• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৮ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৩শে সফর, ১৪৪১ হিজরী

সকাল ৮:৪৪

পাকিস্তানে যে গ্রামে হিন্দুরা আয়োজন করেন ইফতার, মুসলিমরা করেন না গরু হত্যা


মৌলবাদী বা সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের কথা উঠলেই পাকিস্তানের নাম সবার আগে আসে। বিশ্বের প্রায় সমস্ত দেশই পাকিস্তানকে ‘‌জঙ্গিদের আস্তাকুঁড়’‌ বলে থাকে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগকে মিথ্যা বলে একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। জঙ্গি আক্রমণ ও সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনা বা তাঁদের জোর করে ধর্মান্তরিত করার ঘটনাও সামনে এসেছে প্রচুর। তবে সেই পাকিস্তানেই এমন একটি গ্রাম আছে যার গল্প রূপকথার চেয়ে কম কিছু নয়।

জানা গেছে, ওই গ্রামের নাম মিঠি। করাচি থেকে ২৭৮ কিলোমিটার দূরে সুন্দর মরুভূমি এলাকায় অবস্থিত গ্রামটি। ১৯৯০ সালে গ্রামটিকে থারপারকর জেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এই গ্রামের ৮০ শতাংশ মানুষ হিন্দু। হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ এই গ্রামে মুসলিমরা সংখ্যালঘু। পাকিস্তান গঠনের পর থেকেই এখানে হিন্দু মুসলিম দুই সম্প্রদায়ই একসঙ্গে থাকে। মুসলিমরা হিন্দুদের ধর্ম রক্ষার খাতিরে গরু হত্যা করে না। আবার হিন্দুরাও মুসলিম ধর্মের কথা ভেবে রমজান মাসে বিয়ের অনুষ্ঠান রাখেন না। আবার রমজান মাসে ইফতারের আয়োজন করে থাকেন হিন্দুরাই। ঈদ বা দীপাবলি সমস্ত ধর্মীয় অনুষ্ঠানেই দুই সম্প্রদায় সমানভাবে অংশগ্রহণ করে।

গোটা পাকিস্তান দেশটির বিচারে, মিঠি গ্রামে অপরাধের সংখ্যা সবচেয়ে কম। দুই শতাংশেরও নিচে। পাকিস্তান জন্মের পর থেকে এই গ্রামে আজ পর্যন্ত ধর্মীয় হানাহানির ঘটনা ঘটেনি। সীমান্তে অশান্তি তৈরিতে মদত বা প্রতিবেশী দেশে হামলা চালানোর পেছনে পাকিস্তানের নামই আগে উঠে আসে। সেই দেশের আরেকটি পরিচয় হল এই মিঠি গ্রাম।