• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১২ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৭শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৪ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

সকাল ৯:১৪

প্রধানমন্ত্রীর ব্রুনাই সফর : সম্প্রসারিত হবে সহযোগিতার ক্ষেত্র


মো: সাহেদ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তিন দিনের ব্রুনাই সফর নানা দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। এ সফরকালে তিনি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয়ার ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার পাঁচ দেশের সমন্বয়ে একটি নতুন আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ফোরাম গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এ পাঁচটি দেশের মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাই।

প্রস্তাবটি ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখবেন বলে জানিয়েছেন  সুলতান হাজী হাসানাল বলকিয়ার।এই আঞ্চলিক ফোরাম গঠিত হলে দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পার।  গড়ে উঠতে পারে অভিন্ন শ্রমবাজার। ফলে সুফল  পাবে  ফোরামের প্রতিটি সদস্য দেশের জনগণ।

ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি ক্ষুদ্র দেশ। তবে দেশটি  তেল সম্পদে সমৃদ্ধ। বাংলাদেশও উচ্চ প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে উদীয়মান অর্থনীতির একটি দেশ। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে  বাংলাদেশ ব্রুনাইয়ের উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে আমরা মনে করি। আমরা আশাকরি ব্রুনাইয়ের উদ্যোক্তারা এ ব্যাপারে এগিয়ে আসবেন।  তবে অতীতে একশ্রেণীর দালাল চক্রের অপতৎপরতায় দেশটির শ্রমবাজার হুমকির মুখে পড়েছিল। এই সরকারের উচিত হবে দালাল চক্রের এ ধরনের অপতৎপরতা বন্ধ করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া।

মূল বিষয়টা হলো, একটি দেশের সরকার প্রধান যখন কোনো দেশ সফর করেন তখন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অনেক সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে সে সব সম্ভবনাকে কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজন হয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের সক্রিয় উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রীর ব্রুনাই সফরের ফলে সৃষ্ট সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে আমাদের কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদেরও তৎপর হতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে বাংলাদেশ ও ব্রুনাইয়ের মধ্যে কৃষি, মৎস্য, পশুসম্পদ, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া এবং এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার উদ্দেশ্যে সাতটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং একটি বিনিময় নোট। সমঝোতা স্মারকগুলো হল- কৃষি ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সহযোগিতা, মৎস্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা, পশুসম্পদ ক্ষেত্রে সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক ও শিল্প সহযোগিতা, যুব ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং এলএনজি সরবরাহে সহযোগিতা।

কানেকটিভিটি এ যুগে ব্রুনাইয়ের সঙ্গেও  আমরা ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুযোগ গ্রহণ করতে পারি। তাতে করে দুই দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে এবং ব্রুনাইয়ের সঙ্গে আমাদের যে ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক তা আরো বৃদ্ধি পাবে।