• ঢাকা
  • সোমবার, ২১শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২১শে সফর, ১৪৪১ হিজরী

সকাল ৮:২৩

কেমন হবে বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক




মো; সাহেদ : সমস্ত জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে  ভারতে দ্বিতীয়বারের মতো নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি জোট বিপুলভাবে বিজয় লাভ করেছে। চিরাচরিত ভাবে এবারো নির্বাচনী ফলাফল মেনে নিয়ে বিরোধী দলগুলো বিজেপেকে অভিনন্দন জানিয়েছে।এটাই ভারতের  গণতন্ত্রের রীতি ও সৌন্দর্য। সবচেয়ে বড় বিষয় এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে  ভারতের প্রায় ৯০ কোটি ভোটারের ভোটের অধিকার নিশ্চিত হয়েছে।  জয়ী হয়েছে গণতন্ত্র।

নির্বাচনী ফলাফল মেনে নিয়ে বিরোধী দলগুলো যেভাবে গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য সমুন্নত রেখেছে,  তা গনতন্ত্রের ইতিহাসে বিরল। সে জন্য তাদেরও ধন্যবাদ দিতে হয়। এটা প্রশংসনীয় যে ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পর ৭২ বছর ধরে ভারত গণতান্ত্রিক পন্থায় এবং অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলেছে, যা এ অঞ্চলের অনেক দেশই পারেনি।

বাংলাদেশেসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সরকার প্রধানরা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আমরাও এই নির্বাচনী সাফল্যের জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানাই। যদিও নির্বাচনের আগে ভোট নিয়ে বাগ্‌যুদ্ধের কমতি ছিল না।কিন্তু পরিশেষে নির্বাচন হয়েছে অবাধ ও সুষ্টু ।ভারতের মতো একাটি উদার গণতান্ত্রিক দেশের নেতৃত্ব কে দেবেন বা দেশটি কে চালাবেন সেটা একান্তভাবে ভারতের জনগণরে বিষয়। সেটা নিয়ে বাংলাদেশ বা অন্য কোনো দেশের কিছু বলার নেই। তবে প্রতিবেশি দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জনগনের কিছু কিছু বিষেয়ে বলার বা চাওয়ার থাকে। আমরা আশা করবো ভারতে যে নতুন সরকার আসছে সে সরকার যেন দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সুসম্পর্ক বজায় রাখে। আমরা স্বরণ করতে চাই, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি  ঢাকা সফরকালে প্রতিবেশীকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার  যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন এবং তাঁর সফরের পরই ছিটমহল বিনিময়সহ বেশ কিছু সমস্যার সুরাহা হয়েছে। বাস্তবায়ন হয়েছিল  স্থলসীমান্ত চুক্তি ।কিন্তু ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমস্যার কারণে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন সমস্যার মীমাংসা হয়নি। আমরা জানতে পেরেছি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চিস্তানদীর পানিবন্টন সমস্যার মীমাংসা আন্তরিকভাবে চেয়েছিলেন।

কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রবল আপত্তির কারণে ভারতের পূর্বাপর দুই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি ভাগাভাগি চুক্তি সইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েও শেষ পর্যন্ত তা করতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রী মোদি এরপরও বাংলাদেশকে আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন যে তাঁর ও শেখ হাসিনার সরকারের আমলেই তিস্তার পানিবণ্টন সমস্যার সমাধান হবে। তাই পরিপর্তিত প্রেক্ষাপটে ভারতের এই সরকারের পক্ষে তিস্তার  পানি সমস্যার সমাধান করা অতি সহজ হবে না বলে আমরা মনেকরি।

বাংলাদেশের সব রাজনৈতিকদলগুলো বিজেপির বিজয়কে স্বাগত জানিয়েছে। সব দলই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সুসম্পর্ক ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছে।তারা আশা করে  তিস্তাসহ অন্যান্য নদীর পানির ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত, বাণিজ্যক্ষেত্রে শুল্ক-অশুল্ক বাধা, সীমান্ত হত্যাকাণ্ড ও ভারতের নাগরিক পঞ্জির সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ প্রশমনে ভারতের নতুন সরকার বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেবে। শুধু তাই নয় রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের মনোভাব নতুন করে দেখতে চায়। আরেকটি বিষয় ভারতকে খুবই গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে তা হলো,   ভারতে উগ্র ও মৌলবাদের উত্থান ঘটলে বাংলাদেশেও এর প্রভাব পরে। আমরা আশাকরি, এবারের মোদির সরকার আঞ্চলিক স্বার্থে  উগ্রবাদকে  অবদমিত করবেন।