• ঢাকা
  • সোমবার, ২১শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২১শে সফর, ১৪৪১ হিজরী

সকাল ৮:০৯

মুরসি গণতান্ত্রিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন


মো: সাহেদ : মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুরসি গত সোমবার ইন্তেকাল করেছেন। আদালতে তার বিচার চলাকালে হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ে যান তিনি। হাসপাতালে নেয়ার কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয় বলে সরকারি বলা হয়েছে।আদালতে তিনি বিশ মিনিট সময় ধরে বক্তব্য রাখেন। এর পরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। মিসরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর থেকে তার মৃত্যুর খবর প্রথম জানা যায়।

ড.মোহাম্মদ মুরসি ছিলেন আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতনামা একজন প্রকৌশলী ও বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক।তিনি ছিলেন মিসরের ইসলামপন্থী দল মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রথম সারির নেতা। ২০১১ সালে তিউনিসিয়া থেকে আরব বসন্ত শুরু হলে সেই ঢেউ কায়রোতেও এসে লাগে।ওই সময় গণ-অভ্যুত্থানে মিসরের স্বৈরশাসক হোসনি মোবারক ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর ২০১২ সালে দেশটিতে অবাধ ও নিরপেক্ষ এক নির্বাচনে মুসলিম ব্রাদারহুড জয় লাভ করে। দলটির রাজনৈতিক ফোরাম মনোনীত হয়ে ড. মুরসি দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তবে বেশি দিন ক্ষমতায় থাকতে পারেননি তিনি।২০১৩ সালের জুলাইয়ে সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেন এবং এর পর থেকে তাকে কারাগারের নির্জন সেলে বন্দী করে রাখা হয়। কাতারের কাছে কথিত গোপন নথি ফাঁস, প্রাসাদের বাইরে বিক্ষোভকারীদের হত্যা ও হামাসের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির ভিত্তিহীন অভিযোগে মুরসির বিচার শুরু হয়। এসব অভিযোগে তার যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয় সামরিক জান্তা। এসব অভিযোগের সত্যতা মিসরে অল্প লোকই বিশ্বাস করেন। তাদের ধারণা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এসব বিচারের আয়োজন করা হয়।

ড. মুরসি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, কিডনি ও লিভার সমস্যায় ভুগছিলেন। ২০১৮ সালে ক্রিসপিন ব্লান্টের নেতৃত্বে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের তিন সদস্যের একটি প্যানেল জানিয়েছিল, মুরসিকে দিনের ২৩ ঘণ্টা নির্জন কক্ষে রাখা হয়। দিনের মাত্র এক ঘণ্টা তাকে ব্যায়ামের সুযোগ দেয়া হয়। ব্লান্ট জানিয়েছিলেন, মুরসির এ নির্জন কারাবাসকে কঠোর নির্যাতন বলা যায়। এ অবস্থার কারণে তার দ্রুত মৃত্যু হতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্যে পরিণত হলো। নির্জন কারাবাসে তাকে অমানবিকভাবে মানসিক নির্যাতন ও অত্যাচার করা হয়। কারাগারে অসুখের চিকিৎসা তিনি পাননি। স্বজনদের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ থেকেও তিনি বঞ্চিত হন। শেষ পর্যন্ত আদালতে শুনানির সময় অসুস্থ হয়ে সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন। এ কারণে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান মুরসিকে শহীদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, মুরসির মৃত্যুর ঘটনাটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। যেকোনো বিবেকবান মানুষ এতে বিষণ হয়ে উঠবেন।বাংলাদেশেও যারা সংবেদনশীল, তারা এই মৃত্যুতে বিপন্ন বোধ করছেন। আদালতে তাকে কাচের খাঁচায় রাখা হতো। তার মৃত্যু মিসরের আদালত ও শাসনব্যবস্থার জন্য কলঙ্ক হয়ে রইল। বলাবাহুল্য, মুরসির মৃত্যুতে মিসরে প্রতিক্রিয়া হিসেবে ক্ষোভ-বিক্ষোভ হবে। সরকারি হেফাজতে মুরসির মৃত্যুতে মিসরের রাজনীতি দেশের ভেতরে ও বাইরে কতটা আলোড়িত হবে পরবর্তী ঘটনা প্রবাহে তা বোঝা যাবে। তবে বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে মুরসি ও তার ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা ড. মুরসির ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করছি। তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।