• ঢাকা
  • সোমবার, ২১শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২১শে সফর, ১৪৪১ হিজরী

সকাল ৮:১৭

ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে


মো: সাহেদ : এবার বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে ।   প্রকৃতি ও আবহাওয়ার আনুকূল্য এবং  আবাদি জমির পরিমাণ বৃদ্ধির  কারনে ফলন আশাতীত হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এজন্য সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদ পাবে সরকার।কারন কৃষকরা বীজ, সার, সেচসহ সবরকম সরকারী প্রণোদনা পেয়েছেন যথাসময়ে। তবে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করাই হবে সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

শুধু দেশের গণমাধ্যম থেকে নয় আর্ন্তজাতিক গণমাধ্যম থেকেও আমরা জানতে পেরেছি, বিগত   ১০ বছরের মধ্যে ধানের এত ভাল ফলন আর হয়নি।যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএ চলতি মাসে বিশ্বের দানাদার খাদ্যের বৈশ্বিক উৎপাদন পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল । তাতে দেখা গেছে, গত এক বছরে বাংলাদেশে চালের উৎপাদন বেড়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। এ বছর উৎপাদন হতে পারে ৩ কোটি ৫৩ লাখ টন চাল।  অনুকূল আবহাওয়াসহ কৃষক সরকারী আনুকূল্যে ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় বেড়েছে উৎপাদন, যা বিশ্বের প্রধান ধান উৎপাদনবকারী দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। এত বিপুল ধান-চালের উৎপাদনের কারণে মাঠ পর্যায়ের কৃষক থেকে শুরু করে চাতাল মালিক ও চালের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ধান-চালের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়েও একটি শঙ্কা রয়ে গেছে। তবে আশার কথা হলো সরকার বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবছে।

প্রায় সব মৌসুমে আমরা দেখেছি, সরকার তথা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নানামুখী আন্তরিক উদ্যোগ সত্ত্বেও দেশের কৃষক প্রায়ই ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। কেননা সরকার ধান-চালের সংগ্রহ মূল্য বেঁধে দিলেও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের লোকজন কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান-চাল কেনে না। বরং তাদের সমধিক আগ্রহ মধ্যস্বত্বভোগী ও চাতাল মালিকদের কাছ থেকে ধান-চাল কেনায়। দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে বাধ্য হয়ে বিক্রি করে মধ্যস্বত্বভোগী ও চাতালের মালিক এবং মোকামে। ফলে সরকার ধান-চালের নির্ধারিত সংগ্রহ মূল্যও তারা পান না কখনই।

 দেশে ধান-পাট, ফলমূল, শাক-সবজি, তরিতরকারি, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, চা, চামড়া ইত্যাদির উৎপাদন বাড়লেও ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনার কারণে কৃষক ও উৎপাদকারীরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয় । এটি সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক যে, স্বাধীনতার ৪৮ বছর হতে চললেও অদ্যাবধি আমরা একটি সমন্বিত ও আধুনিক কৃষিপণ্য বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারিনি। ফলে একদিকে উৎপাদিত ফসল ও পণ্যদ্রব্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন কৃষক, অন্যদিকে সেসব পণ্য উচ্চমূল্যে কিনতে হয় ভোক্তা তথা ক্রেতাসাধারণকে।

বিশ্বে চাল উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। উন্নতমানের প্রযুক্তি, বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক ইত্যাদি ব্যবহার করে এই উৎপাদন আরও বাড়ানো যায়। এর পাশাপাশি নজর দেয়া উচিত বিভিন্ন ও বহুমুখী খাদ্যশস্য উৎপাদন এবং সংরক্ষণে। সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো সব মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা। ব্যবসায়ীদেরও উচিত হবে জনসাধারণ এবং সরকারকে জিম্মি না করে, বরং আস্থায় নিয়েই ব্যবসা করা।

মোটকথা কৃষকরা যাতে ন্যায্য মূল্য পায় তা নিশ্চিত করাই হবে এই সরকারের অন্যতম প্রধান কাজ।