• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২০শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

দুপুর ১:২৬

কোনাবাড়ি ও চন্দ্রা ফ্লাইওভার চালু হচ্ছে শনিবার


গাজীপুর প্রতিনিধি : দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চালু হচ্ছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কোনাবাড়ি ও চন্দ্রা ফাইওভার। ফাইওভার দুটি চালু হলে মহাসড়কটির অনেকটা যানজটমুক্ত হবে বলে মনে করছেন সড়কটি ব্যবহারকারীরা।

আগামীকাল শনিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফাইওভার দুটি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পরই ফাইওভার দুটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এছাড়া সেদিন চারটি আন্ডারপাস ও দুটি সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করবেন সরকার প্রধান।

ফাইওভার দুটি যানবাহন চলাচলে উন্মুক্ত করে দেয়ার খবরে খুশি স্থানীয়রা। তারা জানান, প্রতি বছর ঈদে ঘরমুখো মানুষকে যানজটে নাকাল হতে হয়। সড়ক মেরামত এবং ফাইওভার দুটি উন্মুক্ত হওয়ার ফলে সহজে যানবাহন নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে। এতে যানজট মুক্ত ঈদযাত্রা হবে বলে মনে করছেন তারা।

আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং কোনাবাড়ি এলাকার বাসিন্দারা কোনাবাড়ি ফাইওভারটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের নামে নামকরণের দাবি তুলেছেন। তারা বলছেন, ১৯ মার্চে আ ক ম মোজাম্মেল হকের বীরোচিত ভূমিকার কারণে কোনাবাড়ি ফাইওভারটি মোজাম্মেল হক উড়াল সেতু নামকরণ সময়ের দাবি।

ফাইওভার দুটি উন্মুক্ত হওয়ায় আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষ যানজট থেকে রেহাই পাবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট সড়ক সংযোগ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, উত্তরবঙ্গের ২৩টি জেলার ১১৮টি রুটের পরিবহন চলাচল করে গাজীপুর জেলার ওপর দিয়ে। এ কারণে প্রতিবছর ঈদ যাত্রায় ঘরমুখো লাখ লাখ মানুষের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায় গাজীপুরের যানজট। বিশেষ করে চন্দ্রা, কোনাবাড়ি, কালিয়াকৈর বাইপাসে যানজট নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তবে এবারের ঈদ যাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে কাজ চলছে দিনরাত। আগামী দু’একদিনের মধ্যেই ফাইওভার দুটির কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপ।

সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-১ এর অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. জিকরুল হাসান জানান, সাসেক প্রকল্পের আওতায় জয়দেবপুর-এলেঙ্গা মহাসড়কের গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ভোগড়া বাইপাস মোড় থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার সড়ক ফোর লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে। পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে ধীরগতির যান চলাচলের জন্য পৃথক সার্ভিস লেন তৈরির কাজও চলছে। প্রকল্পের অধীন ১১টি ফাইওভার, ১৩টি আন্ডারপাস, ২৬টি ব্রিজ ও ৭৪টি কালভার্ড নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পের ৫৫ ভাগ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। আগামী ২৫ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জয়দেবপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ি ও চন্দ্রার ফাইওভারসহ চারটি আন্ডারপাস এবং দুটি ব্রিজ যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেবেন।

তিনি আরও জানান, ফোরলেন বিশিষ্ট ৪০টি স্প্যানের কোনাবাড়ী ফাইওভারের দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৬৪৫ মিটার ও প্রস্থ ১৮ দশমিক ২০ মিটার। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২১০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। অন্যদিকে সাতটি স্প্যানের কালিয়াকৈরের চন্দ্রায় নির্মিত ফাইওভারের দৈর্ঘ্য ২৮৮ মিটার এবং প্রস্থ ১৮ দশমিক ২০ মিটার। মহাসড়কের গাজীপুরের কড্ডায় দুই লেন সেতুর পাশে নির্মিত সেতুটির দৈর্ঘ্য ৭০ মিটার ও প্রস্থ ১৪ দশমিক ৭১৫ মিটার এবং ২টি স্প্যান বিশিষ্ট।

এছাড়া মহাসড়কের গাজীপুরের বাইপাইল এলাকায় বিদ্যমান দুই লেন সেতুর পাশে নির্মিত সেতুটির দৈর্ঘ্য ১২১ মিটার ও প্রস্থ ১৪ দশমিক ৭১৫ মিটার এবং এটি ৫টি স্প্যানের। অপরদিকে কালিয়াকৈর বাইপাস এলাকায় এপ্রোচ সড়কসহ আন্ডারপাসটির দৈর্ঘ্য ৪২০ মিটার। এছাড়া মির্জাপুর থানার দেওহাটা বাজার ও নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এবং টাঙ্গাইল সদর উপজেলার টাঙ্গাইল বাইপাস এলাকায় আন্ডারপাস যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।