• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১২ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৭শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৩ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

রাত ৪:৫৫

নোয়াখালীতে ঘূর্ণিঝড় ফণির তান্ডব, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে জেহান


নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালী সদর সুবর্ণচরে ঘূর্ণিঝড় ফণির তান্ডবে শতাধিক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। গত শুক্রবার রাতে ঘূর্ণিঝড় ফণির আঘাতে শতাধিক ঘরবাড়ি উড়ে যায়। এতে ১৫ জন আহত হয়ে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন । শনিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দেখতে যান নোয়াখালী ০৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী,জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস,পুলিশ সুপার ইলিয়াছ শরীফ।

এদিকে, রোববার সকালে নোয়াখালী সদরের ৭নং ধর্মপুর ইউনিয়নের পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজ-খবর নিতে ছুটে যান নোয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক,বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক সামছুদ্দিন জেহান। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তিনি তাদের খোঁজ-খবর নেন । এসময় তিনি তাদের মাঝে নগদ অর্থ প্রদান করেন ।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণির আঘাতে বাসস্থানহারা পরিবারগুলোর খোঁজ-খবর নিতে ইতোমধ্যে ছুটে এসেছেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এমপি এবং তিনি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বাড়িঘর তৈরি করে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়ে গেছেন। তিনি আরো বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণির নিষ্ঠুর তান্ডব নিজের চোখে দেখলাম। গরীব অসহায় মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল কেড়ে নিলো ফণি। আমি আমার সাধ্যমত সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছি। আমি সবসময় গরীব,দুঃখী মানুষের পাশে ছিলাম এবং থাকবো।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড় ফণি যেখান দিয়ে গেছে সেখান দিয়েই সর্বনাশ করে গেছে। এসময় মানুষের ঘরের চালের টিন গাছের ডগায় কিংবা বিদ্যুতের খুটির সাথে ঝুলে থাকতে দেখা যায় । ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর চোখের পানিতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই চোখে মুখে চিন্তার ভাঁজ। মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু কেড়ে নিল সর্বনাশা ঘূর্ণিঝড় ফণি। কোথায় গিয়ে থাকবে তারা সব পরিবারের যে একই দশা।

স্থানীয়রা বলেন, রাত সাড়ে দশটার দিকে হঠাৎ করে ঘূর্ণিঝড় ফণি ধেয়ে আসে। মুহূর্তের মধ্যেই সবকিছু লন্ডভন্ড করে দিয়ে যায় আমাদের। আমরা কোথায় থাকবো,কি করবো,কার কাছে যাবো কিছুই বুঝতে পারছি না।

ধর্মপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর সাবু বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে এমপি মহোদয়ের কাছে জমা দেয়ার জন্য তিনি নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। আমরা সেই অনুযায়ী দ্রুত তালিকা করছি। জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামছুদ্দিন জেহান ভাই এসে যথাসাধ্য সহযোগিতা করে গেছেন।

ধর্মপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বলেন,ফণি আঘাত হানার পর রাত থেকেই এমপি মহোদয়ের নির্দেশনায় আমরা মাঠে রয়েছি। সকালে তিনি এসে পরিদর্শন করে গেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের খাওয়ানোর জন্য ব্যবস্থা করে দিয়ে যান। এরপর জেহান ভাই এসে প্রত্যেকটি পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করেন। ওনার মতো কেউ এভাবে প্রত্যেকটি পরিবারের খোঁজ নিয়ে সহযোগিতা করেননি।