• ঢাকা
  • শনিবার, ১৬ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং | ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৮ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

সকাল ৮:০৯

দেশজুড়ে গুজব আর গণপিটুনির আতঙ্ক


তরিক শিবলি

বাংলাদেশের জনমানসে এই কুসংস্কারটি গভীরভাবে জড়িয়ে আছে ছেলেধরা সন্দেহে হত্যা এর আগেও অজস্র হয়েছে। ভিখারিরা তার প্রধান শিকার, এছাড়া ভবঘুরে মানুষজন এভাবে নির্মম মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন।

ডিজিটাল গুজব এক আতংকের নাম যা বতর্মানে দেশের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। অনলাইন মাধ্যমটি যেমন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে তেমনি একে ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তিত্বহীন ও অর্থলিপ্সু স্বার্থান্বেষীমহলের অপপ্রচার, মিথ্যা রটনা ও বানোয়াট তথ্য অথার্ৎ গুজব ছড়াচ্ছে। এ মাধ্যমটিতে কোনো তথ্য, পোস্ট বা ভিডিও শেয়ার করলে তা মুহুর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে পড়ে।

বতর্মানে দেশে ৯ কোটিরও বেশি লোক ইন্টারনেট ব্যবহার করছে তন্মধ্যে ৫ কোটিরও বেশি লোক ফেসবুক ব্যবহার করে। আগে থেকে গুজবের প্রচলন থাকলেও গত কয়েক বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে আঁকড়ে ধরে নানা রকম অপপ্রচার, মিথ্যা-বানোয়াট তথ্য আর গুজব ছড়ানোর মাত্রাটা।যা কিনা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করার ফলে অপপ্রচারকারীদের দৌরাত্ম্য যেন কিছুতেই কমছে না। নৈতিকতা ও মানবিকতাহীন এসব ব্যক্তি সবসময় গুজব, ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাকে আঁকড়ে ধরে পড়ে থাকে। রাজনৈতিক, সামাজিক, ধমীর্য় এমনকি পারিবারিক জীবনেও এখন এসব অপরাধই প্রকোপ আকার ধারণ করেছে।অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে যাচ্ছে তাই করছে। যার প্রতিটির পেছনে থাকে সুদূরপ্রসারী কারণ। বিশেষ করে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর রামু, নাসিরনগর ও রংপুরের মতো বড় ধরনের সহিংসতা চালানো হয়। এ ছাড়া অন্যান্য স্থানে ডিজিটাল গুজব সৃষ্টি করে রাষ্ট্র ও জনজীবনে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়। আর প্রতিটি ক্ষেত্রেই আশ্রয় নেয়া হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো গুজবের।

সম্প্রতি তাছলিমা বেগম রেনু নামের এক নিঃসঙ্গ মাকে ‘শিশুচোর’ সন্দেহে গণপিটুনি দেয়া হয়। ঢাকার একটি স্কুলে ভর্তিসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সহিংস জনতার আক্রমণের শিকার হয়ে মারা যান তিনি। সোমবারে(২২জুলাই)সারা দেশে শিশুচোর সন্দেহে তিনজন গণপিটুনিতে প্রাণ হারিয়েছেন।মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৩৬ জন গণপিটুনিতে মারা গেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে পদ্মা সেতুর জন্য মানুষের মাথা প্রয়োজন- এমন গুজবে জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সৃষ্ট আতঙ্কের কারণে গণপিটুনির হার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে সোমবার তিনজন নিহত আর অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে চারজনই নারী। মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) নওগাঁয় ছেলেধরা সন্দেহে ছয়জনকে গণপিটুনি দেয় উত্তেজিত জনতা।

ছেলেধরার গুজব আর গণপিটুনির বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে স্বার্থান্বেষী মহল এধরণের কাজগুলো করে থাকে। আর তারা সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়গুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করে, তখন মানুষও বিভ্রান্ত হয়ে ভুল করে বসে। মূলত মানুষের বিশ্বাসগত ভুল আর যাচাই-বাচাইয়ের অনাগ্রহের কারণে এধরণের কাজগুলো হচ্ছে।
সাম্প্রতিক ইস্যুকে টেনে তিনি বলেন, বর্তমানে স্বার্থান্বেষী মহল মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছে যে, পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে। তাদের এ অপপ্রচারে সাধারণ মানুষও বিভ্রান্তিতে পড়েছে। অবস্থাটা এমন হয়েছে যে, ভালো মানুষকে ভালোভাবে না জেনে গণপিটুনি দেয়া হচ্ছে।

এর থেকে উত্তরণের উপায় সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যাপক সোহেল রানা বলেন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তাছাড়া সাধারণ মানুষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। এছাড়া সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। গণমাধ্যমগুলোকে এবিষয়ে ফোকাস করতে হবে।

বর্তমান সময়টাকে বলা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা আর হাতে হাতে স্মার্টফোন মানুষকে করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমমুখী। বাংলাদেশে ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করেন।

ফেসবুকের এ জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেণীর অসাধু চক্র মেতে উঠেছে নানা অসামাজিক কার্যকলাপে। বিভিন্ন পোস্ট দিয়ে, নোংরা ছবি-ভিডিও আপলোড করে নারীদের হয়রানি, গুজব ও ধর্মীয়বিদ্বেষ ছড়ানো, প্রশ্নফাঁসসহ গুরুতর অপরাধগুলো সংঘটিত হচ্ছে ফেসবুকের মাধ্যমে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেছেন, ছেলেধরা গুজবে সরকারের কঠোর হুঁশিয়ারিফেসবুক আসক্তি এখন একটা নেশা। এটি ‘ডিজিটাল কোকেন’ অ্যাডিকশনের মতো হয়ে গেছে। আজকাল তরুণ প্রজন্ম একবার ফেসবুকের মধ্যে ঢুকলে আর বের হতে চায় না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সামাজিক বিপ্লব প্রয়োজন। ফেসবুককে ভালো কাজে ব্যবহার করতে হবে।

তিনি বলেন, একথা অনস্বীকার্য, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট সবার হাতে হাতে পৌঁছে গেছে; কিন্তু দুঃখের বিষয় হল, মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্রাউজিং করায় বাস্তবে ইয়ং জেনারেশনে খুব একটা ক্রিয়েটিভ হচ্ছে না। আমি দেখেছি ইয়ংগার জেনারেশনের ভেতরে ম্যাক্সিমাম ব্যবহার করে ফেসবুক চ্যাটিং করার জন্য। এটি ক্রিয়েটিভ ইউজ না। তরুণদের ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতেও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হতাশা থেকে শুরু করে ঘুম কম হওয়াসহ নানা অসুস্থতার জন্যও একে দায়ী করা হচ্ছে। কাজেই ফেসবুক ব্যবহারে প্রয়োজন সচেতনতা। আর শিশু কিংবা উঠতি বয়সীদের ফেসবুক ব্যবহারে প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা।

ফেসবুকের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে এখন থেকে ছড়ানো হচ্ছে ধর্মীয়বিদ্বেষ আর বিভিন্ন গুজব। এখন পর্যন্ত দেশে ধর্মকে কেন্দ্র করে যতগুলো সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে সবই ফেসবুক থেকে। ২০১৭ সালের নভেম্বরে ফেসবুকের গুজবের সূত্র ধরে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় হিন্দুদের বাড়িঘরে আক্রমণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
২০১৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় মন্দির ও হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে।
এর আগে ২০১২ সালের শেষ দিকে সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুকে পবিত্র কোরআন শরিফ অবমাননা করে ছবি সংযুক্ত করায় রামু উপজেলার বৌদ্ধবসতি এলাকায় চালানো হয় তাণ্ডব। এসময় ১২টি বৌদ্ধমন্দির এবং বৌদ্ধদের ৩০টি বাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছিল।
শতাধিক ঘরবাড়ি এবং দোকানপাটে হামলা ও লুটপাট চালায় সুযোগসন্ধানীরা। এছাড়াও কুমিল্লার হোমনা, পাবনার সাঁথিয়া, সাতক্ষীরার ফতেহপুরে এমন গুজব থেকেই ধর্মীবিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ে।

চলতি বছর নিরাপদ সড়কের দাবিতে টানা সাত দিনব্যাপী সড়কে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে আন্দোলনকে ঘিরে নানা ধরনের গুজবও উঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন পোস্টে গুজব ছড়ানো হয়, শিক্ষার্থীর মৃত্যু ও ছাত্রী ধর্ষণের। পরে পুলিশ অভিযুক্ত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতার আনে। গুজবের সর্বশেষ উদাহরণ হল ছেলেধরার গুজব ।

গত কয়েকদিনে দেশটিতে ছেলেধরা সন্দেহে এমন বেশ কয়েকটি গণপিটুনির খবর সংবাদের শিরোনামে উঠে আসে।পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, যারা নিহত হয়েছেন, তাদের কেউ কেউ ওই এলাকায় অনেক দিন ধরে বসবাস করতেন। কয়েকজন মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। কিন্তু অভিভাবকদের সন্দেহ হওয়ায়, তাদেরও বেধড়ক পেটানো হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।

পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে, এমন গুজবের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে ছেলেধরা আতঙ্ক। এরইমধ্যে রাজধানীর বাড্ডা, কেরানীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে তিনজন। বিভিন্ন স্থানে গণধোলাইয়ের পর পুলিশে দেয়া হয়েছে অন্তত চারজনকে। শনিবার (২০ জুলাই) সকালে রাজধানীর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক নারীকে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হলেও বাঁচানো যায়নি তাকে।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে এক শিশুকে ধরে নেয়ার চেষ্টা করছিলো ওই যুবক। ওই শিক্ষার্থীর চিৎকার করলে তাকে নিজের সন্তান হিসেবে পরিচয় দেয় ওই যুবক। কিন্তু সন্দেহ হলে তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা। একই এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে শারমিন বেগম রেশমা নামে এক নারীকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা। এদিকে কেরানীগঞ্জে ছেলেধরা সন্দেহে দুই যুবককে গণপিটুনি দেয় এলাকাবাসী। এতে একজন নিহত হয়। অন্যজনকে গুরুতর আহতবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার (২০ জুলাই) সকাল সাড়ে আটটার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন হযরতপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকালে ওই দুই যুবক গ্রামে ঘোরাঘুরি করতে থাকে। তারা শিশুদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে। এতে তাদের উপর সন্দেহ হলে এলাকাবাসী ধরে গণপিটুনি দেয়।

গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও কুষ্টিয়া ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ছেলে ধরা সন্দেহে গণধোলাই দেয়া হয় চারজনকে। এদিকে গুজবে কান দিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্রবিরোধী কাজের শামিল বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশ প্রশাসন। এছাড়া, গণপিটুনি দিয়ে মানুষ মারাকে বড় ধরনের অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে এগুলো থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। শনিবার (২০ জুলাই) বিকেলে এক বার্তায় এ নির্দেশনা দেয়া হয়।

পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, পদ্মা সেতু নির্মাণে মাথা লাগবে- একটি মহল এমন গুজব ছড়ানোর পর দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকজন গণপিটুনিতে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন।পুলিশ সদর দপ্তর আরো জানায়, ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি একটি ফৌজদারি অপরাধ। আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। গণপিটুনির ঘটনা তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুবাস চন্দ্র সাহা জানান, ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে বিভিন্ন স্থানে ছেলে ধরা গুজবে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরাও। এ বিষয়ে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ চেয়েছেন তারা।

গাজীপুরে ছেলেধরা সন্দেহে এক নারীকে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয়রা। শনিবার সকালে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় ছেলেধরা গুজবকে কেন্দ্র করে মিনু মিয়া (৩০) নামের এক ভ্যানচালককে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কালিহাতী উপজেলার নাগা চৌধুরীবাড়ি গ্রামের মৃত তরিকুল আলম সিদ্দিকীর ছেলে মাইনুল হক হিটু (৩৭), নাগা গ্রামের সন্তোষ চন্দ্র মালুর ছেলে প্রভাত চন্দ্র মালু (১৯), একই গ্রামের আনোয়ার হোসেন খানের ছেলে শিশির আহম্মেদ খান (৩২), মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে মিজানুর রহমান তালুকদার (৪৭), আনোয়ার হোসেন খানের ছেলে ওমর (৩২) এবং পালিমা গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে আলামিন ইসলাম (১৯)।
এদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-অপারেশন্স) সাঈদ তারিকুল হাসান সারাদেশের পুলিশের ইউনিটকে পাঠানো বার্তায় উল্লেখ করা হয়, ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, ব্লগ এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ছেলেধরা-সংক্রান্ত বিভ্রান্তিমূলক পোস্টে মন্তব্য বা গুজব ছড়ানোর পোস্টে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।বার্তায় মোট চারটি উপায়ে ছেলেধরার গুজব ও গণপিটুনি প্রতিরোধে পুলিশের ইউনিটগুলোকে কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়।

এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, স্কুলে অভিভাবক ও গভর্নিং বডির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়, ছুটির পর অভিভাবকরা যাতে শিক্ষার্থীকে নিয়ে যায় সে বিষয়ে নিশ্চিত করার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা, প্রতিটি স্কুলের ক্যাম্পাসের সামনে ও বাইরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, মেট্রোপলিটন ও জেলা শহরের বস্তিতে নজরদারি বৃদ্ধির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া বার্তায় গুজব বন্ধে জনসম্পৃক্ততামূলক কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- উঠান বৈঠকের মাধ্যমে গুজববিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি, এলাকায় মাইকিং-লিফলেট বিতরণ, মসজিদের ইমামদের ছেলেধরা গুজববিরোধী আলোচনার নির্দেশনা। এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের কোন ইউনিট কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে ফ্যাক্সের মাধ্যমে জানাতে বলা হয়েছে।

সরকার কোনো সন্দেহজনক ঘটনা অথবা গুজবের ভিত্তিতে কোনো নিরীহ মানুষকে হত্যা করার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, এ ধরনের ঘটনা হবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ছেলেধরা সন্দেহে সাম্প্রতিক কয়েকটি হতাহতের ঘটনার প্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে সোমবার সতর্কতা উচ্চারণ করে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল গুজব ছড়িয়ে ছেলেধরা সন্দেহে নিরীহ মানুষ পিটিয়ে হতাহত করা সংক্রান্ত খবরের প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যেকোনো ধরনের গুজব ছড়ানো ও আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া দেশের প্রচলিত আইনের পরিপন্থী এবং গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। কোনো বিষয়ে কাউকে সন্দেহজনক মনে হলে নিজের হাতে আইন তুলে না নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশের সহায়তা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।