• ঢাকা
  • শনিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং | ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৭শে জমাদিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

সকাল ৬:১৬

ঝালকাঠির সেই লিমনের বাবাকে পিটিয়ে জখম


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঝালকাঠির রাজাপুরের সাতুরিয়া গ্রামে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে র‌্যাবের গুলিতে পা হারানো কলেজছাত্র লিমন হোসেনের বাবা তোফাজ্জেল হোসেন আকনকে (৫৫) পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় রোববার দুপুরে লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম রাজাপুর থানায় দুজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ছয়জনের নামে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

হামলার সময় তোফাজ্জেল হোসেনকে রক্ষা করতে গিয়ে তার পা হারানো ছেলে লিমন, সুমন ও তার স্ত্রী হেনোয়ারা বেগমও মারধরের শিকার হয়েছেন। গুরুতর আহত তোফাজ্জেল হোসেন আকনকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রাজাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামের ইব্রাহিম হাওলাদার, আবদুল হাই, সোহরাব, কালাম, লিলি বেগমদের সঙ্গে লিমনদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে মৃত রশিদ হাওলাদারের ছেলে ইব্রাহিম হাওলাদারসহ প্রতিপক্ষরা ৬ এপ্রিল দুপুরে বিরোধীয় জমির বাঁশ কাটতে গেলে লিমনের বাবা তোফাজ্জেল বাধা দিলে তাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।

তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে প্রতিপক্ষরা পা হারানো লিমন, তার মা হেনোয়ারা বেগম, ভাই সুমনকে মারধর করে এবং লিমনের বাবার পকেটে থাকা ১০ হাজার টাকা, সোনার চেইন ছিনিয়ে নেয়।

পরে লিমনের বাবাকে উদ্ধার করে রাজাপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাতে বরিশাল পাঠানো হয় এবং লিমনসহ অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

তবে মূল অভিযুক্ত মো. ইব্রাহীম হাওলাদার জানান, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে লিমন প্রভাব খাটিয়ে এ মিথ্যাচার করছে।

রাজাপুর থানার ওসি মো. জাহিদ হোসেন জানান, রাতে উভয়পক্ষ থেকে মামলা এজাহারভুক্ত করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

২০১১ সালের ২৩ মার্চ ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম সাতুরিয়ায় নিজের বাড়ির পাশে মাঠ থেকে গরু আনতে গেলে র‌্যাব সদস্যরা তাকে ধরে পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। জীবন বাঁচাতে সেখানে তার বাম পা ঊরুর নিচ থেকে কেটে ফেলা হয়।