ঢাকা রবিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং | ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

ভোর ৫:১৯
ফিচারসারা বাংলা

তারা পেশায় কেউ খামারি নয় তবে গরু পালন করেন সবাই

এম, এ, কবীর : তারা পেশায় কেউ খামারি নয়। তবে গরু পালন করেন সবাই। পশু কুরবানির চাহিদা মেটায়। এ কারণে সবার কাছে গরুর গ্রাম বলেই পরিচিত। এই গ্রামের নাম কুলবাড়ীয়া। ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুতে অবস্থিত।

গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে ২ থেকে ৮টি পর্যন্ত গরুআছে। এবার ৫০ থেকে ৬০ ট্রাক গরু যাবে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়। তাছাড়া জেলায় বিক্রি হবে আরো ৩০০ গরু। গড়ে দেড় হাজার গরু এ গ্রাম থেকে সরবরাহ করা হবে। কুলবাড়ীয়া গ্রামে ঢুকতেই চোখে পড়ে শুধু গরু আর গরু। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের গরু গ্রামটিতে ভরপুর।

কুলবাড়ীয়া মাঠ পাড়ার গরু পালনকারী আব্দুল খালেক মন্ডল জানান, তাদের গ্রামে ৫০০ পরিবার বিভিন্ন জাতের গরু পালন করছে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের হাটে গরু বিক্রি করা হবে। বাজার পাড়ার শামছুল আলী জানান, তার আছে ৬টি গরু। এগুলো হরিয়ানা, নেপালি ও ক্রসবিড জাতের গরু । দাম ভালো থাকলে এ বছর ৬টি গরু ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকায় বিক্রি করা যাবে।

গ্রামের মধ্যপাড়ার পল্লী চিকিৎসক নরেন্দ্র নাথ জানান, তার আছে পাঁচটি গরু। জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি গরু পরিচর্যা করে থাকেন। সম্পূর্ণ দেশি খাবার দিয়ে গরু মোটাতাজা করছেন। মাঠপাড়া গ্রামের ইউসুফ আলী বলেন, ছয় মাস আগে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছি। গোখাদ্যে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন দেড় লাখ টাকা দাম হয়েছে। তবে ঢাকায় নিয়ে গেলে ২ লাখ টাকা বিক্রি হবে। গরু পালন করে নিজের ভাগ্য বদল করেছেন কুলবাড়ীয়া গ্রামের শামছুল। এ আয় থেকে জমি কিনেছেন। নতুন ঘরবাড়ি করেছেন। তার মতো আরো অনেকের ভাগ্য বদল হয়েছে।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা পশুসম্পদ কর্মকর্তা পরিতোস চক্রবর্তী জানান, চাহিদার ওপর ভিত্তি করে কোরবানি ঈদের কিছুদিন আগ থেকে গরুকে উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা দিয়ে মোটাতাজা করা লাভজনক। গোয়াল ঘর খোলামেলা ও প্রচুর আলো-বাতাসের সুযোগ থাকতে হবে, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকতে হবে, সুষ্ঠু নিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকতে হবে। তাহলে গরু বৃদ্ধি পাবে এবং গরুর কোনো রোগ-বালাই হবেনা। কুলবাড়ীয়া গ্রামের প্রতিটি গরু রাখার গোয়াল ঘর মান সম্পন্ন। তাই গরু পালনে তেমন সমস্যা হয় না।

ফলসি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বলেন, এবার জেলায় এত পরিমাণ গরু পালন আর কোথাও হয়নি। কুলবাড়ীয়া গ্রামে জেলার সর্বাধিক গরু পালনকারী ধরা হয়েছে। তাই এই গ্রামকে গরুর গ্রাম হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়।

ঝিনাইদহ জেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ অধিক লাভজনক। কুলবাড়ীয়া গ্রামের কৃষকরা এই পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করছে। এভাবে প্রতি বছর কোরবানির গরু পালন করলে গ্রামের প্রতিটি কৃষক আর্থিকভাবে সফলতা লাভ করতে সক্ষম হবে।