• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১২ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৭শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৪ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

বিকাল ৩:০৮

চুয়াডাঙ্গায় পুলিশ কনস্টেবলের ছুরিকাঘাতে শাশুড়ি খুন, গুরুতর আহত স্ত্রী-শ্যালক


চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় এক পুলিশ কনস্টেবলের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে শাশুড়ি শেফালী অধিকারীর মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন স্ত্রী ফাল্গুনী অধিকারী ও শ্যালক আনন্দ অধিকারী। শনিবার (৮ জুন) ভোরে আলমডাঙ্গা উপজেলা শহরের মাদ্রাসাপাড়ায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন সিআইডির কনস্টেবল ঘাতক অসীম ভট্টাচার্য।

গুরুতর আহত ফাল্গুনী ও আনন্দকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, চুয়াডাঙ্গা সিআইডিতে কর্মরত কনস্টেবল অসীম অধিকারী দীর্ঘদিন ধরে আলমডাঙ্গা উপজেলা শহরের মাদ্রাসাপাড়ায় ভাড়া বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। তার বাড়ির সামনেই শ্বশুর সদানন্দের বাড়ি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে আলমডাঙ্গা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহবুবুর রহমান জানান, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে অসীম ও ফাল্গুনী দম্পতির মধ্যে মাঝেমধ্যেই বিরোধ তৈরি হতো। শনিবার ভোরেও তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে রাগান্বিত হয়ে স্ত্রী ফাল্গুনী অধিকারী পাশেই বাবার বাড়িতে চলে যান।

গুরুতর আহত আনন্দ অধিকারী জানান, ‘দিদি আমাদের বাড়িতে আসার কিছুক্ষণ পরই অসীম (জামাই বাবু) আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় দিদি গেট খুলতেই তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত শুরু করে অসীম। এ সময় আমার মা শেফালী অধিকারী ও আমি ছুটে এসে তাকে নিবৃত করার চেষ্টা করলে আমাদেরকেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় আমার মায়ের।’

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহ জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ভোরেই নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানাতে আনা হয়। গুরুতর আহত ফাল্গুনী ও আনন্দকে উদ্ধার করে নেওয়া হয় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে কনস্টেবল অসীম ভট্টাচার্য।

নিহতের বাবা সদানন্দ অধিকারী জানান, ‘৯ বছর আগে খুলনার দৌলতপুর উপজেলার মহেশ্বরপাশা গ্রামের মৃত দুলাল ভট্টাচার্যর ছেলে অসীমের সাথে বিয়ে হয় আমার মেয়ে ফাল্গুনীর। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই সন্দেহের বশবর্তী হয়ে নানা কারণে আমার মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন করত অসীম। বিয়ের পর তাদের কোলজুড়ে একটি কন্যাসন্তান এলেও নির্যাতনের মাত্রা কমেনি।’