• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং | ২রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৭ই মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

রাত ৮:১৮

পরীক্ষায় ফেল করার ভয় দেখিয়ে ৫ ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ


লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: খাতায় নাম্বার বেশি ও পরীক্ষায় ফেল করে দেয়ার ভয়ভীতি
দেখিয়ে ৫ শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুর কারিগরি প্রশিক্ষন কেন্দ্রের শিক্ষক লিটন চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই শিক্ষার্থীরা। ঘটনা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিট গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ।

এসব বিষয়ে বাড়াবাড়ি না করতে অভিভাবকদের নানাভাবে চাপ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মাহাবুবুর রশিদ তালুকদার। ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষক লিটন চন্দ্র সরকারকে ছুটিতে পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অভিভাবক,শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অভিযোগ সূত্রে ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, লক্ষ্মীপুর কারিগরি প্রশিক্ষন কেন্দ্রের সিনিয়র শিক্ষক লিটন চন্দ্র সরকার। দীর্ঘদিন ধরে ৯ম-১০ম (ভোকেশনাল) শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানের সামনের এ ঘরে প্রাইভেট পড়াতেন তিনি। এ সুযোগে প্রায়ই শিক্ষার্থীদেরকে যৌন নিপীড়ন করতো বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ৯ম শ্রেনীর ৫ শিক্ষার্থীকে আলাদাভাবে ওই ঘরে যৌন নিপীড়ন করে শিক্ষক লিটন চন্দ্র সরকার। অভিযুক্ত শিক্ষক লিটন চন্দ্র সরকারের বিচার চেয়ে ২১ আগষ্ট অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয় ওই শিক্ষার্থীরা। এর পরের দিন প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ মো. মির্জা ফিরোজ হাসানকে প্রধান করে তিন সদস্য একটি তদন্ত কমিট গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্য হলেন, প্রতিষ্ঠানের চীফ ইনস্ট্রাক্টর মো. আরিফুর রহমান ও লাভলী ত্রিপুরা।

উক্ত কমিটি আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার কথা রয়েছে। ঘটনার পর থেকে ভেঙ্গে পড়েছে ওই শিক্ষার্থীরা। ছেড়ে দিয়েছে লেখাপড়া ও খাওয়া-দাওয়া। ইতিমধ্যে তিন শিক্ষার্থী অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন। দ্রুত অভিযুক্ত শিক্ষকের
বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী স্থানীয় এলাকাবাসীর।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানায়, অভিযুক্ত শিক্ষক লিটন চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে
ব্যবস্থা না নিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দিতে তাকে ছুটিতে পাঠিয়ে দেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মাহাবুবুর রশিদ তালুকদার বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীদের পরিবার ও স্থানীয়রা। উল্টো অধ্যক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষক লিটন চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে আনীত লিখিত অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

এর আগে ও এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শামীম হোসেন ও আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে শিক্ষাথীদের সাথে যৌন কেলেংকারীর অভিযোগ থাকলেও তখনকার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও বতমানে প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ মির্জা ফিরোজ হাসান কোন ব্যবস্থা না নিয়ে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যেতে দেয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। একের পর এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠায় শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের মধ্যে দেখা দিয়েছেন উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা। দ্রুত শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবী অভিভাবকদের।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক লিটন চন্দ্র ঘটনাটি অস্বীকার করে জানান, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ ও তদন্ত কমিটির কোন সদস্য ক্যামেরার সামনে কথা না বলতে চাইলেও প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্ত চলছে। খুব শীঘ্র প্রতিবেদন দেয়া হবে। তবে অভিযোগ তুলে নিতে কোন চাপ দেয়া হচ্ছেনা বলে জানান প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ মির্জা ফিরোজ হাসান।

এদিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুর রিদোয়ান আরমান শাকিল জানান, কারিগরি প্রশিক্ষন কেন্দ্রের ৫শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার প্রমান পেলে শাস্তি পেতে হবে ওই শিক্ষককে বলে জানিয়েছেন তিনি।