• ঢাকা
  • সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২০ ইং | ২২শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী

বিকাল ৩:০১

নিজ দেশেই গালি খেয়েছেন জিদানের ঢুস খাওয়া তারকা


সেদিন বাইশ জনের খেলাটা যেন নির্ধারিত হয়েছিল শুধু দুজনের কর্মকাণ্ডে। ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান, আর ইতালির মার্কো মাতেরাজ্জি। নির্ধারিত সময়ে এই দুজনের গোলেই সমতায় ছিল ২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা দুই দল। পরে অতিরিক্ত সময়ে আবারও মঞ্চে সেই একই দুজন। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত এক ঘটনার জন্ম দেন তারা। মাতেরাজ্জির এক কথায় মেজাজ হারিয়ে ইতালীয় তারকাকে ঢুস মেরে ফেলে দেন জিনেদিন জিদান। মাঠ থেকে ড্রেসিংরুমে ফেরার পথটা এর আগে কখনো এত দীর্ঘ লাগেনি ম্যাচের মহাগুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলকে দশজনের বানিয়ে যাওয়া জিদানের কাছে।

জিদানকে হুট করে হারানোর ধাক্কা সেদিন সামলে উঠতে পারেনি ফ্রান্স। বিশ্বকাপ জিতেছিল মাতেরাজ্জির ইতালিই। তবে বিশ্বকাপ জিতলেও দেশে ফিরে নায়কোচিত কোনো সংবর্ধনা যে তাঁর কপালে জোটেনি, এত দিন পর সে কথাই জানালেন ইন্টার মিলানে খেলা সাবেক এই ডিফেন্ডার।

সেদিন ম্যাচ শেষে জানা গিয়েছিল, জিদানের বোনকে নিয়ে মুখ খারাপ করেছিলেন মাতেরাজ্জি। যেটা নিতে পারেননি জিদান। গোটা ম্যাচে মাতেরাজ্জি জিদানকে উত্ত্যক্ত করে গেলেও রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই তারকা তেমন পাত্তা দেননি। তাই শেষমেশ মোক্ষম চালটা চালেন মাতেরাজ্জি। জিদানের বোনকে নিয়ে খারাপ কথা বলে বসেন। ব্যস, আর যায় কোথায়! সরাসরি মাতেরাজ্জির বুকে ঢুস দিয়ে বসেন জিদান।

ব্যাপারটা যথেষ্ট স্পর্শকাতর। অনেক ইতালীয় তাই বিশ্বকাপ জিতলেও মাতেরাজ্জির এই আচরণ মেনে নিতে পারেননি। সেটা বোঝা গেছে মাতেরাজ্জির কথাতেই, ‘ফ্রান্সের লোকেরা যেভাবে জিদানকে আগলে রেখেছে সে ঘটনার পর, আমি আমার দেশের মানুষদের কাছ থেকে তেমন ব্যবহার পাইনি। উল্টো তাঁরা আমার সমালোচনা করেছে, গালাগাল করেছে। যদিও আমি তাঁদের আসল ইতালিয়ান বলে মনে করি না।’

মাতেরাজ্জির চোখে তিনিই সাচ্চা দেশপ্রেমিক, ‘আমি দেশপ্রেমিক। আমি সব সময় ইতালির পতাকার রং বুকে ধারণ করি, পতাকার সম্মান রাখতে জানি। তবে নিজ দেশের মানুষের সমালোচনা শুনে অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম। অথচ তাঁদের উচিত ছিল আমি যে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাই সে রাস্তায় চুমো খাওয়া, কেননা আমার গোলেই সে ম্যাচে ইতালি সমতায় ফিরেছিল।’