• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২রা এপ্রিল, ২০২০ ইং | ১৯শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ৮ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

সকাল ১১:৪৫

চাহিদা বাড়ায় দাম বেড়েছে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ এক মাসের ব্যবধানে ঢাকায় ভয়াবহ দুইটি অগ্নিকাণ্ডের পর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করায় সচেতন হয়ে উঠেছেন ভবন মালিক, বিভিন্ন কারখানা ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ । গত ২০ ফেব্রুয়ারি চকবাজারের চুড়িহাট্টায় আর ২৮ মার্চ বনানীর এফআর টাওয়ারে অঘ্নিকাণ্ডে প্রায় শখানেক মানুষের প্রাণহানির পর ঢাকার ভবনগুলোতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার অভিযানের মুখে অগ্নিনির্বাপণের সরঞ্জাম সংগ্রহ করছেন তারা। গত কয়েকদিনে রাজধানীতে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের দোকানগুলোতে বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় বিক্রেতারাও সুযোগ বুঝে এসব সরঞ্জামের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

ঢাকার নবাবপুরের পাইকারি ও খুচরা অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম বিক্রেতারা জানিয়েছেন, পোশাক কারখানা, হাসপাতালসহ অন্যান্য বড় বড় প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা আগে থেকেই আছে। কিন্তু কোনো অফিস, গুদাম বা আবাসিক বহুতল ভবনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় বেশ ঘাটতি আছে। মূলত সেসব ভবন সংশ্লিষ্টরাই এবার সরঞ্জাম সংগ্রহ করছেন।

ঢাকার নবাবপুর পাইকারি মার্কেট থেকে অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম কিনে ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা বেড়েছে ফায়ার এক্সটিংগুইশারের। রাসায়নিক (এবিসি ড্রাই পাউডার) পাউডার, কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস ও ফোম সিলিন্ডারও বিক্রি হচ্ছে ভালো।

এছাড়া অক্সিজেন মাস্ক, ফায়ার ড্রেস, পানির হোস পাইপ, ফায়ার বল, বালতি, ফায়ার অ্যালার্ম, ধোঁয়ার অ্যালার্ম, নিরাপত্তা বেল্ট, চশমা, হেলমেট, স্ট্রেচারসহ আগুন নেভানোর অন্যান্য সরঞ্জামের বিক্রিও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

স্থানীয় সুত্র জানা গেছে , এক ভবন মালিক তার আটতলা ভবনটি আট বছর আগে নির্মাণের সময় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল, কিন্তু দীর্ঘদিন আগের ওইসব সরঞ্জাম ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হয়ে গেছে। এখন যেহেতু বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে অভিযান শুরু হয়েছে তাই সেগুলো নতুন করে সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমার মত অনেকেই যেহেতু অগ্নিনির্বাপণের সরঞ্জাম কিনতে আসছে তাতে দোকানদাররা বেশি সংখ্যক ক্রেতা দেখছেন, যে কারণে দামও তারা বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবনে যেহেতু এসব জিনিসপত্র রাখতে হবে তাই দাম কিছু বেশি হলেও নিতে হবে।”

ঢাকার নবাবপুর পাইকারি মার্কেটের একটি দোকানে অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম দেখছেন এক ক্রেতা। জানান, মান ও কোম্পানি ভেদে একটি ফায়ার এক্সটিংগুইশার এক হাজার ২০০ টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম কম থাকায় রাসায়নিক পাউডারের এক্সটিংগুইশার বেশি বিক্রি হচ্ছে। এ ধরনের ছোট আকারের একটি এক্সটিংগুইশার এক হাজার ২০০ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এসব এক্সটিংগুইশারের দাম হাজার টাকার নিচে ছিল বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

এছাড়া অক্সিজেন মাস্ক, ফায়ার ড্রেস, পানির হোস পাইপ, বালতি, ফায়ার অ্যালার্ম, ধোঁয়ার অ্যালার্ম, নিরাপত্তা বেল্ট, চশমা, হেলমেটের দামও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

তবে এসব সরঞ্জামের দাম খুচরা পর্যায়েই বেড়েছে বলে জানিয়েছেন পাইকারি বিক্রেতারা।

নবাবপুরের মর্গেন ইন্টারন্যাশনালের তাপস চক্রবর্তী জানান, তারা অগ্নিনির্বাপনের সব ধরনের সরঞ্জাম আমদানি করেন। খুচরা বিক্রেতারা তাদের কাছ থেকে নিয়ে বিক্রি করেন।

নবাবপুরের পাইকারি মার্কেটে ক্রেতাকে অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম দেখাচ্ছেন বিক্রেতা। তিনি বলেন, দুইটি বড় অগ্নিকাণ্ডের পর অগ্নিনির্বাপন সরঞ্জামের চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। তবে আবাসিক ও অফিসে ব্যবহারের উপযোগী এক্সটিংগুইশারের চাহিদা বেশি বেড়েছে।

“কল-কারখানা বা বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য আগুন ডিটেকশন বা প্রোটেকশনের যন্ত্রপাতির চাহিদা আগের মতই রয়েছে,” বলেন এই ব্যবসায়ী।

সুত্র জানায় “পোশাক কারখানাগুলোতে আগে থেকেই অগ্নিনির্বাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। তাই নতুন করে তাদের আর প্রয়োজন নেই। কিছু কিছু মার্কেট, অফিস ও বহুতল আবাসিক ভবনের জন্য এই চাহিদা তৈরি হয়েছে।”

অগ্নিনির্বাপন সরঞ্জাম বিক্রির আরেক প্রতিষ্ঠান শামা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (সেলস) মো. লিটন পাটোয়ারী বলেন, “অধিকাংশ মানুষ সচেতন না। যে কারণে বহুতল ভবনগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আগে থেকে গ্রহণ করেনি তারা। এখন এক ধরনের চাপে পড়ে আমাদের কাছে আসছে, অধিকাংশ ক্রেতা কেবল এক্সটিংগুইশারই কিনছেন।”

তিনিও জানালেন, বহুতল ভবন ও অফিসের লোকজনই বেশি আসছেন এখন।

চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম ‘স্বাভাবিকভাবেই’ কিছুটা বেড়েছে জানিয়েছেন এক দোকান মালিক , এটা সীমিত সময়ের জন্যই বেড়েছে। কিছুদিন পর স্বাভাবিক পর্যায়ে দাম নেমে আসবে।