• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২০শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

সন্ধ্যা ৬:০৫

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছেই


মো: সাহেদ : ডেঙ্গুতে প্রতিদিনই মারা যাচ্ছে মানুষ।আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। শনিবার ঢাকা ও ফরিদপুরে আরো পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষাগত সমস্যাও রয়েছে। প্রথমবার পরীক্ষায় না মিললেও দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় ভাইরাসের অস্তিত্ব মিলছে। তাই ডেঙ্গু আতঙ্ক নতুন করে ছড়াচ্ছে। অনেকে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর এনএস-১ পরীক্ষা করিয়েছে, তাতে ডেঙ্গুর লক্ষণ ধরা পড়েনি। কিন্তু আক্রান্ত অনেকের শারীরিক দুর্বলতা না কমায় দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষা করায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ ধরা পড়েছে। প্রথম দফায় এনএস-১ নেগেটিভ হলেও পাঁচ-ছয় দিন পর আইজিজি-আইজিএম পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ছে অনেকের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বরাক্রান্ত হওয়ার তিন-চার দিনের মধ্যে এনএস-১ পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ধরা পড়বে; পরে করা হলে ধরা পড়বে না। জ্বরের পাঁচ-ছয় দিন পর আইজিজি-আইজিএম পরীক্ষার ফল পজিটিভ হলে বুঝতে হবে রোগীর দেহে ডেঙ্গু ভাইরাস রয়েছে। এর মধ্যে আইজিজি পজিটিভ হলে বুঝতে হবে রোগী আগেও এক দফা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল। প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় পরীক্ষায় প্রতিদিনই ডেঙ্গু পজিটিভ রোগী পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে আইজিজি পরীক্ষায় পজিটিভের হার ২৪.৪৪ শতাংশ। এটি বেশি উদ্বেগের বিষয়।

আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যার নিরিখে ডেঙ্গু বিপর্যয়কর রূপ নিয়েছে বলা যায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তথ্য চেপে যাচ্ছে বলে শুরু থেকে অভিযোগ করা হচ্ছিল। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডেঙ্গুতে মৃত্যুর কথা স্বীকার করলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সেসব তথ্য নিশ্চিত করেনি। এ কারণেই বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা করা হচ্ছিল। শনিবার প্রথমবারের মতো তারা জানিয়েছে, আরো ৩০ জনের মৃত্যুর তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। একই দিনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে ‘স্টপ ডেঙ্গু’ নামে একটি বিশেষায়িত মোবাইল ফোন অ্যাপ চালু করেছে সরকার।

এবার ডেঙ্গুর সংক্রমণ প্রত্যাশিত সময়ের বেশ আগে হয়েছে। ফলে প্রথম দিকে চিকিৎসা-প্রস্তুতিতে কিছুটা হলেও ঘাটতি ছিল। পরে চিকিৎসকরা আন্তরিকভাবেই দায়িত্ব পালন শুরু করেন, যা এখনো অব্যাহত আছে। যা-ই  হোক আতঙ্ক যাতে না ছড়ায় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। পরিস্থিতির কথা স্বীকার করায় অনীহা থাকা ঠিক নয়।