• ঢাকা
  • সোমবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং | ১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৫ই মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

রাত ৪:২৬

কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার


লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরে বছরের পর বছর খোলা জায়গায় পড়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে কয়েক হাজার মোটর সাইকেল, প্রাইভেটকার ও সিএনজি চালিত আটোরিকসা। বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় জব্দ এসব গাড়ি সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। তবে পুলিশ বলছে, জব্দ এসব গাড়ির বেশিরভাগই চোরাই। সঠিক কাগজপত্র না থাকায় দেয়া যাচ্ছে না এসব মোটরসাইকেল ও গাড়ি। এ ছাড়া মামলার জটিলতার কারণে আটক হওয়া যানবাহন গুলো নিলাম করতে পারছেনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

সরেজমিনে লক্ষ্মীপুর বিআরটিএ অফিস ও পুলিশ লাইন্সে গিয়ে দেখা গেছে, হাজারো মোটর সাইকেলের স্তুপ। মোটর সাইকেল থেকে শুরু করে প্রাইভেটকার ও সিএনজি চালিত আটোরিকসাও রয়েছে এখানে। স্তুপে রাখা গাড়িগুলোর মধ্যে বিভিন্ন নামি-দামী ব্যান্ডের গাড়িও রয়েছে। তবে রোদ-বৃষ্টি আর ধুলার আস্তরণে বোঝার উপায় নেই কোনটা সচল আর কোনটা অচল। সরকারি মালখালায় বছরের পর বছর অযত্নে পড়ে থাকায় কিছু গাড়ির কাঠামো ও সেসিস ছাড়া অবশিষ্ট কিছুই নেই। বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় জব্দ করা যানবাহন সরকারি মালখানায় পাঠায় আইনশৃংখলা বাহিনী। পরে আইনি জটিলতার কারণে অনেক মালিকই ছাড়িয়ে নিতে পারেন না তার গাড়ি। তাই দিন-দিন এভাবে জমে গাড়ির স্তুপ তৈরী হয়েছে। লক্ষ্মীপুরে সরকারি মালখানায় বিভিন্ন সময় জব্দ করা মোটর সাইকেলের সংখ্যা ২ হাজারের বেশি।

এদিকে, সফিক উল্যা, মিলন ব্যাপারী ও আবদুল হাই নামে কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, বছরের পর বছর এসব জব্দ গাড়ি রোদে-বৃষ্টিতে রেখে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া গাড়ির বেশিরভাগ যন্ত্রাংশ ও ব্যাটারি খুলে নেয়ারও অভিযোগ করেন তারা। দ্রুত এসব গাড়ির মামলা নিষ্পত্তি করে নিলামে দেয়ার দাবি স্থানীয়দের।

লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট জসিম উদ্দিন বলেন, এভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ করার পরও কেন এর সুরাহা হচ্ছে না, তা বুঝতে পারছি না। দ্রুত এসব মামলা নিষ্পত্তি করলেই আমাদের সম্পদ গুলো রক্ষা পাবে। সরকারও রাজস্ব পাবে।

পুলিশ সুপার আ স ম মাহাতাব উদ্দিন বলেন, যেসব গাড়ি রয়েছে তার মধ্যে বেশিরভাগই মামলার আলামত হিসেবে পড়ে রয়েছে। এ ছাড়া জব্দ এসব গাড়ির বেশিরভাগই চোরাই। সঠিক কাগজপত্র না থাকায় দেয়া যাচ্ছে না এসব মোটর সাইকেল। তবে জব্দ এসব গাড়ির বিষয়ে অল্প সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।