ঢাকা শনিবার, ২৫শে মে, ২০১৯ ইং | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৯শে রমযান, ১৪৪০ হিজরী

বিকাল ৫:০৪
টপ স্লাইডসারা বাংলা

চুয়াডাঙ্গা হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চরম সংকট, মারাত্মক পরিবেশ দূষণ

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় হাসপাতাল এলাকাসহ আশেপাশে মারাত্মক পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।

যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে হাসপাতাল এলাকার বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র দুর্গন্ধ। টনে টনে মেডিকেল বর্জ্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে সদর হাসপাতালের আশেপাশে ও তৎসংলগ্ন আবাসিক এলাকায়।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা বহিঃর্বিভাগ ও অভ্যন্তরীণ বিভাগের রোগীসহ ওই এলাকার বাসিন্দারা মেডিকেল বর্জে্যর দুর্গন্ধ ও মারাত্মক পরিবেশ দূষণের শিকার হয়ে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইউএনবির কাছে স্বীকার করছেন, এসব বর্জ্য এতটাই ক্ষতিকারক যে একজন সুস্থ মানুষকে অসুস্থ্য করতে মাত্র মিনিট পাঁচেকই যথেষ্ঠ। তবে হাসাপাতালের এসব মেডিকেল বর্জ্য কোথায় ফেলা হবে বা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের করণীয় কী তার সঠিক সমাধান এখনই তাদের কাছে নেই।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ শামীম কবীর বলেন, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালটি ১০০ শয্যর। কিন্তু প্রতিদিন আমাদের সীমিত সংখ্যক জনবল দিয়ে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয় কয়েক হাজার মানুষের। এ কারণে বর্জ্যও হয় একটু বেশি।

তিনি জানান, হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর রোগীর শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সাধারণত মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। আর গজ ব্যান্ডিজসহ সাধারণ বর্জ্যগুলো হাসপাতালের ডাস্টবিনে ফেলা হয়। তবে তিনি স্বীকার করেন, অনেক বর্জ্য জমে মাঝে মাঝে ছড়িয়ে পড়ে দূর্গন্ধ। যা মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

সিভিল সার্জন ডাঃ খাইরুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, হাসপাতালে রোগীদের এসব বর্জ্য বিনষ্ট করতে বিশেষ এক ধরনের ইনসিনারেসন মেশিনের প্রয়োজন। যা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেই। এ কারণেই বর্জ্য নিয়ে চিন্তিত হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটিও।

তবে তিনি জানান, সদর হাসপাতালের বর্জ্য শোধানাগারের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রানালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। খুব শিগগিরই এই সমস্যা দূর হবে বলে আশাবাদ তার।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বেশ কয়েকটি উন্মুক্তস্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে রোগীদের রক্তমাখা গজ, ব্যান্ডেজসহ নানা ধরনের মেডিকেল বর্জ্য। দুপুরের পর দেখা গেলো মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনি ওয়ার্ডের পাশে রাখা বড় বড় প্লষ্টিকের ড্রাম ভর্তি বর্জ্য বেশ কয়েকজন পরিচ্ছন্ন কর্মীরা হাসপাতালের বাউন্ডারির মধ্যেই উন্মক্ত স্থানে ফেলছে। একটা সময় হাসপাতালে রোগীদের বর্জ্য জমতে জমতে তৈরী হলো অর্বজনার স্তূপ।

কথা হলো সদর হাসপাতালের পরিচ্ছন্ন কর্মী সানজিদের সাথে। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওয়ার্ডের বর্জ্য নিয়ে এসে হাসপাতালের খোলা জায়গাতেই ফেলা হয়। পরে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার গাড়ি এসে ময়লাগুলো নিয়ে চলে যায়। কিন্তু সেই বর্জ্যগুলো কোথায় ফেলা হয় তা জানেন না এই পরিচ্ছন্ন কর্মী।

হাসপাতালে রোগী দেখতে আসা গোলাম কিবরিয়া জানান, সদর হাসপাতালে বর্জ্য উন্মুক্ত স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার দৃশ্য নিত্যদিনের। তার মতে, রোগীদের শরীরের বিষাক্ত এসব বর্জ্যর প্রকট দূর্গন্ধে হাসপাতালে অবস্থান করা দূরুহ ব্যাপার।

প্রায় অভিন্ন অভিযোগ দামুড়হুদা উপজেলার পাটাচোরা গ্রামের আবু সুফিয়ানের। তিনি জানান, তার ছোট বোন হাসপাতালে ভর্তি আছেন টানা ৯ দিন। এ কারণে প্রতিদিনই তাকে আসতে হয়। তার অভিযোগ হাসপাতালের উন্মক্ত স্থানের ফেলা দূষিত ও দুর্গন্ধযুক্ত বর্জে্যর গন্ধে তিনি নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
সুজনের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে সুস্থ হতে এসে এখন ভাল মানুষও অসুস্থ হয়ে ফিরছে। আর যারা ভর্তি থাকছেন তারাও নতুন রোগে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে ফিরছেন। এটা দূঃখজনক। একজন সাধারণ মানুষ হিসাবে কোনোভাবেই এটি মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের হস্তক্ষেপ চান তিনি।