• ঢাকা
  • সোমবার, ২১শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২১শে সফর, ১৪৪১ হিজরী

রাত ১০:১৩

টানা তৃতীয়বার উইজডেনের ‘লিডিং ক্রিকেটার অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ কোহলি


স্পোর্টস ডেস্কঃ ক্রিকেটের বাইবেল বলা হয় উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমানাককে। ক্রিকেটারদের সর্বোচ্চ সম্মানপ্রাপ্তিও ঘটে বার্ষিকভাবে প্রকাশিত এই বইয়ের স্বীকৃতির মাধ্যমে। একটিবার অন্তত উইজডেন অ্যালমানাকে নাম ওঠাকে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে ধরে থাকেন ক্রিকেটাররা। সেখানে, টানা তৃতীয় বছর উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালামানাকের বিচারে ‘লিডিং ক্রিকেটার ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ নির্বাচিত হয়েছেন ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি।

শুধু বর্ষসেরা ক্রীড়াবীদই নন, উইজডেন প্রতি বছরই সেরা ৫জন ক্রিকেটারের নাম ঘোষণা করে। এবার সেই ৫ জনের তালিকায় রয়েছে কোহলির নামও। অর্থ্যাৎ, উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমানাকের বিচারে গত এক বছরের পারফরম্যান্সের মানদন্ডে শুধু লিডিং ক্রিকেটার ইন দ্য ওয়ার্ল্ডই নন, হয়েছেন বর্ষসেরা ৫ জনের একজনও। দুই সম্মানের মুকুট একসঙ্গে উঠছে বিরাট কোহলির মাথায়।

উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমানাকের ২০১৯ সালের সংস্করণের মাধ্যমে লিডিং ক্রিকেটার ইন দ্য ওয়ার্ল্ড এবং উইজডেন ক্রিকেটার্স অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত করা হয়।

বিরাট কোহলি ছাড়াও উইজডেন ক্রিকেটার্স অব দ্য ইয়ারের তালিকায় বাকি চারজনের মধ্যে রয়েছেন ইংল্যান্ডের জস বাটলার এবং স্যাম কুরান। মৌসুমজুড়ে ইংল্যান্ডের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে গেছেন তারা দু’জন। অন্যরা হলেন সারের হয়ে চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী অধিনায়ক ররি বার্নস এবং ইংল্যান্ড নারী দলের সদস্য ট্যামি বিউমন্ট।

২০১৮ সালজুড়ে স্বর্ণযুগ ছিল বিরাট কোহলির। তিন ফরম্যাট মিলে ২০১৮ সালে তিনি ৬৮.৩৭ গড়ে করেছেন সর্বমোট ২৭৩৫ রান। তার ধারেকাছেও কেই নেই। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ইংল্যান্ডের জো রুট। তাও ৭০০ রান দুরে।

এই এক বছরে কোহলি ৩৭ ইনিংসে করেছেন ১১টি সেঞ্চুরি। যার সাতটিই এসেছে ভারতের দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া সফরে। সাধারণত প্রতিপক্ষের জন্য এই তিনটি দেশই সবচেয়ে কঠিন হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।

বিশেষ করে ইংল্যান্ড সফরটা ছিল কোহলির জন্য সোনায় মোড়ানো। যদিও এই সফরে মোট ৪-১ ব্যবধানে হারতে হয়েছিল ভারতকে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে কোহলি ৫ টেস্টে ৫৯.৩০ গড়ে রান করেন ৫৯৩। এর সধ্যে দুটি সেঞ্চুরিও আছে এজবাস্টন এবং ট্রেন্টব্রিজে।

উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমানাকে সাধারণত, ইংল্যান্ডের বাইরে খেলোয়াড়রা সেরা হিসেবে বিবেচিত হন না। আগের বছরের ইংল্যান্ডের ক্রিকেট মৌসুমকেই বিবেচনায় আনা হয় উইজডেন ক্রিকেটার্স অব দ্য ইয়ার নির্বাচনের ক্ষেত্রে। বিরাট কোহলি ২০১৪ সালে ইংল্যান্ড সফরে মাত্র ১৩.৪০ গড়ে রান করেছিলেন ১৩৪।

তবে এবার ইংল্যান্ডের মাটিতে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য উইজডেন ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হলেন তিনি। অথচ, তার দল এই সিরিজে হেরে গিয়েছিল ৪-১ গোলে। পরাজিত দলের ক্রিকেটার হিসেবে উইজডেন অ্যালামানাকের ক্রিকেটার্স অব দ্য ইয়ারের তালিকায়- ১৮৮৯ সালের পর এমন ঘটনার জন্ম দিলেন কোহলি।

প্রসঙ্গতঃ কোনো ক্রিকেটার ক্যারিয়ারে শুধুমাত্র একবার উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমানাকের ‘বর্ষসেরা উইজডেন ক্রিকেটার্স অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হতে পারেন। কেউ একবার নির্বাচিত হয়ে গেলে, পরে আর কখনও এই খেতাবে ভূষিত হন না।

উইজডেনের সম্পাদক লরেন্স বুথ বলেন, ‘একটি পরাজিত দলের সদস্য হিসেবে শেষ করলেও, ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। ২০১৪ সালে যে সংগ্রাম তিনি করেছিলেন, সেটাকে ঢেকে দিলেন এবার। তার টেস্ট ব্যাটিং, বিশেষ করে ইংল্যান্ডে, ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ৫০ ওভারেও নিজেকে অন্য লেভেলে নিয়ে গেছেন তিনি।’

প্রসঙ্গতঃ ২০১৯ সালে প্রকাশ হলো উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমানাকের ১৫৬তম সংস্করণ।