• ঢাকা
  • সোমবার, ২১শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২১শে সফর, ১৪৪১ হিজরী

সকাল ৮:২৬

ঢাবিতে মধ্যরাতে বৈশাখী কনসার্টে আগুন-ভাংচুর


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে চৈত্র সংক্রান্তিতে লোকসঙ্গীত ও পহেলা বৈশাখের দুই দিনব্যাপী কনসার্ট উপলক্ষে লাগানো ব্যানার, ফেস্টুন, বিজ্ঞাপন বুথ ও স্টলে ভাংচুর এবং আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।শুক্রবার রাত একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডের নেতৃত্ব দিয়েছেন এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার, জসিম উদ্দিন হলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ, মুহসীন হলের সাধারণ সম্পাদক সানী এবং বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন। তারা সবাই ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের অনুসারী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্ত্বরে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের অন্তঃকোন্দলে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়।

জানা যায়, বৈশাখী কনসার্টের এই আয়োজন সম্পর্কে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে জানানো হয়নি। অন্য তিন নেতা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী, ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস এবং সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে এ কনসার্ট আয়োজন করা হয়।

এতে শোভনের অনুসারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায়।

আগুন আধঘণ্টা স্থায়ী ছিল। এতে কয়েকটি ফ্রিজ পুড়ে যায় এবং স্টল ও ব্যানার ফেস্টুনের ক্ষতি হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন হল থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে আসে। সারারাত থমথমে অবস্থা বিরাজ করতে থাকে ক্যাম্পাসে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর রাত পৌনে তিনটার দিকে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিন নেতা।

গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘এ ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তারা ছাত্রলীগ করতে পারে না। আগুন দেয়া বিএনপি জামায়াতের স্টাইল। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা ১৩ এবং ১৪ তারিখ সফল অনুষ্ঠান করার মাধ্যমে এটির জবাব দেব।’

হলে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য নেতাকর্মীদের আহ্বান করে তিনি বলেন, ‘তারা চায়নি এই হোক, আমরা যদি আরও ভালোভাবে করতে পারি তাহলে এটা হবে তাদের মুখে জুতা মারা। আমরা সর্বোচ্চ নির্বাহী পর্যায়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ প্রোগ্রাম আমাদের ডাকসু এবং ছাত্রলীগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা যত কিছুর বিনিময়ে হোক এটাকে সফল করব। যে কয়জন ছিল প্রত্যেকের নাম আমাদের কাছে আছে।’

সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, যাদের নীতি নৈতিকতা নেই তারা নীতিবিবর্জিত কাজ করতে পারে। নেতা কর্মীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘তোমরা হলে গিয়ে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করবে না। আমরা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের কাছে এটার বিচার চেয়েছি। এ বিচার নিশ্চয়ই হবে। এ ধরণের ছাত্রলীগ আমরা দেখতে চাই না। যদি তাদের বিচার না হয় তাহলে আমি সনজিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করব।’

সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘কী ঘটেছে সবাই এখান থেকে গিয়ে ভুলে যাবেন। পহেলা বৈশাখের কনসার্টে যারা আঘাত করেছে আমরা প্রশাসনিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’ নেতাকর্মীদের কোনো ধরনের ঝামেলায় না জড়ানোর আহ্বান জানিয়ে সাদ্দাম বলেন, ‘তোমরা হলে গিয়ে কোনো ঝামেলা করবে না।কাউকে প্রতিপক্ষ মনে করবে না। পহেলা বৈশাখের ওপর যারা আঘাত করেছে তাদের সবাইকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে।’

কনসার্টের আয়োজক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। আর স্পন্সর কোমল পানীয় মোজো।