• ঢাকা
  • রবিবার, ২৯শে মার্চ, ২০২০ ইং | ১৫ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা শাবান, ১৪৪১ হিজরী

দুপুর ১:৫০

ঢাকা মহানগরে মুরাদ ও সাদেক থাকছেন!


:: মিজান শাজাহান ::

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের উত্তর-দক্ষিণ উভয় অংশে সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম থাকলেও সভাপতি পদে পরিবর্তন আসার আভাস পাওয়া গেছে। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে দক্ষিণে শাহে আলম মুরাদ ও উত্তরে সংসদ সদস্য সাদেক খান বহাল থাকতে পারেন এমন গুঞ্জন শুনা গেলেও বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কোন নেতা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে দলটির একজন সাংগঠনিক সম্পাদক দৈনিক নতুন কাগজকে বলেন. পুরো বিষয়টি আওয়ামী লীগ সভাপতি.প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেখভাল করছেন। তিনি যদি মনে করেন নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা দরকার.তাহলে অবশ্যই তিনি বিষয়টি বিবেচনা করবেন। এ নেতা আরও বলেন. সদ্য ঘোষিত কমিটিগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে। একইসাথে নবীন-প্রবীণের সমন্বয় করা হয়েছে। সেই বিবেচনায় সাধারণ সম্পাদক পদেও পরিবর্তন আসতে পারে। তবে আরেকটি সূত্র জানিয়েছে সাদেক খান সংসদ সদস্য হওয়ায় তার স্থলে অন্য কোন ত্যাগী নেতাকে সুযোগ করে দেয়া হতে পারে।

এদিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ দৈনিক নতুন কাগজকে বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর তার ত্যাগ-তিতীক্ষা বিবেচনা করলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে তাকে আরেক বার সুযোগ দেয়া উচিত। তবে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত বলে মনে করেন তিনি। বিভিন্ন কর্মকান্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরে সাবেক এ ছাত্রনেতা বলেন. ওয়ান-ইলেভেনে বিশেষ সরকারের আমলে দলীয় সভানেত্রীর মুক্তির জন্য তাকে অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করতে হয়েছে। নেত্রী সরকার গঠনের পর তার মূল্যায়ন করেছেন। কিন্তু কতিপয় স্বার্থান্বেসী মহলের ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের কারণে তাকে মাঝে মাঝে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকনের সঙ্গে কোন বিরোধ রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে শাহে আলম মুরাদ বলেন. নিছক ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিল। স্বার্থান্বেসী মহল তাদের মধ্যে বিরোধের প্রচার করলেও তাদের রাজনৈতিক-সাংগঠনিক সম্পর্কে কোন ফাটল ধরাতে পারেনি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহানগরের এক নেতার অভিযোগ দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বর্তমান কমিটি। এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে শাহে আলম মুরাদ বলেন.স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তা পর্যন্ত নিতে হয়েছে। দুর্নীতি করে বাড়ি-গাড়ি করার মানসিকতা থাকলে আওয়ামী লীগ করতাম না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করলে আর শেখ হাসিনার নেতৃত্ব মানলে এটা সম্ভব না। মুক্তিযোদ্ধা সংসদে পরিচালিত ক্যাসিনো থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা নেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে এ নগর আওয়ামী লীগ নেতা বলেন. যারা আমার নেতৃত্ব পছন্দ করে না। তাদের কেউ কেউ স¤্রাট গ্রেফতার হওয়ার পর রং কালি লাগিয়ে বিষয়টি মিডিয়ার সামনে আনার চেষ্টা করেছিল। তবে সে উদ্দেশ্য সফল হয়নি।

শুদ্ধি অভিযান শুরুর সাথে সাথেই আওয়ামী লীগের মেয়াদ উত্তীর্ণ সহযোগী সংগঠনের কমিটিগুলোর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর এতে বাদ পড়েছেন অনেক হেভিওয়েট নেতা। ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। পরে বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে কাউন্সিল অধিবেশন। আর সেখানেই নির্বাচন করা হবে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের পরবর্তী নেতৃত্ব।