• ঢাকা
  • শনিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং | ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৬শে জমাদিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

ভোর ৫:৪০

জঙ্গি তৎপরতা নিষ্ক্রিয় করতে এখনই ব্যবস্থা নিন


আত্মঘাতী বোমা হামলার মধ্য দিয়ে দেশে জঙ্গিবাদের চর্চা শুরু হয়েছিল । সেই সিপিবির সমাবেশে, রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে, ময়মনসিংহে সিনেমা হলে বোমা হামলাসহ চালায় জঙ্গিরা।২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট একযোগে ৬৩ জেলায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় তারা। সেই সময়ে ঘটে বাংলা ভাইয়ের উত্থান।

হঠাৎ করে কয়েক দিন ধরে বেশ কিছু পত্রিকায় ‘জামিনে থাকা জঙ্গিরা মাথা চাড়া দিচ্ছে’ শিরো নামে নিউজ প্রকাশিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এখনই ভাবতে হবে। তবে জঙ্গিবাদ আজ আর কোনো দেশ বা অঞ্চলের সমস্যা নয়, এটি এক বৈশ্বিক সমস্যা।

এক তথ্যে জানা যায়, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার ৭৭৯ জঙ্গির মধ্যে ৫৬৪ জন জামিনে বেরিয়ে যায়। আর গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯ শতাধিক জঙ্গি জামিনে রয়েছে বলে জানা গেছে। ধারনা করা হচ্ছে, জামিনে থাকা জঙ্গিদের বেশির ভাগ আবারও জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে।অনেকে বিদেশে পালিয়েছে। আবার অনেকে দেশেই আত্মগোপনে। তাদের মধ্যে হলি আর্টিজান হামলার পর র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার ৫১২ জঙ্গির মধ্যে ৩০০ জন জামিনে আছে।এসব জঙ্গির হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। সম্প্রতি দুই জঙ্গিকে গ্রেপ্তারের পর যে তথ্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আছে, তা খুবই ‍উদ্বেগজনক। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো। এসব দলের অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছে। কিন্তু আদালত থেকে তারা জামিন পাচ্ছে কী করে? আদালত সূত্র বলছে, পুলিশের প্রতিবেদনে দুর্বলতা থাকায় জামিন পেয়ে যাচ্ছে তারা। পুলিশ সদর দপ্তরের জঙ্গি কার্যক্রম মনিটরিং সেলের তথ্যানুযায়ী দেশজুড়ে ২০১৬ সালে ১৭৮টি এবং ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯৯টি জঙ্গিসংক্রান্ত মামলা হয়। এই পৌনে দুই বছরে জঙ্গিসংক্রান্ত মামলা হয় ২৭৭টি। এরপর গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় সমসংখ্যক মামলা হয়। এসব মামলায় গ্রেপ্তার ৯ শতাধিক জঙ্গি জামিনে রয়েছে।

আমরা মনে করি, বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে। জঙ্গি তৎপরতা রোধ করতে হবে।আরো সক্রিয় হতে হবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।