ঢাকা রবিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং | ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

রাত ৪:৩৭
সম্পাদকের কলামসম্পাদকের কলাম টপ

ডেঙ্গুর ওষুধ নিয়ে সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলুন

মো : সাহেদ : এডিস মশা নিধনে অকার্যকর ওষুধ ক্রয়ে দুই সিটির শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে প্রভাবশালীদের আশীর্বাদপুষ্ট একটি সিন্ডিকেট মশার ওষুধের মূল্যের ৫০ শতাংশ কমে দরপত্র জমা দিয়ে কাজ বাগিয়ে নেয় সিন্ডিকেটভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান।  ওষুধের মান পরীক্ষা করা হলে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠানটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে। আশ্চর্যজনক হল, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কালো তালিকাভুক্ত করলেও প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ওষুধ সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর.বি)-এর পরীক্ষায় মশা নিধনের ওষুধ অকার্যকর মর্মে প্রকাশিত প্রতিবেদনও আমলে নেয়নি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। সুবিধাভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও জনগণের ভোটে নির্বাচিত মেয়রকেও কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে ক্রমাগত সাফাই গাইতে দেখা গেছে। এর পেছনে রহস্য কী, তা দ্রুত উদ্ঘাটন করা উচিত। ইতিমধ্যে রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব জেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতি ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুজ্বরে অক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে অন্তত দেড় হাজার মানুষ।

আমরা মনে করি, দেশে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশা শনাক্তের শুরু থেকেই যদি কার্যকর ওষুধের মাধ্যমে এদের বংশবৃদ্ধি ও বিস্তার রোধের ব্যবস্থা করা যেত, তাহলে আজ পরিস্থিতি এমন ভয়াবহ হয়ে উঠত না।আমরা জানি,ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়।  মেয়রের যোগসাজশে একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি চক্র টেন্ডারবাজি, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ক্রয়, রাজস্ব আদায়, বিলবোর্ডের মাধ্যমে প্রাপ্ত আয়, হাটবাজার ইজারার মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থসহ বিভিন্ন খাতে অর্জিত আয়ের একটি অংশ পকেটস্থ করেছে।

সংসদীয় কমিটির বৈঠকে দুর্নীতির যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছিল ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে, তার কোনো হেরফের তো ঘটেইনি, বরং দুর্নীতির আরও বিস্তার ঘটেছে, যার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে এত বছর অকার্যকর মশার ওষুধ প্রয়োগের মধ্য দিয়ে।

রাজধানীতে মশক নিধনে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও অকার্যকর ওষুধ প্রয়োগের ফলে তা কোনো কাজে আসেনি।তাই এ বিষয়টি মাথায় রেখে দুই সিটি কর্পোরেশন দ্রুত মশা নিধনে শতভাগ কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি।