• ঢাকা
  • বুধবার, ৩রা জুন, ২০২০ ইং | ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১০ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী

বিকাল ৩:৫৩

দেশের প্রথম লোহার খনির সন্ধান হাকিমপুরে


দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় লোহার খনির অস্তিত্ব রয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছেন বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (জিএসবি) কর্মকর্তারা। ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে এ উপজেলার ইসবপুর গ্রাম থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা শেষে তারা এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, ইসবপুরে ম্যাগনেটাইট (এক ধরনের আকরিক লোহা) খনির সন্ধান মিলেছে। এটিই দেশের প্রথম লোহা খনি। আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী দু-একদিনের মধ্যে এ ব্যাপারে ঘোষণা দেয়া হবে।

জানা গেছে, ২০১৩ সালে হাকিমপুর উপজেলার মুর্শিদপুর গ্রামে খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে জরিপ কার্যক্রম চালায় জিএসবি। জরিপে সেখানে ১ হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার ফুট গভীরতায় মূল্যবান ম্যাগনেটিক মিনারেল, হেমাটাইট, ম্যাগনেটাইট ও লিমোনাইট পাওয়া যায়। আর ১ হাজার ২০০ ফুট গভীরতায় পাওয়া যায় চুনাপাথর। এর ওপর ভিত্তি করেই খনির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গত ১৯ এপ্রিল উপজেলার আলিহাট ইউনিয়নের ইসবপুর গ্রামে ড্রিলিং কার্যক্রম শুরু হয়। মুর্শিদপুর থেকে ড্রিলিংয়ের স্থানটি কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। জিএসবির ৩০ সদস্যের একটি দল ড্রিলিং করে এ স্থান থেকে বেশকিছু নমুনা সংগ্রহ করে। পরে এসব নমুনা পাঠানো হয় জয়পুরহাট বিসিএসআইআরের পরীক্ষাগারে। সেখানে পরীক্ষায় নমুনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে লোহা পাওয়া গেছে।

জিএসবির উপপরিচালক মোহাম্মদ মাসুম বলেন,  ১ হাজার ৩৮০ থেকে ১ হাজার ৫০০ ফুট গভীরতা পর্যন্ত ড্রিলিং কার্যক্রম চলাকালে আমরা এখানে খনির অস্তিত্বের বিষয়ে আশার আলো দেখতে পেয়েছিলাম। যেসব নমুনা ভূগর্ভ থেকে সংগ্রহ করেছিলাম, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মোটামুটি আমরা নিশ্চিত হয়েছি, এখানে ম্যাগনেটাইটের উপস্থিতি রয়েছে।

তিনি বলেন, এখানে ম্যাগনেটাইটের উপস্থিতি বেশ ভালো। এখানে যৌগটির পুরুত্ব প্রায় ৩০০ ফুটের বেশি। একই রকম পুরুত্ব যদি আরো পাঁচ-ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে থাকে, তাহলে এখানে বড় ধরনের রিজার্ভ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ অঞ্চলে প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে সমুদ্র ছিল। এ কারণেই এখানে আগ্নেয় শিলায় লৌহ পদার্থের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। আমরা নিশ্চিত হয়েছি, এখানে উন্নত মানের লোহার খনি রয়েছে।