• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ৩১শে মার্চ, ২০২০ ইং | ১৭ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ৫ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

রাত ১২:৪৫

দেশ ছাড়লেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত করোনার ভয়ে


বিনোদন ডেস্ক : করোনা থেকে বাঁচতে কলকাতা ছাড়লেন টলিউড তারকা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। বর্তমানে তিনি সপরিবারে সিঙ্গাপুরে নিজের বাড়িতে রয়েছেন। সেখানে পরিবারের সঙ্গে একান্ত সময় কাটানোর পাশাপাশি বই পড়ে এবং পছন্দের সিনেমা দেখছেন। এদিকে হঠাৎ করে অনেকটা চুপিসারেই দেশ ছেড়েছেন বলে ঋতুপর্ণাকে নিয়ে বেশ কানাঘুষাও চলছে টলিপাড়ায়। বিষয়টি খোলাসা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লম্বা এক পোস্ট দিয়েছেন এ নায়িকা। সেখানে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে সবাইকে সচেতন হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পোস্টে ঋতুপর্ণা লিখেছেন, ‘আমার এই সিঙ্গাপুর আসা নিয়ে নানা জায়গা থেকে অনেক কথাই কানে আসছে। তাদের উদ্দেশে একটাই কথা বলতে চাই যে, কেউ যেচে নিজের ক্ষতি ডেকে আনতে চায় না। এই কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে থাকতেই আমি সিঙ্গাপুরে এসেছি। তবে সিঙ্গাপুরে আছি মানে যে কলকাতার সঙ্গে কোনোরকম যোগাযোগ রাখছি না, তা নয়। কলকাতার সব খবরে আমার চোখ রয়েছে। একটা জিনিস খুব ভালো লাগছে যে, বিচক্ষণ মানুষরা জনসাধারণকে সচেতন করতে ভালো ভালো ভিডিও পোস্ট করছেন।

আমি নিজেও সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা সচেতনতামূলক ভিডিও পোস্ট করেছি। সারা বিশ্বে করোনাভাইরাস যখন ক্রমশ তার মারণ থাবা বাড়িয়েছে, তখন সিঙ্গাপুরের পরিস্থিতি একটু ভালো। এখানকার সরকার পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে। কারণ এখানে চিকিৎসা পরিষেবা অনেকটাই উন্নত। বিদেশ থেকে প্রচুর মানুষ এখানে চিকিৎসার জন্য আসছেন। যদিও এখানেও বেশ কিছু স্কুল ও শপিং মল এখন বন্ধ। আসলে মানুষকে এই সময়টায় খুবই সচেতন থাকতে হবে। যারা বিদেশ থেকে আসছেন তাদেরও এখানে দশ থেকে চোদ্দো দিনের জন্য গৃহবন্দি হয়ে থাকতে বলা হচ্ছে। আর বিশ্বজুড়ে জারি সতর্কতাকে মাথায় রাখলে বলব যে এটা কিন্তু খুব একটা খারাপ বিষয় নয়। আমাদের ভালো তো আমাদেরই বুঝতে হবে। হু (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা) নির্দেশিত নিয়মাবলিগুলো আমরা সবাই যদি একটু মেনে চলি তাহলে কিন্তু এই ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়াটা আমাদের আটকানো সম্ভব।’

ঋতুপর্ণা আরও লিখেছেন, গৃহবন্দি হয়ে থাকলে আলাদা করে চিন্তা-ভাবনা করার সুযোগ পাওয়া যায়। অনেক কাজ যেগুলো অন্য সময় করে ওঠা হয় না, সেগুলো কিন্তু ঠান্ডা মাথায় এই সময় করে নেওয়া যায়। এখন শুটিং বন্ধ। তাই পেশাগত কাজের বাইরেও আমি অন্যান্য বিষয় নিয়ে ভাবার সময় পাচ্ছি। বাচ্চাদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারছি। আর আমার প্রচুর ভালো ছবি দেখা বাকি। তাই এখন বেছে বেছে বিদেশি ছবি দেখা শুরু করেছি। প্রচুর বই পড়ছি। ‘গীতা’ আমার অন্যতম প্রিয় বই। এখানে আমার বাড়ি থেকেই সূর্যাস্ত দেখা যায়। সকালে সূর্যোদয়টা তো দেখা হয় না। কিন্তু সব মিলিয়ে বলব খুব সুন্দর, মনটাও ভালো হয়ে যায়।’