• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৮ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৩শে সফর, ১৪৪১ হিজরী

সন্ধ্যা ৬:৫৭

ঘ্যাংরাইল নদীর বুকে দৃষ্টিনন্দন কাঠের সেতু


শালতা নদীর উজান থেকে নেমে আসা প্রবাহমান পানির প্রচণ্ড স্রোতধারার পাশাপাশি সেতুটির নয়নাভিরাম দৃশ্য যে কারো মন জুড়াবে।

ডুমুরিয়া উপজেলার কুলবাড়িয়া-নিঁচুখালিসহ ৫-৬টি গ্রামের ঘ্যাংরাইল নদী পারাপারে একমাত্র ভরসা এই সেতু। দীর্ঘদিনের ধরে ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো আর নৌকায় দিয়ে নদী পারাপারের কাজ চালিয়ে আসছিলেন হাজার হাজার মানুষ। আর তাই প্রচণ্ড এ দুর্ভোগ লাঘবে প্রায় এক যুগ ধরে এখানে একটি সেতু ও রাস্তা নির্মাণে জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল।

স্থানীয়রা বলেন, ‘বর্তমান উপজেলা প্রশাসনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় উন্নয়ন তহবিল হতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৭৫০ ফুট ইটের রাস্তা নির্মাণ বাবদ ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। নির্মাণ শেষে গত ২৫ জুন রাস্তাটি উদ্বোধনের দিন জনগণ উপজেলা প্রশাসনের কাছে বাকি ৪৫০ ফুট রাস্তা এবং নদীর উপর সেতু নির্মাণের দাবি জানালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনাজ বেগম আরও ২ লাখ টাকা উপজেলা এডিবি তহবিল থেকে বরাদ্দ দেন। তিনি নিজেই কাঠের সেতুটির নকশা তৈরি করেন। দৃষ্টিনন্দন সেতুটি দ্রুত নির্মাণে জনগণের কাছে দর্শনীয় এবং মোহনীয় হয়ে উঠেছে। দেখতে আগন্তুকদের কাছে যেন সাগর তীরের নয়নাভিরাম দৃশ্যপট এটি।’

সেতুতে ঘুরতে আসা কলেজ শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘রাস্তা এবং দৃষ্টিনন্দন কাঠের সেতুটি তৈরি করায় এটা মিনি পর্যটন স্পটে পরিণত হয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে সাগর তীরের নয়নাভিরাম দৃশ্য এটি।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম মুন্না বলেন, সুষ্ঠু তদারকি এবং স্বচ্ছতার মাধ্যমে ইটের রাস্তা এবং বাঁশ ও কাঠ দিয়ে দৃষ্টিনন্দন ১১০ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটি তৈরি করা হয়েছে। গত ১৭ জুলাই বুধবার উপজেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে কাঠের নির্মিত সেতুটি উদ্বোধন করেন। এছাড়া অপরূপ সৌন্দর্যের এই নিদর্শন এক নজর দেখার জন্য প্রতিদিন অসংখ্য ভ্রমণ পিপাসু ভিড় করছেন। তারা একে গ্রামীণ পর্যটন স্পট হিসেবে বেছে নিয়েছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহনাজ বেগম বলেন, আমি মনে করি সেতুটি নির্মাণে কৃষকদের ধান, মাছ, সবজিসহ সকল ধরনের ফসল তারা সহজে বাজারে নিতে পারবেন। এতে প্রান্তিক কৃষকদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী প্রতিটি গ্রাম হবে শহর যেখানে গ্রামের মানুষেরও শহরের মানুষদের মতো জীবনমানের উন্নয়ন ঘটে। তারই প্রেক্ষিতে রাস্তাসহ সেতু স্থাপনের সিদ্ধান্তের ফলস্বরূপ এই দৃষ্টিনন্দন, নয়নাভিরাম অত্যাবশ্যকীয় এই সেতু।

একদিকে যেমন জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হবে অন্যদিকে এই নয়নাভিরাম সেতু, জলাশয়সহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য পরিবেশে সুন্দর একটা বিকাল, অপূর্ব এক সন্ধ্যা উপভোগ করতে পারবে।

এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমেদ বলেন, ‘সবার নজর কেড়েছে কাঠ এবং বাঁশের তৈরি সেতুটি। ডুমুরিয়ার উপজেলা আটলিয়া ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ঘ্যাংরাইল নদীতে ১২’শ ফুট রাস্তা এবং কাঠের সেতুটি ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে। দুই পারের মানুষের পারাপারের জন্য ওই সেতুটি নির্মাণের ফলে অন্তত ৫-৬ গ্রামের মানুষের পারাপারসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধাও বাড়বে।’