• ঢাকা
  • সোমবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং | ১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৫ই মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

রাত ১:৫৮

নয়নের বাসায় মিলল মিন্নির ব্যবহৃত জিনিস!


বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হ’ত্যা মামলার ১ নম্বর সাক্ষী ও নি’হত ব্যক্তির স্ত্রী’ আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রে’প্তার দেখানোর পর বুধবার দুপুরে আ’দালতে হাজির করে পু’লিশ। মঙ্গলবার মিন্নিকে প্রায় ১২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর পু’লিশ এই মামলায় জড়িত থাকার অ’ভিযোগ এনে তাঁকে রাত সাড়ে নয়টার দিকে তাঁকে গ্রে’প্তারের ঘোষণা দেয়। বরগুনার পু’লিশ সুপার (এসপি) মো. মা’রুফ হোসেন সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেন।

পু’লিশ জানায়, মিন্নিকে এই মামলায় গ্রে’প্তার দেখানোর পর বুধবার দুপুরের আ’দালতে হাজির করে। আ’দালতে হাজির করে পু’লিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করবে। মিন্নিকে আ’দালতে তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরগুনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবির সকালে এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তবে কত দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে চাননি।

রাতে মিন্নিকে গ্রে’প্তারের ঘোষণা দেওয়ার সময় এসপি মা’রুফ হোসেন বলেন, মামলার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন ও সুষ্ঠু তদন্তের জন্য এ মামলার ১ নম্বর সাক্ষী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে (২০) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পু’লিশ লাইনসে আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ এবং তথ্যাদি পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে এই হ’ত্যাকা’ণ্ডের সঙ্গে মিন্নির সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ মেলে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মিন্নিকে গ্রে’প্তার করা হয়।

এদিকে রিফাত হ’ত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী’ যে জড়িত থাকতে পারে তা সিসি টিভি ফুটেজ দেখেই অনেকটা নিশ্চিত হয়েছিল পু’লিশ। তবে খুব একটা প্রমান না থাকায় গ্রে’ফতার করতে পারেনি। তবে পরবর্তীতে পু’লিশের গো’পন তথ্যের ভত্তিতে তাকে গ্রে’ফতার করা হয়। অ’পরদিকে নয়নের মা প্রথম দিকে মুখ না খুললেও পড়ে মিন্নির বিপক্ষে কথা বলেন এবং পু’লিশকে তার বাড়ি তল্লা’শি করতে সহায়তা করেন।

আর সেই তল্লা’শি চালাতে গিয়েই নয়নের বাড়িতে পাওয়া গেছে মিন্নির ব্যবহিত কিছু জিনিস। নয়নের মা আরও বলেন যে মিন্নিকে রিফাত কলেজে নামিয়ে দিয়ে যাওয়ার পর মিন্নি কলেজে না গিয়ে নয়নের বাড়িতে চলে আসতো। গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে কু‌‌’পিয়ে হ’ত্যা করা হয়। হ’ত্যাকা’ণ্ডের পরের দিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম শরীফ বরগুনা থানায় ১২ জনকে আ’সামি করে একটি মামলা করেন। এ ছাড়া সন্দেহভাজন অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আ’সামি করা হয়।

এ মামলার প্রধান আ’সামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড ২ জুলাই পু’লিশের সঙ্গে ব’ন্দুকযু’দ্ধে নি’হত হন। মামলার এজাহারভুক্ত ছয় আ’সামিসহ গতকাল পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রে’প্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ জন আ’দালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার ২ নম্বর আ’সামি রিফাত ফরাজীসহ বাকি তিন আ’সামি এখনো রিমান্ডে আছেন। তবে এই মামলার অন্যতম আ’সামি রিশান ফরাজীসহ বাকি পাঁচ আ’সামি এখনো গ্রে’প্তার হননি।

এদিকে ১৩ জুলাই রাতে রিফাত শরীফ হ’ত্যাকা’ণ্ডের প্রায় ১৮ দিন পর রিফাতের বাবা বরগুনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে মিন্নির গ্রে’প্তার দাবি করেন। রিফাতের বাবার অ’ভিযোগের ফলে আলোচিত এই হ’ত্যা মামলা নাটকীয় মোড় নেয়। পরের দিন ১৪ জুলাই মিন্নির গ্রে’প্তারের দাবিতে বরগুনা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন হয়। ওই মানববন্ধনে রিফাতের বাবা ছাড়াও বরগুনা জে’লা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ও স্থানীয় সাংসদের ছেলে সুনাম দেবনাথ বক্তব্য দেন।

১৪ জুলাইয়ের এই মানববন্ধনের পর দুপুরে মিন্নি তাঁর বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি অ’ভিযোগ করেন, যারা বরগুনায় ‘বন্ড ০০৭’ নামে স’ন্ত্রাসী গ্রুপ সৃষ্টি করিয়েছিলেন, তারা খুবই ক্ষমতাবান ও বিত্তশালী। এই ক্ষমতাবানেরা বিচারের আওতা থেকে দূরে থাকা এবং এই হ’ত্যা মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য তাঁর শ্বশুরকে চাপ দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করিয়েছেন। এরপর ১৬ জুলাই মিন্নিকে পু’লিশ লাইনসে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে নিয়ে গ্রে’প্তার করা হয়।

এদিকে মিন্নিকে গ্রে’প্তারের ঘটনায় বরগুনার বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে এ ঘটনায় পু’লিশ বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান। আবার অনেকে বলছেন, এ ঘটনার মধ্য দিয়ে মামলা’টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা উচিত।