সুমনের নিঃশ্বাসে। কিন্তু কে গাইবে প্রথম মিলনের সুর। লজ্জা জড়িয়েছিল দুটো মনে। শরীর অস্থির হচ্ছিল মিলনে।

 এখন কর্ণফুলীর মাথা বেয়ে সন্ধ্যা গড়িয়ে নেমেছে ঘাসে ঘাসে। বকেদের শেষসারি ঘরে ফিরে গেছে একটু আগেই। দু একটা শেয়াল ডেকেছে এদিক সেদিক থেকে। বুঝাই যাচ্ছে  চট্টগ্রাম শহরে এসে গেছে তারা । কোম্পানি সুমনকে, পুরো প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর বানিয়ে পাঠিয়েছে। এসেই অফিসের কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলো। এখন কতটা সময় বের করতে পারবো সন্দেহ আছে। রুনাও তাকে কিছু জিজ্ঞেস করার সুযোগ পাচ্ছে না। অফিসের কাজের প্রচন্ড চাপ। শুধুমাত্র রাতটুকুই দুইজন দুজনাকে কাছে পায়। রাতটুকু বললে ভুল হবে। কারণ দুইজন দুই রুমে। বাহিরের পৃথিবী দেখা হচ্ছে না। রাতে বিছানা যেন তাদের ভ্রমন করার জায়গা! এ-কদিন ধরে অফিসের কাজের চাপে রুনাকে ঠিকমত সময় দিতে পারেনি। সেদিন হারিয়ে গিয়েছিলো পলাশ-শিমূল কৃষ্ণচূড়ায় মাখামাখি হয়ে। ধূলাবালি মাড়িয়ে পায়ে পায়ে প্রেম গড়িয়ে। সারা শরীরজুড়ে জেগেছিল সেদিন মাতাল বাতাস। সারা মনজুড়ে উড়েছিল কয়েক হাজার হরিয়াল। ইচ্ছে করছিল রুনা রুনা করে চিৎকার করতে। সেদিন রাতে প্রথম স্বপ্নদোষ হল সুমনের। রুনার সঙ্গে মিলিত হলো স্বপ্নে। স্বপ্নে  বেড়াতে গিয়েছিলো অচেনা অজানা হলদে পাতা জঙ্গলে। ছোট্ট একটা পাহাড়ের উপর গাছের ভিড়ে শরীর লুকিয়ে গল্প করছিলো দুজন। সুমনের কোলে মাথা দিয়ে শুয়েছিল রুনা। অদূরে নানান পাখির পরিচিত অপরিচিত সুর।

সুমনের ঘুম ভেঙে যায় ভোর ৫ টায়। ঘুম থেকে উঠে, এমন একটা স্বপ্ন দেখে হেসে উঠলো। কাল শুক্রবার অফিসের কাজ নেই। তবুও ঘুম ভেঙে গেলো! পরেরদিন সকালে হোটেলের ম্যানেজার জানালেন একটি রুম খালি হয়েছে।  মনে মনে খুশি হলো। রুনাকে জানালো রুম পাওয়া গেছে। রুনা বললো তাহলে আর আলাদা রুমে কেন? রুমটা এক্ষুনি নিয়ে নাও। সে আশ্চর্য হলাম রুনার কথায়।

ভেবেছিলো হয়েতো সে আলাদা থাকতে চাইবে। কিন্তু সব ধারণা ভুল প্রমাণ করলো রুনা! তারা নতুন রুমে উঠলো। সকালের নাস্তা শেষ করে রুনা রেডি হবার জন্য টেবিল থেকে উঠে যায়। রুনা ওর দুহাত উঠিয়ে মাথার চুল বাধার ছলে সুমনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইলো। দীর্ঘ সময় নিয়ে চুল গুলো বেধে চলছে।  রুনার চুল বাধা বুঝি আর শেষ হবে না, সুমন অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলো। ওর শরিরের সামনের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে কোথায় যেন হারিয়ে গেলো। রুনাকে তাড়া দিলো ও শুধু বললো অপেক্ষা করো, যা চাও তার সবই আমার জানা আছে, তবে সময় তো দিতে হবে নাকি? সুমন কিছুই  বুঝলো না । এই কথায় কি কোন প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত ছিল…

সুমন আজ ভোর ৫ টায় উঠে পড়লো ঘুম থেকে। কাল শুক্রবার অফিসের কাজ নেই। তবুও ঘুম ভেঙে গেলো! পাশে হাতড়ে দেখলো রুনা নেই! সকালের রোদ সোনাঝুরি পাতা গড়িয়ে টুপটাপ ঝরে পড়ছে ঘাসের উপর। সকালের রোদ যেন মন কামনার সব দরজাগুলো খুলে দিয়েছে আজ। রুনার বুকে জমে থাকা মেঘ গুনতে গুনতে হারিয়ে যাচ্ছে প্রেমে ভিজে থাকা সময়ে। টুকরো টুকরো কথার মালা দু’কানে ভিড় করে আসছে। সকালে দু’চুমুক চা খাওয়ার পর সবে সিগারেটে একটা টান দিয়েছি হঠাৎ দেখে তার মুখোমুখি রুনা দাঁড়িয়ে। রূমের বাইরে এসে দেখে কেউই ওঠেনি। আহ! ভোরের স্নিগ্ধ বাতাস, কতদিন গায়ে মাখিনি। খুব ইচ্ছে করলো ছাদে উঠে বাতাস লাগাতে। উঠেও গেলো ছাদে। ছাদে উঠে ব্ঝুতে পারলো ছাদ সেরকম ব্যবহার হয় না। হয়তো কেউ বেড়াতে এলেই ব্যবহার হয়। এমনিতেও কয়েকটা জলের ট্যাংক ছাড়া কিছু নেই সেখানে। ছাদে উঠতেই ভোরের স্নিগ্ধ বাতাস গায়ে এসে লাগলো। চাকরির বাহিরে ওর যে একটা পৃথিবীর আছে! সেটা আজকে অনুভব করলো প্রথম যেনো। রিংকির চলে যাবার পর। নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে ছিলো। সেখান থেকে আর বের হয়ে আসতে পারেনি । কিন্তু তাকে  নতুন করে নতুন ভাবে বাঁচতে শিখিয়েছে রুনা। সমুদ্রের ধারে এসে দেখলো সমুদ্রের পারে রিংকির ছেলে একটা ফুটবল নিয়ে খেলা করছে। আর রিংকি ছেলের পাশে পাশে হেঁটে বেড়াচ্ছে। রিংকি একটা থ্রী কোয়াটার ব্লু জিন্স পড়েছে আর স্লীভলেস সাদা টপ। ওর খোলা চুলগুলো সমুদ্রের হাওয়াতে এলোমেলো ভাবে উড়ছে। বীচ এ সেরকম ভিড় নেই। তাদের রিসোর্টটা একটু অফবিট এবং আসে পাশে ঝাউবন থাকার দরুণ খুব বেশি লোকজন নেই। যারা আছে তারাও বেশ দূরেই নিজেদের মতো স্নান করছে। সুমন ওদের একটু কাছাকাছি আসতেই রিংকি খেয়াল করলো তাকে। বলল

‘একা? আর সব কোথায়?’

‘আসছে সবাই। আর আমি তো একাই।’

‘হুম, সেতো দেখলাম।’

‘কি দেখলে?’

‘শ্রাবণ শ্রাবণ’ বলে ডাকছে এক মধ্যে এক বয়সী পুরুষ। বুঝতে বাকি রইল না। এটা রিংকির স্বামী।

রিংকির মুখটা একটু রাঙা হয়ে উঠলো।  কথার কোনো উত্তর দিলো না। ওর খোলা চুল ওর মুখের ওপর এসে এসে পড়ছে আর ও হাত দিয়ে চুল ঠিক করছে। স্লীভলেস পড়ার দরুন ওর চুল ঠিক করার সময় ওর ফর্সা বগল টা দেখা যাচ্ছিলো। মাখনের মতো মসৃন। যেন তেল চুয়ে পড়ছে।

রিংকি খেয়াল করলো যে সুমনের নজর ওর দিকে। ও এবার দুটো হাত তুলে অনেকটা সময় নিয়ে ওর মাথার ওপর চুলটা বাঁধতে লাগলো।  এক দৃষ্টিতে দেখে যাচ্ছে ওকে। ওর ভরাট বুক আর ফর্সা পা দেখতে দেখতে মনে হচ্ছে মৎস্য কুমারী উঠে এসেছে জল থেকে বিচে। অবচেতন মনে জেগে ওঠে কামনা। ইচ্ছে করছিলো ওর কোমর ধরে টেনে এনে ওর শরীরে মুখ ঘষতে শুরু করতে । কিন্তু কি আর করা। সেটা তো এখন  সম্ভব না। সে এখন  অন্য কারো ঘরণী।

 দূরে রুনাকে দেখা যাচ্ছে, এদিকে চলে আসলে তককে রিংকির সাথে এরকম ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলে কিছু মনে করতে পারে। এই ভেবে সে ওর ছেলের সাথে বল নিয়ে খেলতে শুরু করলো। ওর ছেলের সাথে খেলতে খেলতে রিংকির আসে পাশেই গোল গোল করে ঘুরতে লাগলো।

সুমনের কাজিনদের মধ্যে রিংকি বেশ সুন্দরী। বিয়ের আগে রিংকির অনেক ভালো ভালো বিয়ের প্রোপজাল আসতো। রিংকি আনুমানিক  ৫ ফিট ৫ ইঞ্চি লম্বা, গায়ের রঙ উজ্জ্বল ফর্সা। আর শরীরের গঠনও বেশ ভাল। শরীরের বাকগুলো যেনো ছেলেদের মাথায় কামনার আগুন ধরাতো। যে কেউ অনায়াসে ভুলে যেতো ধ্যানের কথাও। তাই তো পাড়ার সব বয়সি ছেলেরা পাগল ছিল রিংকির জন্যে। রিংকির বাবা হঠাৎ করেই রিংকির বিয়ে ঠিক করে ফেলেন এক বিসিএস ক্যাডার ছেলের সাথে। পাত্রের বয়স একটু বেশি, ৩৬। আর রিংকির ২০ বছরের পরিপক্ক এক তরুণী। ১৬ বছরের গ্যাপ খুব একটা বড় সমস্যা হয়ে দাড়াঁল না রিংকির পরিবারের কাছে। কিন্তু কিংরির ঐ বিয়েতে একদম মত ছিল না। ভাগ্য নাকি নিয়তি রিংকির বিয়ে হয়ে যায় সেই বিসিএস ক্যাডার ছেলের সাথে। রিংকির হ্যাসবেন্ড সাজ্জাদ সাহেব খুব ভালো মানুষ। সাজ্জাদ সাহবে এখন বগুড়া জেলার জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে আছেন। তবে তাঁর সমস্যা একটাই অল্প বয়সী সুন্দরী বউকে কারণে- অকারণে সন্দেহ করা। বিয়ের পরের বছর রিংকির কোল জুড়ে আসে ফুটফুটে একটি ছেলে সন্তান। দেখতে দেখতে ছেলেটা বড় হয়ে যায়। এখন সে ক্লাস দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। সুমনের মাথায় ঘুরছে মানুষ কখনো কখনো নারীদের জন্য এলোমেলো হয়ে যায় আবার পথ হারা পথিকও ফিরে পায় পথের দিশা। শুধু নারীদের কারণেই। এই নারীদের জন্যেই কতো রাজ্য হারিয়েছে শাসক, কতো রাজ্য হয়েছে ধ্বংস, এই মুহূর্তে মাথায় এসবই খেলছে সুমনের। মনে মনে সেই

তিন হাজার বছরেরও আগের কথাও ভাবছে। মাত্র একজন নারীকে উদ্ধার করতে এজিয়ান সাগর পাড়ি দিল এক হাজার জাহাজ। তখনও দুনিয়ার সেরা সুন্দরী হিসেবে তাকেই মনে করা হতো। যদিও এই সৌন্দর্যের কারণেই সুখী হতে পারেননি তিনি। তার জন্য ট্রয়ের যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ দিল হাজার হাজার যোদ্ধা। ধুলোয় মিশে গেলো সুখী ও সমৃ্দ্িধশালী একটি জনপদ-ট্রয়। সেই তিনি হচ্ছেন হেলেন।

ক্ষণিকের জন্যে ভাবনার জগত থেকে মুক্তি পেতেই আবার ভাছে তুমি না হয় আমার হেলেন হলে রুনা। তোমার জন্য কী আমি এই সমাজের মানুষদের সাথে যুদ্ধ করে বাঁচতে পারবো না, অবশ্যই পারবো। আমাকে পারতেই হবে। আমি তোমার জন্য ভেঙে ফেলতে চাই অন্ধ সমাজের গোঁড়ামি। মনে মনে বলেই ধীরে ধীরে হাঁটছে সুমন।  হঠাৎ কানে এল হালকা গানের শব্দ। প্রথমে ভাবলো মনের ভুল, কিন্তু না, আবারো আসছে। মনে হচ্ছে রুনার গলা। আসছে কোথা থেকে। বুক ঢিপঢিপ করতে লাগলো সুমনের। জলের ট্যাঙ্কের দিকে এগিয়ে গেল সুমন। সাতসকালে সুমনের চোখ দুটি ঝলসে গেল ! রুনা প্রায় অর্ধনগ্ন, পাতলা হাউসকোট গায়ে, রুনার পড়নে শুধু হাফ প্যান্ট। সুমনের মাথায় আগুন ধরে গেল রুনাকে দেখে। জলের ট্যাঙ্কে হেলান দিয়ে পরম স্নেহে রুনার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আর ‘ ঠোঁটে ঠোঁটে রেখে পাখি যেভাবে তার বাচ্চাদের আদার খাওয়ায় সেভাবে ঠোঁট রেখে। দুহাতে রুনার গলা জড়িয়ে ধরে জোড়ে চাপ দিয়ে সুমনের বুকের সাথে রুনাকে মিলিয়ে নিলো। হাউসকোটের ভেতরে থাকা তুলতুলে নরম মাংসদ্বয় যেন দুইজন মিশে যাবার মাঝে বাঁধা সৃষ্টি করছে!

‘সুমন কি করছো?’

‘কেউ তো এসে পরতে পারে।’

বলে সুমনের বাহু থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো রুনা।

সুমন হাতছানি দিয়ে রুনাকে কাছে ডাকলো।

‘কেউ আসবে না।’ দেখবেও না!’

গত তিনরাত ধরে বিছানায় আমার রুনা আমাকে যে কি চরম সুখ দিচ্ছে তা বলার নয়,

তুমি এসো, বলে সুমন তার কোলে তুলে নিলো রুনাকে। তারপর সুমনের মাথার চুলে রুনার আঙুল দিয়ে বিলি কেটে বললো,

‘অনেক হয়েছে।’

রাতে বিছানায় সুমনের সাথে যা ঘটেছে তা ভেবে ভোরের আলোয় রুনা ইতস্তত করতে লাগলো দেখে রুনাকে ধরে টেনে সুমন তার বুকে জড়িয়ে ধরলো।

‘আমাকে ছাড়ো তাড়াতাড়ি।’

সবাই উঠে পড়বে বলে রুনা ট্যাঙ্কে হেলান দিয়ে হেলে গেল একটু। সুমন রুনার সামনে বসে রুনার ঠোঁটে মুখে গালে চুমুর পর চুমু দিয়ে যাচ্ছে। রুনাও মিষ্টি করে হাসলো সুমনের দিকে তাকিয়ে।

‘অসভ্য ছেলে’

রাতে এতবার আদর দিলাম তাও আবার সকাল সকাল!

‘রাক্ষস একটা।’

বলে লজ্জায় সুমনের বুকে মুখে লুকিয়েছে রুনা।

দূরে কাদের যেন কোলাহল। ছোটাছুটি। কিন্তু আমার ক্ষমতা নেই রুনার গভীরতা পেরিয়ে আসার। আরও আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরছি আমি ওকে। আমি আরও আরও গভীরে হারিয়ে যাচ্ছি।

ন/ক/র