• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২০শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

দুপুর ১:৩৮

পাহাড়-ঝর্ণার সৌন্দর্য্য দেখতে চাইলে ঘুরে আসুন ‘খাগড়াছড়ি’


:: নুরুল আলম :: (পর্ব ২)

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি :

পানছড়ি অরন্য কুটির ও রাবার ড্যামঃ খাগড়াছড়ি জেলা থেকে ২৫ কিমি উত্তরে, পানছড়ি সদর উপজেলা থেকে ৫ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত শান্তিপুর অরন্য কুটির। এই কুটিরে প্রবেশ মুহুর্তে চোখে পড়বে নয়নাভিরাম ৪৮.৫ ফুট উচ্চতার বৃহৎ বৌদ্ধ মূর্তি। যা মুহুর্তেই অভিভুত করবে যে কাউকে। মূল মূর্তিটি ৪২ ফিট উচু এবং বেদিটি ৬.৫ ফিট উচু। সবনিয়ে মূর্তিটি ৪৮.৫ ফিট উচু। এই বৌদ্ধ মুর্তি দেখার জন্য প্রতিদিন এইখানে ভীড় করে শত শত পর্যটক। পানছড়ি অরন্য কুটির থেকে ৩ কি.মি. আগে রয়েছে একটি রাবার ড্যাম। এটি অরন্য কুটির যাওয়ার পথেই পড়বে। ২০০৪ সালে প্রায় ১.৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এই বৌদ্ধমূর্তি নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৬৫ একর জায়গা নিয়ে শান্তিপুর অরণ্যকুটির অবস্থিত।

খাগড়াছড়ি শহড়ের চেঙ্গি স্কোয়ার থেকে সিএনজি নিয়ে সরাসরি অরণ্যকুটির যাওয়া যায়। আপ-ডাউন ভাড়া ৮শত টাকা পড়বে। মেইন রোড থেকে ৩ কি.মি. ভিতরে পাহাড়ের উপর অরণ্যকুটির। যাওয়ার পথে চেঙ্গি নদীর উপর নির্মিত রাবার ড্যাম দেখা যাবে।

তৈদুছড়া ঝর্ণাঃ বাংলাদেশের যে কয়েকটি নয়নাভিরাম ঝর্ণা রয়েছে তার মধ্যে তৈদুছড়া ১ ও ২ অন্যতম। খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলায় সবুজ পাহাড় আর বুনো জঙ্গলের মাঝে অবস্থিত নয়নাভিরাম ঝর্ণা দুটির নাম তৈদুছড়া ঝর্ণা। খাগড়াছড়ি থেকে তৈদুছড়া ২ ভাবে যাওয়া যায়। একটি দীঘিনালা হয়ে এবং অন্যটি সীমানা পাড়া দিয়ে। সীমানা পাড়া দিয়ে গেলে সময় অনেক বেঁচে যাবে কারন ট্র্যাকিং অনেক কম করতে হবে।

সীমানা পাড়া হয়ে গেলেঃ খাগড়াছড়ি শহড়ের শাপলা মোড় থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে নয় মাইল নামক স্থানে নামতে হবে। দীঘিনালাগামী যে কোন বাসে করে অথবা সিএনজি নিয়ে নয় মাইল যাওয়া যাবে। সেখান থেকে ৩/৪ কি.মি. হেটে সীমানা পাড়া যেতে হবে। এছাড়াও যে কেউ চাইলে শাপলা মোড় থেকে চাঁদের গাড়ী সীমানা পাড়া পর্যন্ত আপ-ডাউন ভাড়া করে নিতে পারেন। গাড়ী আপ-ডাউন ভাড়া পড়বে প্রায় ১৮শত/২ হাজার টাকা। সকাল ৭ টায় রওনা হলে বিকাল ৪ টার মধ্যে খাগড়াছড়ি ফিরে আসতে পারবেন। সীমানা পাড়া থেকে গাইড ঠিক করে তাকে নিয়ে তৈদুছড়ার পথে হাটতে হবে। প্রায় ১ ঘন্টা ৪৫ মিনিট হাটার পর প্রথমে পড়বে তৈদুছড়া ঝর্ণা – ২ (উপরের ঝর্ণা) এবং সেখান থেকে ১ ঘন্টার পথ তৈদুছড়া ঝর্ণা – ১ (নিচেরঝর্ণা)।

দীঘিনালা হয়ে গেলেঃ বাসে করে খাগড়াছড়ি শহড়ের শাপলা মোড় থেকে ২৪ কি.মি. দূরে দীঘিনালা বাস স্টপেজে যেতে হবে। সেখান থেকে দীঘিনালা বাজার গিয়ে গাইড ঠিক করে নিতে হবে। তারপর জামতলি নামক জায়গা থেকে ট্র্যাকিং শুরু করতে হবে। ঝিরিপথ, উচু নিচু পাহাড় পার হয়ে প্রায় ৩ ঘন্টা হাটার পর তৈদুছড়া ঝর্ণা – ১ (নিচেরঝর্ণা) পড়বে এবং সেখান থেকে ১ ঘন্টার পথ তৈদুছড়া ঝর্ণা – ২ (উপরের ঝর্ণা)। গাইড খরচ পড়বে ৩০০/৫০০ টাকা। দীঘিনালা হয়ে গেলে যেহেতু সময় বেশী লাগবে তাই একটু তাড়াতাড়ি বের হতে হবে।

এছাড়াও খাগড়াছড়ি তে আরো যেসব দর্শনীয় স্থান রয়েছে তার মধ্যে উলে¬খযোগ্য হচ্ছে- শহড়ের মধ্যে ইয়োংড বৌদ্ধ বিহার, নিউজিল্যান্ড, জেলা পরিষদ পার্ক ও ঝুলন্ত সেতু, খাগড়াছড়ি চার্চ, মং রাজার বাড়ি, লক্ষী-নারায়ন মন্দির, পাহাড়ী কৃষি গবেষনা কেন্দ্র, দিঘীনালা মানিকক্যের দিঘী, দিঘীনালা রিজার্ভ ফরেষ্ট, হাজাছড়া ঝর্ণা, মহালছড়ি হৃদ, ভগবান টিলা, দুই টিলা ও তিন টিলা, রামগড় লেক ও টি গার্ডেন, মানিকছড়ি মং রাজার বাড়ি ইত্যাদি।