• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ৩১শে মার্চ, ২০২০ ইং | ১৭ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ৫ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

রাত ২:২৫

তারুণ্যের ভাবনায় মহান স্বাধীনতা দিবস


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস যা ২৬শে মার্চ তারিখে পালিত বাংলাদেশের অন্যতম জাতীয় দিবস।জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে উদযাপন শুরু হয়।বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস বেশ বর্ণাঢ্য ভাবে উদযাপন করা হয়। ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসের শুভ সূচনা করা হয়।১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে (কাল রাত) তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের স্বাধীনতার সংগ্রাম শুরু করে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান সরকার গভীর রাতে পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) নিরীহ জনগণের উপর হামলা চালায়।২৭ মার্চ জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের উদ্দেশ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণের ডাক দেন।দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন করে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস (২৬ই মার্চ) নিয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাবনা নিয়ে লিখেছেন -হাবিবুর রহমান (হাবিব)।

বাংলার যে স্বাধীনতা ইংরেজদের হাতে অস্তমিত হয়েছিল সেটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে পুনরুত্থান হয় ২৬শে মার্চ। কাজেই এই দিনটি আমাদের কাছে কেবল একটি দিবস নয় আমাদের শির নত না করার প্রতিশ্রুতিও। বাঙালির অস্তে যাওয়া সূর্যকে উদয়ের নিমিত্তে শোষক শ্রেণী বর্বর পাকিস্তানির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য বীর বাঙালি সেদিন অস্ত্র ধরেছিল। ২৬শে মার্চ আমাদের কাছে বাঙালির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার দিবস।আজকের বাংলাদেশ সেদিন সেই ২৬শে মার্চ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল সেটার ফসল। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে হলে জানা লাগবে ২৬শে মার্চের ইতিহাস।সেদিন মধ্যরাতের অপারেশন সার্চ লাইট নামের কলঙ্কিত ও ঘৃণিত অধ্যায়ের ইতিহাস।আবদুর রহমান, শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬ই মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস যা বাংলার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৭১ সালের ২৫ই মার্চ তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান সরকার গভীর রাতে পূর্ব পাকিস্তানের নিরহ জনগণের উপর হামলা চালায়। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে গুলাবর্ষণ করা হয়, অনেক স্থানে নারীদের উপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় এবং বিভিন্ন স্থানে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকান্ড চালানো হয়। মধ্য রাতে শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তার হবার একটু আগে ২৫ই মার্চের রাত ১২টার পর (২৬ই মার্চের প্রথম প্রহরে) তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পত্রে স্বাক্ষর করেন যা চট্টগ্রামে অবস্থিত তৎকালীন ই.পি.আর. এর ট্রান্সমিটারে করে প্রচারের জন্য পাঠানো হয়। পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়ার পর আপামর বাঙালী জনতা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে, দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধের পর পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন করে, এক স্বাধীন দেশের অভ্যুদয় ঘটে।মোবাশ্বেরা খানম বাপ্পী
শিক্ষার্থী,হিসাববিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

স্বাধীনতা শব্দটা প্রত্যেকটা বাঙালীর জন্য একটি বড় পাওয়া।আর এই স্বাধীনতা শব্দটির পিছে লুকায়িত বাঙালীর মুক্তির ইতিহাস। ২৬ মার্চ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক রক্তাক্ত আনন্দের নাম। ২৬ মার্চ বিশ্বের বুকে লাল সবুজের পতাকা ওড়ানোর দিন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙালীর ওপর আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পরাশক্তির কবল থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার জন্য। বাঙালির স্বাধীকার আন্দোলন, এমনকি জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলে প্রাপ্ত আইনসঙ্গত অধিকারকেও রক্তের বন্যায় ডুবিয়ে দিতে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী শুরু করেছিল সারাদেশে গণহত্যা। সেইরাতে হানাদার বাহিনীরা একযোগে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে হত্যা করে অগণিত নিরস্ত্র দেশপ্রেমিক ও দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। ২৫ মার্চ রাতেই পুলিশ, ইপিআর ও সেনাবাহিনীর বাঙালী সদস্যরা শুরু করে প্রতিরোধ যুদ্ধ, সঙ্গে যোগ দেয় সাধারণ মানুষ। মহান সেই স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে অগনিত শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক অভিনন্দন।যাদের ত্যাগ তিতিক্ষা,সাহসিকতা, আর প্রবল দেশপ্রেম সোনার বাংলাকে মুক্ত করেছিলো শোষণ শ্রেণির হাত থেকে। ইমরান হুসাইন শিক্ষার্থী,
বাংলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯;মার্চ্#৩৯;এই মাসটি ইংরেজি দিন-পঞ্জিকায় অন্যান্য মাসের ন্যায় একটি সাধারণ মাস মনে হলেও বাঙালীদের কাছে রয়েছে এই মাসটির বিশেষ মহত্ত¡।কেননা,এইটা বাংলাদেশের গৌরবের মাস।স্বাধীনতার মাস।১৯৭১ সালের এই মাসে ইতিহাসের পৃষ্ঠা রক্তে রাঙিয়ে আত্মত্যাগের অতুলনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দীর্ঘ ্য়ঁড়ঃ;নয় মার্সেয়ঁড়ঃ; মুক্তিযুদ্ধে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন তার চূড়ান্ত পরিনতি।ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের জাতির জনকের সেই ভাষণই মূলতবাংলার দামাল ছেলেদের মরণপন সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে শক্তি ও সাহস যুগিয়ে ছিল।২৫ শে মার্চের ্য়ঁড়ঃ;কাল রাত্য়েঁড়ঃপাক হানাদারদের নৃশংসতায় দিশেহারা বাঙালীদের কে তখন একটি উক্তিই পথ দেখিয়েছিল- ;ডিক্লেয়ার দ্যা ইন্ডিপেন্ডেন্স অব বাংলাদেশ অন বিহাফ অব আওয়ার গ্রেট ন্যাশনাল লিডার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান্য়ঁড়ঃ;সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমার,আমাদের,আমাদের সকলের।মোঃজাফরুল ইসলাম
শিক্ষার্থী , ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

মার্চ মাস এলেই আমরা বাঙালীরা হাসি এবং কাঁদি। এটা আমাদের জন্য সুখের মাস, শোকের মাস এবং স্বপ্ন প্রতিষ্ঠার মাস,আনন্দেরও মাস। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ আমাদের এমন এক দূরদর্শী নেতার আগমন ঘটে যিনি না জন্মালে আজ এই সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত হত না।আমরা বাঙালী জাতির নায়ক হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ শুরু হয়েছিল ভাষা আন্দোলন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ; যে ভাষণে স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামের ডাক দেয়া হয়েছিল। এ মাস আমাদের গর্বেরও মাস। ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন।রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘কান্না হাসির দোল দোলানো পৌষ ফাগুনের খেলাথ। ইংরেজি মার্চ
মাস সম্পর্কে এ কথাটি অতীব সত্য। আমাদের গর্ব ও আনন্দের এ মাসের ২৬ তারিখেই বাংলাদেশজুড়ে পাকিস্তানি হানাদারদের নির্মম গণহত্যা শুরু হয়। মধ্যরাতে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে দেশের শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস পালনের আনন্দ-উদ্বেল দিনেও বাংলার মানুষ শহীদ বুদ্ধিজীবী, ত্রিশ লাখ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের স্মরণে চোখের অশ্রু মোছে। জাহেদ মঞ্জুর শিক্ষার্থী, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।