• ঢাকা
  • সোমবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং | ১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৬ই মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

বিকাল ৪:২০

ট্যানারি রক্ষায় নজর দেয়া জরুরী


মো: সাহেদ : ট্যানারি শিল্প রক্ষায় নজর দেয়া জরুরী।দেশের চামড়া খাত নানান চক্রান্তের শিকার। ফলে সম্ভাবনাময় এ খাতটি ক্রমাগত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চলতি বছর কোরবানির ঈদে চামড়া কেনা নিয়ে যা হয়েছে তার নজির  কোনো দেশেই নেই। মূল্যবান চামড়া মানুষ ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুপরিকল্পিত উদ্যোগ ও কঠোর নজরদারি ছাড়া চামড়া খাতের ধস ঠেকানো সম্ভব হবে না।

কয়েক দশকের চেষ্টায় ট্যানারিগুলো হাজারীবাগ থেকে সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে স্থানান্তর করা গেলেও এখনো সেটিকে পুরোপুরি চালু করা যায়নি। ১৬ বছরে চার দফা সময় এবং ছয় গুণের বেশি বরাদ্দ বাড়িয়েও এখানকার কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা যায়নি। তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে সিইটিপি নির্মাণকারী চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিও। আগে বুড়িগঙ্গা নদীর মরণদশার অন্যতম কারণ ছিল এই শিল্পের বর্জ্য, এখন একইভাবে ধলেশ্বরী নদীকে দূষিত করছে এই শিল্পের কঠিন ও তরল বর্জ্য। শিল্পে শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ নিয়েও আছে অনেক প্রশ্ন। এসব কারণে বাংলাদেশের ট্যানারি শিল্প পরিবেশগত আন্তর্জাতিক সনদও পাচ্ছে না। ফলে ব্যাহত হচ্ছে বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি। কমছে রপ্তানি আয়।

২০০৩ সালে ১৭৬ কোটি টাকার এই প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলেও দায়িত্ব দেওয়া হয় বিসিককে। ২০০৫ সালে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সে সময় বাস্তবে কিছুই হয়নি। এরপর প্রথম দফায় সময় বাড়ানো হয় ২০১০ সাল পর্যন্ত, দ্বিতীয় দফায় ২০১৬ সাল, তৃতীয় দফায় ২০১৯ সালের জুন এবং চতুর্থ দফায় ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৮ কোটি টাকায়। এই বর্ধিত সময়ে কাজ শেষ হবে কি না তা নিয়েও সংশয় আছে। শিল্পনগরীর সীমানা দেয়াল, অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণের কাজও এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি। এই প্রকল্পে কারো কোনো জবাবদিহি আছে বলেও মনে হয় না। সাধারণত পরিকল্পনা কমিশন দুবারের বেশি কোনো প্রকল্পের মেয়াদ বাড়াতে চায় না। এ ক্ষেত্রে এমন ব্যতিক্রম কেন? জানা গেছে, পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটিকে রুগ্ন উল্লেখ করে চিঠি দিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়কে। কিন্তু তাতে সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে হয় না।তাই প্রকল্পের কাজ শেষ করে  প্রয়োজনীয়  ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।