• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৮ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৩শে সফর, ১৪৪১ হিজরী

সকাল ৮:০৫

দিনাজপুরে শেষ মুহূর্তে জমে উঠছে ঈদ বাজার


দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরে শেষ মুহুর্তে জমে উঠছে ঈদ বাজার। ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত মার্কেটগুলোতে প্রতিদিনই ক্রেতাদের ভীড় বাড়ছে। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড়ও ততই বাড়ছে। বিত্তবানরা ছুটছেন বড় বড় মার্কেট ও বিপনী বিতানে আর সাধারণ মানুষ ছুটছেন ফুটপাতের দোকানগুলোতে। তবে দোকানীরা বলছেন, অন্যবারের তুলনায় এবারে বেচাবিক্রি তেমন ভাল হচ্ছে না। বিশেষ করে ধানের দাম কম থাকায় কৃষকরা রয়েছেন বেকায়দায়।দিনাজপুর শহরের মার্কেটগুলো ক্রেতাদের পদচারনায় মূখরিত হয়ে উঠছে।

দোকানিরা নতুন নতুন বাহারী ডিজাইন ও বিভিন্ন রঙের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। ক্রেতাদের নজর কাড়তে দোকানিরা আলোকসজ্জার পাশাপাশি নতুন রঙে ও আকর্ষণীয় পণ্য দিয়ে সাজিয়ে তুলেছেন দোকানগুলো। নিজেদের পছন্দনীয় নিত্য-নতুন ডিজাইনের পোশাক কিনতে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ছুটছেন ক্রেতারা। তবে অন্য বারের তুলনায় এবার প্রতিটি পণ্যের দাম কিছুটা বেশী বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।

রোববার সরেজমিন শহরের বাহাদুর বাজার, জাবেদ সুপার মার্কেট, উত্তরা সুপার মার্কেট, আব্দুর রহিম সুপার মার্কেট, গনেশতলাস্থ গুলশান মার্কেট, মালদহপট্টিস্থ নুরজাহান মাকের্টসহ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, এসব মার্কেটের দোকান ক্রেতাদের ভীড় ছিল।

দোকানীরা জানালেন, গতকাল থেকে বিক্রি বেড়েছে যা ঈদের আগের রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা। তবে এবারে ধান, ভূট্টা ও লিচুর দাম কম থাকায় গ্রামের কৃষক পরিবারের লোকজন রয়েছেন বেকায়দায়। ধান, ভূট্টা ও লিচু বিক্রি করতে না পারায় তাদের পক্ষে স্বাচ্ছন্দে ঈদ উদযাপন অনেক কষ্টের হবে জানালেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

এদিকে পোশাকের জগতেও এসেছে বৈচিত্র্য। ক্রেতাদের চাহিদার কথা চিন্তা করে ডিজাইনার ও ব্যবসায়ীরা ছেলেদের জন্য পাঞ্জাবি, ফ্যাশনেবল পাঞ্জাবি ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শার্ট, প্যান্ট আর মেয়েদের জন্য বিভিন্ন ডিজাইনের থ্রিপিচ, সালোয়ার কামিজ ক্রেতাদের জন্য বাজারে নিয়ে এসছে। তবে এবারে দেশীয় পোশাকের প্রতি ক্রেতাদের চাহিদা বেশ লক্ষ্যনীয়।

শহরের স্টেশন রোডের “অপরাজিতা” গার্মেন্টস্’র স্বত্বাধিকারী মামুনুর রশিদ হিরা জানান, এবার মেয়েদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে থ্রিপিচসহ বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক। আর ছেলেদের জিন্স প্যান্ট, গেঞ্জি. টি সার্ট, ফুল সার্ট। এছাড়া বিভিন্ন ডিজাইনের পাঞ্জাবী ছেলেদের পছন্দের তালিকায় স্থান পেয়েছে।
তিনি জানান, তার দোকানে পাঞ্জাবী ৩৫০-৪০০০ টাকার রয়েছে। টি সার্ট ১৫০-৯০০ টাকা, ফুল সার্ট ৪০০-১৮০০ টাকা, বড়দের ফুলপ্যান্ট ৫০০-২৪০০ টাকা, ছোটদের ফুলপ্যান্ট ১৫০-৬০০ টাকা, পায়জামা ৩৮০-৭৮০ টাকা, পলো টি সার্ট ৩৫০-৫০০ টাকা বয়েজ সেট, হাফ হাতা গেঞ্জি ৩০০-৬৫০ টাকা এবং লুঙ্গির দাম ৩২০-১২০০ টাকা। তিনি জানালেন, আস্তে আস্তে ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে। ঈদের আগের রাত পর্যন্ত বেচাকেনা হবে। তবে অন্যবারের তুলনায় এবার ব্যবসা কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।

অপরাজিতায় কেনাকাটা করতে আসা শহরের কালিতলার বাসিন্দা সারোয়ার জানালেন, তিনি বাচ্চার জন্য গেঞ্জি সেট ও নিজের জন্য পাঞ্জাবি কিনিছেন। আর স্ত্রীর জন্য থ্রিপিচ কিনবেন। তবে এবারে কাপড়ের দাম কিছুটা বেশী বলে জানান তিনি।

শহরের মালদহ পট্টির মিলন বস্ত্রালয়ের স্বাত্বাধিকারী মোফাচ্ছিলুল মাজেদ জানালেন, এবাবে বেচাকেনা ভাল না। আগে মানুষ বাঁচবে তারপর কাপড় কিনবে। কারণ মানুষের হাতে টাকা নেই। গতবারের তুলনায় এবারে অর্ধেক বিক্রি হবে কিনা সন্দেহ রয়েছে তাঁর।

তিনি আরো জানান, একদিকে বেচা-বিক্রি কম, অন্যদিকে ভ্রাম্যমান আদালতের  অভিযান। দুইয়ে মিলে কঠিন অবস্থায় দিন পার করছেন। তাঁর দোকানে থান কাপড়, বোরকা, ওয়ান পিচ, থ্রিপিচ এসব কাপড় বিক্রি করা হয়। ঈদের আগ মুহুর্তে হয়তবা বেচাকেনা জমে উঠতে পারে বলে জানান তিনি। এদিকে শাড়ির মধ্যে সিল্ক, বেনারসি, টাঙ্গাইল প্রিন্ট, জামদানি, কাতান শাড়ির কদর বেশি বলে জানিয়েছেন দোকানীরা।

বিভিন্ন পোশাক ও শাড়ির সঙ্গে ম্যাচিং করে কসমেটিক্সের দোকানেও ক্রেতারা ভীড় করছে। চুড়ি, লিপস্টিক, মেহেদী, নেলপালিশ কেনতেও ব্যস্ত ক্রেতারা। জেল রোডের ফুটপাতের দুল-চুড়ির দোকানগুলোতে তরুনী, যুবতীসহ সব বয়সের মহিলা ক্রেতাদের ভীড় বাড়ছে। এছাড়া জুতার দোকানেও ক্রেতাদের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে পিছিয়ে নেই টুপি, সুরমা, আতর বিক্রেতারা। এসব দোকানেও ভীড় করছেন। নিত্যনতুন ডিজাইনের টুপি দিয়ে সাজিয়ে রেখেছেন শহরের জেল রোডসহ বিভিন্ন স্থানের টুপির দোকানগুলো। তারা টুপির পাশাপাশি আতর ও সুরমাও বিক্রি করছেন। তবে সব জায়গার দোকানীরা অন্যবারের তুলনায় এবারে বেচাবিক্রি কম হওয়া আশঙ্কা করছেন। অন্যদিকে তৈরী পোষাকের পাশাপাশি প্যান্ট, সার্ট, সালোয়ার, কামিজ, পাঞ্জাবী ও পায়জামা বানানোর জন্য দর্জির দোকানেও ক্রেতারা করছেন। সেই সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সেলাই কাজে ব্যস্ত দর্জির দোকানের কারিগররা। তাদের যেন দম ফেলারও সময় নেই। তবে ২৫ রমজানের পর থেকে নতুন কোন কাপড় সেলাইয়ের অর্ডার নেওয়া হবে বলে জানিছেন দর্জির দোকানের কারিগররা।

এদিকে, শহরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং নাশকতা রোধে নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রতিটি মার্কেটে ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশ ও র‌্যাবের টহলদল শহর ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছে। রাস্তায় যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শহরে যানজন নিরসনে ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতা করতে দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র পক্ষ থেকে আনসার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।