• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৮ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৩শে সফর, ১৪৪১ হিজরী

সন্ধ্যা ৬:২৯

‘নালিশ বিএনপির দেউলিয়াত্বের প্রমাণ’


নতুন কাগজ ডেস্ক: তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, মানুষ রাজনীতি করে জনগণের জন্য। যদি তাদের কোনো ওজর আপত্তি থাকে সেটা নালিশ দেবে জনগণকে। কিন্তু বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে গিয়ে ঘনঘন নালিশ দিচ্ছে। এটার মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বই প্রকাশ পায়।
বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ-ভারত নজরুল সম্মেলন ২০১৯-এ প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে বিএনপি নেতা ড. আবদুল মঈন খানের বাসায় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ কয়েকজন কূটনীতিকের সাথে বৈঠকের বিষয়ে এক সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, একজন নারী সাংবাদিককে হেনস্থা করার কারণে ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ওই নারী সাংবাদিক। ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন এফিলেড ডিভিশনে গিয়েছিলেন। এফিলেট ডিভিশন তাকে নিম্ম আদালতে হাজির হতে বলেছেন। নিম্ম আদালত তার জামিন বাতিল করেছেন। এটি সম্পূর্ণভাবে আদালতের বিষয়, রাজনৈতিক বিষয় নয়। এটাও তারা বিদেশিদের কাছে নালিশ দিয়েছেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, অথচ ড. কামাল হোসেনের মতো মানুষ যিনি আইন এবং আদালতের কথা বলেন। আইনের শাসনের কথা বলেন। তিনি আবার আদালতের বিরুদ্ধে গিয়ে বিদেশিদের কাছে অভিযোগ দেন এটি সত্যিই দুঃখজনক। এটার মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বই প্রকাশ পাচ্ছে জনগণের কাছে।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আদালত কর্তৃক দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তাকে রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তার করা হয়নি। কারাগারে তিনি যেধরণের সুযোগ সুবিধা পান বৃটিশ ভারত থেকে শুরু করে বাংলাদেশ ও পাক ভারতের ইতিহাসে কোনো বন্দি এরকম সুযোগ সুবিধা পায়নি। ভারতের বিখ্যাত রাজবন্দিদের অনেক বই পড়েছি কোনো বন্দি তার পছন্দসই গৃহপরিচারিকা রাখার সুযোগ পেয়েছে কি না জানা নাই।
বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর সাথে মিশে যাওয়ার জন্য রোহিঙ্গাদের বেআইনিভাবে যাতে কোনো ধরণের সহযোগিতা করা না হয় উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে কোনোভাবে বাংলাদেশের আইডি কার্ড ও পাসপোর্ট করতে না পারে এ ব্যাপারে তাদের যাতে কেউ সহযোগিতা না করেন সে ব্যাপারে সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা আছে। তারা মায়ানমারের নাগরিক। তাদের অনেকেরই বাংলাদেশি নাগরিক বনে যাবার প্রচেষ্টা থাকে। এক্ষেত্রে যারা সহযোগিতা করেছেন তারা রাষ্ট্রের আইন ভঙ্গ করেছেন। অপরাধ করেছেন।
তিনি বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের চাওয়া সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ রচনা করেছেন। বাংলাদেশ যখন স্বাধীনতা অর্জন করে তখন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কাজী নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। কবি নজরুল লিখেছিলেন, মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও..। তিনি যখন মৃত্যুবরণ করেন, তার ইচ্ছা অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশেই তাকে কবর দেওয়া হয়।
নজরুল একাডেমি ঢাকার সভাপতি মিন্টু রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঊক্তব্য রাখেন জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. মোহীত উল আলম, নজরুল ইনস্টিটিউট এর উপ-পরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের মহাব্যবস্থাপক নিতাই কুমার ভট্টাচার্য, নজরুল একাডেমি চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ফাহইমদা রহমান।
অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশ ও ভারতের নজরুল সংগীতের বরেণ্য শিল্পীগণ, যার মধ্যে আছেন বাংলাদেশের ফেরদৌস আরা এবং ভারতের শিল্পী মঞ্জুষা চক্রবর্তী ও তুহিন পাল।

নতুন কাগজ/আরকে