• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৫ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৭ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

বিকাল ৫:০৩

দিনাজপুরের সেই এসিল্যান্ডকে স্ট্যান্ড রিলিজ, চাকরি পাচ্ছেন পুত্র



মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের কবর জিয়ারত করলেন হুইপ ইকবালুর রহিম

অনলাইন ডেস্ক : মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন না করার ঘটনায় দিনাজপুর সদরের এসিল্যান্ড (সহকারী কমিশনার ভূমি) আরিফুল ইসলামকে স্ট্যান্ড রিলিজ করেছে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার অফিস। আজ সোমবার সকালে এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলামকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার অফিস।

এদিকে আজ সকালে জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের কবর জিয়ারত করেছেন। এ সময় তার ছেলে নূর ইসলামকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি চাকরির ঘোষণা দেওয়া হয়।রংপুর বিভাগী কমিশনার এস এম তরিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন ।

প্রধানমন্ত্রী একটি জিপ গাড়ি উপহার দিয়েছেন দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম হাসপাতালে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে গাড়িটি হাসপাতালে চলে আসলে সে গাড়িটিই চালাবেন নূর ইসলাম।

এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাকে অসম্মানের ঘটনার প্রতিবাদে আজ সোমবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির সামনে মানববন্ধন করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। এর আগে মুক্তিযোদ্ধাকে অসম্মানের সে ঘটনার প্রতিবাদে দিনাজপুর সদরের এসিল্যান্ড (সহকারী কমিশনার ভূমি) এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলামকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে দিনাজপুরের ডিসি, এডিসি ও সদর এসিল্যান্ডকে অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানিয়েছিল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।

গতকাল রবিবার দুপুরে মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের কুলখানির অনুষ্ঠান শেষে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার সাইদুর রহমান এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলামকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে অবিলম্বে জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহফুজুল আলম ও এসিল্যান্ডকে দিনাজপুর থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার সরকারি কর্মকর্তাদের অসম্মানের কারণে শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় মর্যাদা (গার্ড অফ অনার) ছাড়াই দাফন সম্পন্ন করা হয় মরহুম মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের। এ মুক্তিযোদ্ধার শেষ বিদায়ের সময় সেখানে বাজেনি বিদায়ের সুর। জানাজার আগে ম্যাজিস্ট্রেট মহসীন উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশ প্রশাসনের চৌকস দল গার্ড অব অনার জানাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসেন। এমনকি মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের মরদেহ জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত করা হয়নি। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়নি মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম বরাররে এমন একটি চিঠি লেখার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মারা যান মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন।

জানা গেছে, দিনাজপুরের এসিল্যান্ড অফিসে (সহকারী কমিশনার ভুমি) অস্থায়ী ভিত্তিতে মুক্তিযোদ্ধার পুত্র নুর ইসলাম গত ২০১৭ সালের ৪ সেপ্টেম্বর গাড়িচালক পদে চাকরি পান। চাকরি নেওয়ার পর থেকেই দিনাজপুরের এসিল্যান্ড (সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার-(ভূমি) আরিফুল ইসলাম) ও তার স্ত্রী নিজ বাড়ির বাজার করিয়ে নিতেন। বাড়ির যাবতীয় অন্যান্য কাজও করিয়ে নিতেন আমার ভাই নুর ইসলামকে দিয়ে। এমনকি বাড়ির রান্না ও শৌচাগারও পরিষ্কার করিয়ে নিতেন। সম্প্রতি আমার ভাই কোনো অপরাধ না করলেও তাকে গাড়িচালক পদ থেকে চাকরিচ্যুত করেন এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম।

চিঠিতে যা লিখে গেছেন মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন-

‘গত ২০১৭ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিমের সুপারিশে ছেলে নূর ইসলামের নো-ওয়ার্ক নো-পে ভিক্তিতে এসিল্যান্ডের গাড়িচালক হিসেবে চাকরি হয়। সেই সুবাদে নূর ইসলাম সদরে এসিল্যান্ডের গাড়ি চালাতেন। কর্মস্থলে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে হুইপ ইকবালুর রহিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এসময় তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে সেখানে উপস্থিত এডিসি রাজস্বকে বিষয়টি দেখতে বলেন। হুইপকে বিষয়টি অবগত করায় প্রশাসন থেকে প্রথমে নূর ইসলামকে তার বসবাসরত খাস পরিত্যক্ত বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়। একই মাসের শেষ দিকে এসিল্যান্ডের স্ত্রী নূর ইসলামকে শৌচাগার পরিষ্কার ও মাংস রান্না করতে বলেন। মাংস রান্না ঠিক না হওয়াসহ বিভিন্ন অজুহাতে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে চাকরিচ্যুত করা হয়। পরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়াকে নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনিও (ডিসি) ক্ষিপ্ত হয়ে যান। এছাড়াও নূর ইসলাম তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মাফ চাওয়ার জন্য এসিল্যান্ডের স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে ৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তারা দেখা করতে পারেনি। চাকরি চলে যাওয়ায় উপায় না পেয়ে হুইপ ইকবালুর রহিমের সঙ্গে দেখা করেন। কিন্তু প্রশাসন সেটি চরম নেগেটিভভাবে নেয়। বর্তমানে তার ছেলেটি চাকরিচ্যুত ও বাস্তুচ্যুত হয়ে স্ত্রী-পুত্র ও পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

তিনি আরও লিখেছেন, ‘জীবন বাজি রেখে অস্ত্র হাতে নিয়ে করা স্বাধীন দেশে আমার ছেলের রুজি রোজগারটুকুও অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া হলো। গত ২১ অক্টোবর থেকে এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতাল দিনাজপুরের কার্ডিওলজি বিভাগে, ওয়ার্ড নম্বর -২, বেড নম্বর-৪৪ এ ভর্তি অবস্থায় আছি, এই পত্রটি তোমার কাছে লিখছি। তোমার কাছে আমার আকুল আবেদন- ‘তুমি ন্যায় বিচার করো। ঠুনকো অজুহাতে আমার ছেলেটিকে চাকরিচ্যুত করায় তাকে চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করো।’ ‘আমার বয়স প্রায় ৮০ এর কাছাকাছি। ছেলেটি হঠাৎ করে চাকরিচ্যুত হওয়ায় আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ তারপর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে হঠাৎ যদি আমার মৃত্যু হয়, আমাকে যেন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন না করা হয়। কারণ এসিল্যান্ড, ইউএনও, এডিসি, ডিসি যারা আমার ছেলেকে চাকরিচ্যুত, বাস্তুচ্যুত করে পেটে লাথি মেরেছে, তাদের সালাম-স্যালুট আমার শেষ যাত্রার কফিনে আমি চাইনা।’ লিখেছিলেন ওই মুক্তিযোদ্ধা।

ন/ক/র