ঢাকা শুক্রবার, ১৯শে জুলাই, ২০১৯ ইং | ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

সন্ধ্যা ৬:৪৫
সম্পাদকের কলামসম্পাদকের কলাম টপ

পাহাড়ধস বন্ধ করতে টেকসই পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে

মো: সাহেদ : আমাদের দেশে মূলত বর্ষা মৌসুমে  পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। বেশি বৃষ্টির ফলে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে পাহাড়ধস ঘটে। এবারও বড় ধরনরে পাহাড়ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাহাড়ধস মূলত চট্টগ্রাম, সিলেট, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ঘটে। মানুষই এর জন্য দাযী। বিভিন্ন সময়ে পার্বত্য এলাকায় পাহাড় কাটা হয় অপরিকল্পিতভাবে। রোহিঙ্গারা আসার পর এর তীব্রতা আরো্ বেড়েছে। মানুষের এই অপরিণামদর্শী কাজের ফলও মানুষকেই ভোগ করতে হচ্ছে।

 জানা যায়, এক সপ্তাহ ধরে সেখানে ভারী বর্ষণ চলছে। যে কোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে পাহাড়ধসের ও প্রাণহানির ঘটনা। স্বেচ্ছায় না সরলে অভিযানের মাধ্যমে স্থানীয়দের সরানো হবে বলে হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। প্রশাসনের এ তৎপরতাকে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু কেবলমাত্র শেষ মুহূর্তে এসে  দেখানোটা যথেষ্ট নয়, প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডে আরো মনোযোগ দেয়া উচিত। যেহেতু পাহাড়ধস  মানবসৃষ্ট  একটি দুর্যোগ, সেহেতু এর  রোধে আগেই পদক্ষেপ নেয়া দরকার। ইচ্ছমত পাহাড় কাটা এবং পাহাড়ে গাছপালা ধ্বংস করা বন্ধ করতে হবে।

উন্নত দেশের মতো পাহাড়ের ভেতর দিয়ে  টানেল করে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। মোটকথা যে কোনোভাবেই হোক, পাহাড়ধস বন্ধ করতে হবে । কারন এর ফলে প্রতিবছর অনেক লোকের প্রানহানি ঘটে। ২০০৭ সালের ১১জুন ভয়াবহ পাহাড় ধসে ১২৭ জনের মৃত্যু হয়। এরপর ২০১১ সালের ১ জুলাই বাটালি হিলের প্রতিরক্ষা-দেওয়াল ধসে নিহত হয় ১৭ জন। ২০১২ সালের ২৬ জুন পাহাড়ধসে প্রাণ হারায় ১৮ জন। ২০১৭ সালে ১২০ জনের মৃত্যু ঘটে। সড়ক জনপথ বিভাগের তথ্যানুসারে, ২০১৮ সালে রাঙ্গামাটি জেলায় প্রায় ১২৮টি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে।এতে নিহত হয়  জন। ২০০৭ সালের পাহাড়ধসের ঘটনার পর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারকে প্রধান করে গঠিত হয় ‘পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি’। কিন্তু সে কমিটিও কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।এরপরও  আমরা আশা করতে চাই, সরকার পাহাড়ধস বন্ধ করতে  টেকসই পদক্ষেপ হাতে নিবে।