• ঢাকা
  • সোমবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং | ১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৫ই মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

রাত ১:৫৭

ধামইরহাটে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ


নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার ‘ভেড়ম দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের’ প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে বিনা টেন্ডারে বিদ্যালয়ের গাছ কাটা ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি নির্বাচনের আড়াইমাস পার হলেও নতুন ম্যানেজিং কমিটিকে দায়িত্ব না দেওয়া এবং খেয়াল-খুশিমত বিদ্যালয় পরিচালনা সহ বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা জানেন না প্রধান শিক্ষক কখন কোথায় কি করছেন। এ নিয়ে শিক্ষকদের মাঝেও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, ভেড়ম উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ কাজের জন্য প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান ম্যানেজিং কমিটিকে না জানিয়ে গত ২৫ জুন রাতের আধারে চারটি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে বিক্রি করার সময় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বেলাল হোসেন ও অন্যান্য সদস্যরা গাছসহ ১টি ট্রলি (পাওয়ার ট্রেলার দিয়ে তৈরী) আটক করে। চারটি গাছের মূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা। গাছ কাটতে রেজুলেশন ও বনবিভাগের মুল্য নির্ধারণ কোন কিছুই করা হয়নি। বিদ্যালয় চত্বর থেকে গাছ কাটার বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটিকেও কোন কিছুই অবগত করা হয়নি। রাতে মোবাইল ফোন পেয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও কয়েকজন সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রলি ও গাছগুলো সেখানেই আটক করে রাখা হয়।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান বলেন, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিধি মোতাবেক গাছ কাটা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আর পূর্বের ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। যে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে তার তালিকা এখনও হাতে পাইনি। আগামী রোববার বোর্ড থেকে তালিকা পাব বলে আশা করছি।

বিদ্যালয়ের বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বেলাল হোসেন বলেন, কমিটির নির্বাচনের প্রায় আড়াই মাস অতিবাহিত হলেও আমাদের নির্বাচিত কমিটির অনুমোদনে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। ফলে নিজের ইচ্ছেমত বিদ্যালয়ে সম্পদ আত্মসাতের চেষ্টা করছেন। আর গাছ কাটার বিষয়ে কমিটিকে কোন কিছুই অবগত করা হয়নি। রাতে মোবাইল ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি প্রধান শিক্ষক ট্রলি যোগে গাছগুলো অনত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। পরে ট্রলি ও গাছগুলো সেখানেই আটক করে রাখা হয়। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দুর্নীতিবাজ ও স্বেচ্ছাচারী শিক্ষক লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানান।

বনবিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, গাছের মূল্য নির্ধারণ করে ইউএনও স্যারের কাছে জমা দিয়েছি। তবে গাছের টেন্ডার হয়েছে কিনা আমরা জানা নেই।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ে গাছ কাটতে হলে সরকারী নিয়ম ও কমিটির রেজুলেশন, বনবিটের মুল্য নির্ধারণ, টেন্ডার-মাইকিং আবশ্যক। মৌখিক অনুমতির কোন মুল্য নেই।

ধামইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গণপতি রায় বলেন, বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মানের জন্য গাছগুলো কাটার আবেদন করলে নিয়ম অনুযায়ী গাছ কাটার পরামর্শ দিয়েছি। তবে অনিয়ম করে গাছ কাটা হলে তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।