ঢাকা রবিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং | ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

ভোর ৫:০৫
সারা বাংলা

নওগাঁয় ১০ কাঠা জমির ধান কেটে দিলেন ছাত্রলীগের কর্মীরা

নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁয় শ্রমিক সংকটে ধান কাটতে কৃষকের বাড়তি শ্রমিক খরচ গুনতে হচ্ছে। অপরদিকে বাজারে ধানের দাম কম। শ্রমিক সংকট ও ধানের দাম কম হওয়ায় কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তবে যেসব প্রান্তিক ও গরিব কৃষক এখনও ধান কাটতে পারছেন না সেই ধান কেটে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে নওগাঁ জেলা ছাত্রলীগ।

শুক্রবার সকাল ১০টায় নওগাঁ শহরের কুমাইগাড়ী এলাকায় মোসলেম উদ্দিন নামের এক কৃষকের প্রায় ১০ কাঠা জমির ধান কেটে দিয়েছে তারা। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আমানুজ্জামান সিউলের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের ১৫ সদস্য ওই কৃষকের ধান কেটে দিয়েছেন।

এসময় আমানুজ্জামান সিউলকেও ধান কাটার পর বোঝা মাথায় করে রাস্তা পর্যন্ত বহন এবং মাড়াই করেছেন। ধান কাটার বেশ কয়েকটি ছবি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আমানুজ্জামান সিউলের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আপলোড করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বেশ ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন অনেকে। ছবি আপলোডের পর ভাইরাল হয়ে সেগুলো এখন বিভিন্নজনের অ্যাকাউন্টে ঘুরছে।

এসময় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডলার, পৌর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শীতল খানসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

কৃষকরা বলছেন, বাজারে ধানের দাম অনেক কম। প্রতিমণ ধান বাজারে প্রকার ভেদে ৪৫০-৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেকে বাজারে ধান বিক্রি না করে বাড়িতে ফেরত নিয়ে গেছেন। সরকার ২৬ টাকা (একমণে ১০৪০ টাকা) কেজি দরে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার কথা। কিন্তু সে দামে কৃষকের কাছ থেকে ব্যবসায়ীরা কিনছেন না। প্রতিমণ ধান উৎপাদন করতে কৃষকের খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৮শ টাকা। মণপ্রতি প্রায় ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

মতিউর রহমান নামে একজন কমেন্টে লিখেছেন, নওগাঁ জেলা ছাত্রলীগকে ধন্যবাদ জানাই। এভাবেই মানুষের কল্যাণে তোমরা এগিয়ে এসো।

আশিকুর রহমান আশিক নামে একজন কমেন্টে লিখেছেন, এভাবেই যুগ যুগ ধরে মানুষের কল্যাণে, মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাবে জাতির পিতার নিজ হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

মিলন হোসেন কমেন্টে লিখেছেন, আমার জীবনের প্রথম ভালোলাগা ভালোবাসা আর আদর্শিক সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীকে এভাবেই মানব সেবায় নিয়োজিত দেখতে চাই। তবে তা যেন লোক দেখানো না হয়। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

নওগাঁ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আমানুজ্জামান সিউল বলেন, কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ- শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ এ স্লোগানে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশনায় আমরা কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছি। আমরা ছাত্রলীগের ১৫ জন সদস্য কৃষকের ধান কেটে মাড়াই করে দিয়েছি।

এমন উদ্যোগের কারণটা হচ্ছে সরকার ২৬ টাকা কেজি দরে ধান কেনার ঘোষণা দিলেও বাজারে সেই দামে ব্যবসায়ীরা ধান কিনছেন না। আবার শ্রমিক সংকটের কারণে মজুরিও বেশি দিতে হচ্ছে। একমণ ধান দিয়ে একজন শ্রমিকের দামও হচ্ছে না। যারা প্রান্তিক গরিব কৃষক ধান কাটতে পারছেন না। আর এতো কষ্টের উৎপাদন করা ধান জমিতে নষ্ট হয়ে যাবে সেটা ভালো দেখায় না। ফলে ছাত্রলীগের উদ্যোগে যারা গরিব কৃষক এখনও ধান কাটতে পারেনি তাদের জমির ধান আমরা কেটে দিচ্ছি। এতে করে শ্রমিকদের যে মজুরি দিতে হতো কৃষক তা থেকে সাশ্রয় হলেন এবং উপকৃত হলেন। আমরা চেষ্টা করে যাব অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো জন্য।