• ঢাকা
  • সোমবার, ২১শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২১শে সফর, ১৪৪১ হিজরী

সকাল ৮:৪২

চৌহালীতে খোলা আকাশে পাঠদান


সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি;
সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নে রেহাইপুখুরিয়া আর পি এন শহীদ শাহ্জাহান কবির উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবনের বিম ফাটল ও ছাঁদ ধসে শ্রেনী কক্ষ ব্যবহার অনুপযোগী থাকায় ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চলছে। ডিজিটাল বাংলাদেশে শতভাগ শিক্ষা বাস্তবায়নে জীবনের ঝুকির মধ্যেও পরিত্যক্ত ভবন, ঝড়ে পরা টিনের ঘরে ও রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে খোলা আকাশেঁর (গাছতলায়) নিচে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করাচ্ছেন শিক্ষকগণ, এমন দৃশ্য সাংবাদিকের ক্যামেরায় বন্ধি হয়।

১৯৭১ সালে রেহাই পুখুরিয়া আর পি এন শহীদ শাহজাহান কবির উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। স্কুল প্রতিষ্ঠার পরবর্তী সময়ে ১৯৯৪ সালে শিক্ষা ফ্যাসালিটির মাধ্যমে একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবনটি ২০১৬ সালে ছাঁদ ও বিম ধসে শিক্ষার্থীরা আহত হয়, এরপর থেকেই ৮ম, ৯ম ও ১০ম শেনীর শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। গত ৯ আগষ্ট ২০১৮ ছাঁদ ধসে শিক্ষার্থীদের আহত’র ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পরলে উপজেলা প্রশাসন, প্রকৌশলী ও শিক্ষা অফিস স্কুলটি সরেজমিন পরিদর্শন করে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করেন। ৯ মাসেও বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনটি আলোর মুখ দেখেনি। নতুন ভবনের সম্প্রসারণ কাজের টেন্ডার বাস্তব্যায়ন না হওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকগণ চরম উৎকণ্ঠায়। ডিজিটাল যুগেও খোলা আকাশে পাঠদান করছে শিক্ষার্থীরা নজর নেই কর্তৃপক্ষের। বর্তমান বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৬শ, এদের জন্য কর্মরত ৯ জন শিক্ষাক মন্ডলী ও ম্যানেজিং কমিটি দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।

স্কুলটি ৩ তলা ফাউন্ডেশন ভবনে নীচ তলায় রয়েছে অফিস কক্ষ ও ২টি ক্লাশ রুম। ৬শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীর পাঠদান নিয়ে সমস্যায় জরজরিত স্কুল কৃর্তৃপক্ষ। উপজেলায় শিক্ষা অঙ্গনে উন্নয়নের জোয়ার অব্যাহত থাকলেও শিক্ষা অফিস এবং এলজিইডি’র বিমাতা সুলভ আচারণে ভবনের বাকী তলা গুলো আলোর মুখ দেখছেনা। ফলে শ্রেণী কক্ষের অভাবে পাঠদানের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে খোলা আকাশঁ ও পরিত্যক্ত ভবন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহেরুল, সাবিকুন নাহার মিম, নাছিমা, আছিয়া, সম্রাট ও মাসরাফি জানান, বিদ্যালয়টি নানা সমস্যার রেড়াজালে আটকা, উপজেলায় উন্নয়নের বন্যা বইছে অথচ আমাদের বিদ্যালয়ে শ্রেণী কক্ষের সংকটে পরিত্যক্ত ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান কার্যক্রম।

ম্যানেজিং কমিটি সভাপতি মিয়ান বোরহান উদ্দিন ও প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, এ বিদ্যালয়টি উপজেলার অন্যতম বিদ্যাপীঠ, ২ টি ভবন থাকলেও ১ টি পরিত্যক্ত অপর ভবন আছে ৩ তলা ভবন ফাউন্ডেশন আছে উপরে কোন তলা বা শ্রেনী কক্ষ নির্মান করা হচ্ছেনা। একতলা ভবনে ২টি শ্রেণী কক্ষ ও অফিস কক্ষ রয়েছে। এতে সংকলন না হয়ায় সময়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে রোধ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে পাঠদান দিতে হচ্ছে পরিত্যক্ত ভবন ও গাছতলায়। শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘবে উপজেলা প্রশাসনের কাছে বার বার ধরণা দিয়েও কোন সুফল পায়নি, বাধ্য হয়ে ভাঙ্গা ঘর ও গাছতলায় লেখাপড়া করাচ্ছি।

বাঘুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাহার সিদ্দিকী জানান, বিদ্যালয়টি আমি দেখেছি পাঠদান নিয়ে সমস্যার অন্ত নেই প্রশাসন ও এলজিইডি সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করব। কমলমতি শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রæত ভবন নির্মান, প্রতিষ্ঠানে প্রবেশদারে গেট নির্মান ও খেলার মাঠ উমুক্ত করে আমাদের শিক্ষা জীবনের ঝুকি থেকে রক্ষা করুন।