• ঢাকা
  • শনিবার, ১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৯শে সফর, ১৪৪১ হিজরী

দুপুর ১:৪১

চূড়ান্ত তালিকাতেও স্থান হয়নি ভারতীয় সেনা কর্মকর্তার


আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতীয় আসাম রাজ্য নাগরিক নিবন্ধনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। দেড় বছর আগে খসড়া প্রকাশের পর শনিবার সকাল ১০টায় এই চূড়ান্ত তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

তিন কোটি ৩০ লাখ আবেদেনকারীর মধ্যে তিন কোটি ১১ লাখ লোককে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কাজেই ১৯ লাখ লোক রাষ্ট্রহীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে শনিবার প্রকাশিত এই চূড়ান্ত নাগরিক তালিকায়ও স্থান হয়নি মোহাম্মদ সানাউল্লাহ নামের এক ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, এনআরসির চূড়ান্ত তালিকায় এই সেনা কর্মকর্তার তিন সন্তান, দুই মেয়ে ও এক ছেলের নাম নেই। কিন্তু স্ত্রীর নাম রয়েছে সেখানে।

এর আগে ২০১৮ সালে প্রকাশিত আসাম রাজ্যে খসড়া নাগরিক তালিকায় নাম বাদ পড়ার পর মোহাম্মদ সানাউল্লাহ গুয়াহাটি হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। আবেদনের পর বিচারপতি তাকে ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে ছেড়ে দিতে বলেন। কিন্তু তাকে ভারতীয় নাগরিক বলে ঘোষণা করা হয়নি।

সাবেক ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা সানাউল্লাহ সে সময় আর্জি জানিয়েছিলেন, তাকে যেন বিদেশি বলে গণ্য না করা হয়। এ বিষয়ে এখনও শুনানি চলছে।

১৯৮৭ সালে মোহাম্মদ সানাউল্লাহ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি দেশটির সেনাবাহিনীতে চাকরি করেন। এখন তার বয়স ৫২ বছর। তিনি দু’বার ভারত শাসিত কাশ্মিরে এবং একবার মণিপুরে কর্মরত ছিলেন। আসাম সরকারের কর্মকর্তা চন্দ্রমল দাস তদন্ত করে সাবেক সেনা কর্মকর্তা সানাউল্লাহকে বিদেশি বলে ঘোষণা করে।

২০০৮ সালে মোহাম্মদ সানাউল্লাহকে নোটিশ দিয়ে নিজেকে ভারতীয় হিসেবে প্রমাণ করতে বলা হয়। এরপর ২০১৮ সালে তিনি ট্রাইব্যুনালের সামনে হাজির হন। পরে একই বছরের ২৩ মে তাকে বিদেশি বলে ঘোষণা করা হয়। তারপর তাকে আসামের গোয়ালপাড়ায় ডিটেনশন ক্যাম্পে (আটক কেন্দ্রে) পাঠানো হয়।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য বলেছে যে- শনিবার প্রকাশিত এনআরসির চূড়ান্ত নাগরিক তালিকায় যাদের নাম স্থান পাবে না, তাদেকে এখনই বিদেশি ঘোষণা করা যাবে না। পরবর্তী সকল আইনি বিকল্প শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে বিদেশি ঘোষণা করা হবে না। প্রকাশিত এনআরসি তালিকার বাইরে থাকা প্রতিটি ব্যক্তি দেশটির গঠিত বিদেশি ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারেন এবং আবেদন করার সময়সীমা ৬০ থেকে বাড়িয়ে ১২০ দিন করা হয়েছে।