• ঢাকা
  • সোমবার, ২১শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২১শে সফর, ১৪৪১ হিজরী

সকাল ৮:৩৫

নোয়াবের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি ডিইউজের


নতুন কাগজ ডেস্ক : সংবাদপত্রে কর্মরত সাংবাদিক শ্রমিক ও কর্মচারিদের জন্য ঘোষিত নবম ওয়েজ বোর্ড পুনঃ পর্যালোচনা এবং এ নিয়ে নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) বারবার দেয়া নানা ধরণের অনৈতিক- অসঙ্গত ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)।
সংগঠনের সভাপতি আবু জাফর সূর্য ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী মঙ্গলবার (০১ অক্টোবর ২০১৯) এক বিবৃতিতে এ দাবি জানিয়ে বলেন, নবম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ডের সুপারিশকে পাশ কাটিয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভা কমিটি যে সুপারিশ করেছে তা সাংবাদিক সমাজকে মর্মাহত করেছে। সাংবাদিকরা মনে করে এর ফলে তাদের চিরাচরিত অধিকারের জায়গাটিতে অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশে সাংবাদিক-শ্রমিক-কর্মচারিেেদর ২টি গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রে একটি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য ও আইনানুগ নয়। কোনো আইনেই প্রচলিত বা পূর্বঘোষিত কোনো সুবিধাদি কর্তন করা যায় না। কিন্তু মন্ত্রিসভা কমিটি নবম ওয়েজবোর্ডে সাংবাদিক-শ্রমিক-কর্মচারিদের ২টি গ্র্যাচুইটিকে ১টি করার সুপারিশ করেছে। ফলে দীর্ঘদিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা সংবাদিক ও সংবাদকর্মীরা তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হবেন। যা সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের ক্ষুব্দ করে তুলেছে।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, সরকারি বা অন্যান্য পেশার চেয়ে ভিন্নতর ও বিশেষায়িত একটি পেশা হলো সাংবাদিকতা। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সাংবাদিকরা গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় এবং সমাজের অসঙ্গতি ও সমস্যা-সঙ্কট নিরসনে জাগ্রত প্রহরী। বিনিময়ে তাদের প্রাপ্তি নিতান্তই কম। সরকারি কর্মচারিসহ অন্যান্য পেশায় কর্মরতরা চাকরি শেষে পেনশনসহ জীবনভর নানা ধরণের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। কিন্তু সাংবাদিকরা তা পান না। সে কারণে সংবাদপত্রে কর্মরতদের জন্য ২টি গ্র্যাচুইটির বিধান রাখা হয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশে তা কমিয়ে আনায় সাংবাদিক-শ্রমিক-কর্মচারিদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশে সাংবাদিক-শ্রমিক-কর্মচারিদের আয়কর প্রদানের বিষয়টিতে বলা হয়েছে, মালিকপক্ষ নয়, সাংবাদিক-শ্রমিক-কর্মচারিরা নিজ নিজ আয়কর প্রদান করবেন। সংবাদপত্র মালিকদের করা মামলায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মরত সাংবাদিক-শ্রমিক-কর্মচারিদের আয়কর মালিকদের বহন করার কথা। নবম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ডের সুপারিশেও তা বহাল রাখা হয়। সেটিকে আমলে না নিয়ে মন্ত্রিসভা কমিটি এ সুপারিশ কেন করলো তা সাংবাদিক সমাজের কাছে স্পষ্ট নয়। এটি কি মালিকদের ভুল নির্দেশনার জন্য, না কি সরকারের সঙ্গে বিচার বিভাগের দূরত্ব সৃষ্টির অপপ্রয়াস তা বিবেচনার দাবি রাখে।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন সাংবাদিকবান্ধব নেতা। তিনি সাংবাদিকদের জন্য নিজ উদ্যোগে কল্যাণ তহবিল গঠন করেছিলেন। শেখ হাসিনাই সে তহবিলকে ট্রাস্ট হিসেবে রূপ দিয়ে স্থায়ী ব্যবস্থা করে দেন সাংবাদিকদের জন্য। তার বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষায় অগ্রণী ছিলেন সবসময়। জাতির পিতা তাঁর সময়কালে নিউজপেপার্স এসপ্লয়িজ সার্ভিসেস অ্যান্ড কন্ডিশন অ্যাক্ট-১৯৭৪-এর মাধ্যমে সংবাদপত্রে কর্মরতদের অধিকার ও মর্যাদা যেভাবে সুরক্ষিত করেছিলেন তা আজো শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে সাংবাদিক সমাজ। কিন্তু নবম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ডের (ওয়েজবোর্ড) সুপারিশের ব্যত্যয় ঘটিয়ে মন্ত্রিসভা কমিটি সাংবাদিক-শ্রমিক-কর্মচারিদের হতাশ করেছেন।
নবম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড কর্তৃক দাখিলকৃত পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ কাটছাট করে কেন প্রকাশ করা হয়েছে সেটিও স্পষ্ট নয়। নবম ওয়েজবোর্ডের প্রকাশিত গেজেটে কমিটির নাম না রাখা, কমিটিতে আলোচ্য বিষয়গুলো অন্তর্ভূক্ত না করার পেছনে কোনো মহলের বিশেষ কোনো ইঙ্গিত রয়েছে কীনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এর আগে সব ওয়েজবোর্ডের গেজেটে কমিটির পূর্ণাঙ্গ নামসহ আলোচ্য বিষয়াবলী, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার সারসংক্ষেপ বা উত্থাপিত দাবি-দাওয়াসমূহ অন্তর্ভূক্ত করা হতো, এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। এর পেছনে কি কারণ রয়েছে সেটি প্রকাশ হওয়া দরকার।
বিবৃতিতে ডিইউজে সভাপতি আবু জাফর সূর্য ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সংবাদপত্র শিল্পে নতুন সঙ্কট তৈরি করছে মালিকদের সংগঠন নোয়াব। তারা সরকারি মহলকে বিভ্রান্ত করে সাংবাদিক-শ্রমিক-কর্মচারিদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করার সর্বোচ্চ ষড়যন্ত্র করছেন। নবম ওয়েজ বোর্ড গঠনের পর থেকে নোয়াব কমিটির বিভিন্ন কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছে। সরকার মহার্ঘ্য ভাতা ঘোষণা করলেও নোয়াব নেতারা সেটি প্রত্যাখ্যান করে আইন অমান্যের পাশাপাশি সাংবাদিক-শ্রমিক-কর্মচারিদের ন্যায্য পাওনা হরণের মতো অপরাধ করেছেন। তাছাড়া বিভিন্ন সময়ে অযৌক্তিক বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক-শ্রমিক-কর্মচারিদের হেয় করার অপচেষ্টা যেমন করছেন, তেমনি সরকারী মহলসহ সংশ্লিষ্টদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। যা কোনোভাবেই নোয়াবের মতো একটি সংগঠনের কাছ থেকে আশা করা যায় না।
বিবৃতিতে নেতারা দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা নবম ওয়েজবোর্ডে স্বাক্ষর করে গেজেট প্রকাশ ত্বরান্বিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। একইসঙ্গে ঘোষিত নবম ওয়েজবোর্ড অবিলম্বে পর্যালোচনা করার জোর দাবি জানান। তারা বলেন, সাংবাদিকবান্ধব রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পিতার মতোই সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের বিষয়ে সংবেদনশীল। এই পরিস্থিতিতে মালিকদের স্বার্থরক্ষার ওয়েজবোর্ড ঘোষণা সংবাদপত্রে কর্মরতদের মাঝে হতাশার জন্ম দিয়েছে। এ হতাশা থেকে মুক্তির জন্য সাংবাদিক সমাজ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
নেতারা নবম ওয়েজবোর্ড নিয়ে বার বার নানা ধরণের অনৈতিক-অসঙ্গত ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সাংবাদিক-শ্রমিক-কর্মচারিদের ন্যায্য পাওনাবঞ্চিত করার অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান নোয়াবকে। তারা বলেন, একদিকে সরকার ঘোষিত মহার্ঘ্য ভাতা না দিয়ে মালিকপক্ষ অপরাধ করেছেন, অন্যদিকে সাংবাদিকদের বঞ্চিত করার নীলনকশা বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নেতারা এ ধরনের ষড়যন্ত্র বন্ধে নোয়াব সদস্যদের আহবান জানিয়ে বলেন, ‘সাংবাদিক ছাড়া সংবাদপত্র অস্তিত্বহীন’ মাননীয় আদালত কর্তৃক এমন অভিমত দেয়ার পরে মালিকদের সংগঠন কোন মুখে সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা বিনষ্টের জন্য ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন?
বিবৃতিতে ডিইউজে নেতারা অবিলম্বে নবম ওয়েজবোর্ডের অসঙ্গতিগুলো দুর করার জন্য সরকারের প্রতি এবং সাংবাদিক সমাজকে হেয় করার প্রবৃত্তি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সংবাদপত্র মালিকদের তথা নোয়াবের প্রতি আহবান জানান। নতুবা ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সাংবাদিক-শ্রমিক-কর্মচারিরা কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিলে তার জন্য তারা দায়ি থাকবেন বলে উল্লেখ করেন।

নতুন কাগজ/আরকে