ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে আগস্ট, ২০১৯ ইং | ৮ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২১শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

দুপুর ১:৫৭
সম্পাদকের কলামসম্পাদকের কলাম টপ

দুধে ভেজাল : মেনে নেয়া যায় না

মো : সাহেদ : বলার অপেক্ষা রাখে না যে আমিষের চাহিদা মেটাতে দুধের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য দুধের বিকল্প নেই বললেই চলে। আর সেই দুধেই  যখন ব্যাপক হারে ভেজাল মিশানো হয় তখন আমরা বাকরুদ্ধ হয়ে যাই।সে কাজটিই চলছে দেশে। এটা কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। হাট-বাজারে, ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে প্রাপ্ত কাঁচা তরল দুধের ৯৬টির মধ্যে ৯৩টিতেই পাওয়া গেছে বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর উপাদান। অন্যদিকে দেশী-বিদেশী ৩১টি প্যাকেট দুধের নমুনার মধ্যে ১৮টিতেই পাওয়া গেছে মারাত্মক ক্ষতিকর উপাদান। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ তরল দুধের অণুজৈবনিক ও রাসায়নিক বিশ্লেষণ করে টিপিসি, কলিফর্ম, সালমোনেলাসহ মাত্রাতিরিক্ত সিসা, টক্সিন, এমনকি ক্ষতিকর মাত্রায় এ্যান্টিবায়োটিক, কীটনাশক পর্যন্ত পেয়েছে।যা মানবদেহের জন্য বিপজ্জনক। নিয়মিত এই ভেজালমিশ্রিত দুধ পানে মানুষের ক্যান্সার, কিডনি ও লিভার নষ্টসহ টাইফয়েড, ডায়রিয়া, কলেরা ইত্যাদি হতে পারে।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে দুধ-দইয়ে ক্ষতিকর ভেজাল ও রাসায়নিক শীর্ষক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে স্বপ্রণোদিত হয়ে এক রুল দিয়েছিল তা খতিয়ে দেখার জন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে। সেই প্রেক্ষাপটে গত বুধবার হাইকোর্ট বেঞ্চে দাখিলকৃত দুধ-দই ও পশুখাদ্য সম্পর্কিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব ভয়াবহ তথ্য। তবে আদালত প্রতিবেদনে ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির কোন নাম না থাকায় ক্ষোভ ও উষ্মা প্রকাশ করে এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে ১৫মের মধ্যে সুনির্দিষ্ট প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয় আদালত।

উল্লেখ্য, দুগ্ধ খামার থেকে শুরু করে বিভিন্ন কোম্পানি কর্তৃক প্যাকেটজাত করে বিপণন পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে চলে ভেজালের দৌরাত্ম্য। এর আগে দেশে প্যাকেটে বাজারজাতকৃত পাস্তুরিত তরল দুধের ৭৫ শতাংশই নিরাপদ নয়- ঢাকায় আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র (আইসিডিডিআরবি) পরিচালিত গবেষণায় উঠে এসেছে এই তথ্য। দুগ্ধ খামার থেকে শুরু করে বিক্রির দোকান পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে দুধে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানদন্ডে গ্রহণযোগ্য নয়। এই দুধ উচ্চ তাপে ফুটিয়ে না খেলে তা বিপজ্জনক হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আমাদের দেশে দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহারযোগ্য প্রতিটি ভোগ্যপণ্যে ভেজালের বিষয়টি এক রকম ওপেনসিক্রেট। দুধ, ডিম, মাংস, মাছ, তরিতরকারি, শাক-সবজি সর্বত্র ভেজালে ভেজাল। প্রায় সব পণ্যে কার্বাইড, ফরমালিনসহ  বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার হচ্ছে।

সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো সব মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা। ডাল, তেলবীজ, ডিম, মাছ, মাংস, দুধ, মসলা উৎপাদনেও ঘাটতির বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া বাঞ্ছনীয়। মনে রাখতে হবে, শুধু ভাতে পেট ভরে বটে, তবে পুষ্টি ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত হয় না। গত কয়েক বছরে শাক-সবজি, ফলমূল উৎপাদন বাড়লেও মাছ-দুধ-ডিম-মাংস জাতীয় খাদ্য অর্থাৎ প্রোটিনে বিপুল ঘাটতি এখনও রয়ে গেছে। সরকারকে দৃষ্টি দিতে হবে কৃষি, খাদ্য ও প্রাণিসম্পদের দিকে। সবচেয়ে বড় কথা হলো যে কোন মূল্যে রুখতে হবে ভেজালের দৌরাত্ম্য।এজন্য যা যা করা দরকার সরকারকেই তা করতে হবে।