• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২১শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং | ৭ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৫শে জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

রাত ৯:০২

ট্রাম্পকে এক হাত নিলেন ট্রুডো


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেনীয় যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত করার স্বীকারোক্তির পর ঘরে-বাইরে চাপের মুখে ইরান। বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ মানুষ। অভিযোগ রয়েছে, ইন্ধন দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিরুদ্ধে তাজা গুলি ব্যবহারের অভিযোগ উঠলেও তা অস্বীকার করেছে রুহানি প্রশাসন।
বিমান বিধ্বস্তের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতকে দুষছে কানাডা।
ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রে ইউক্রেনের যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্তের প্রতিবাদে চতুর্থদিনের মতো বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার তেহরানের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন কয়েকশ’ ইরানি। এসময় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আল খামেনির পদত্যাগের দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভকারীদের দমনে পুলিশের বিরুদ্ধে সরাসরি গুলি চালানোর অভিযোগ উঠলেও তা অস্বীকার করেছে দেশটির প্রশাসন। বিক্ষোভকারীদের প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী সর্বোচ্চ সহনশীলতা দেখাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তেহরানের পুলিশ প্রধান।
মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দ্বন্দ্বকে দায়ী করেছে কানাডা। এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, কাশেম সোলাইমানিকে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো সতর্কবার্তা দেয়া হয়নি।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, দুই দেশের মধ্যে যদি সংঘাত সৃষ্টি না হতো, তাহলে এই প্রাণহানি ঘটতো না। আজ তারা পরিবারের সাথে সময় কাটাতো। শান্তিপূর্ণ উপায়ে সবকিছুর সমাধান করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সাথে নিয়েই আমরা বড় বড় সঙ্কট মোকাবিলা করতে চাই। কিন্তু কোনো কোনো দেশ তাদের বন্ধু রাষ্ট্রকে না জানিয়েই বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে ফেলছে।
চারটি মার্কিন দূতাবাসে হামলার পরিকল্পনা করায় কাশেম সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়েছে-প্রথম দিকে এমন দাবি করলেও ভিন্ন সুরে কথা বলছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, মার্কিনিদের জন্য হুমকি হওয়ায় কাশেম সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, সবকিছু নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। আমরা বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছি। সে খুব খারাপ মানুষ ছিলেন। বহু মার্কিনকে হত্যা করেছে সে। ডেমোক্র্যাটরা এ নিয়ে বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করছেন। এটা দেশের জন্য খুবই লজ্জাজনক। এটা নিয়ে রাজনীতি করা ঠিক হবে না। সোলাইমানিকে আরো ২০ বছর আগেই হত্যা করা উচিত ছিল।
মার্কিন হামলায় ইরানি শীর্ষ কমান্ডার কাশেম সোলাইমানি নিহতের পর জেগে উঠেছিল ইরান। তার সম্মানে তেহরানের রাজপথে নেমে আসে লাখ লাখ মানুষ।
রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুসে উঠে সবাই। তবে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় পাল্টে গেছে সেই চিত্র। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছে দেশটি।

নতুন কাগজ/আরকে