• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৭ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২১শে সফর, ১৪৪১ হিজরী

ভোর ৫:৪৯

কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাক হোল


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্কঃ পূর্বঘোষণা অনুযায়ী অবশেষে কৃষ্ণগহ্বরের (ব্ল্যাক হোল) ছবি প্রকাশিত। এতে করে প্রথমবারের মতো কৃষ্ণগহ্বর দেখতে কেমন, তা জানতে পারল বিশ্ববাসী। কৃষ্ণগহ্বরের ছবি ধারণ করার জন্য বিশেষভাবে নির্মিত ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপের (ইএইচটি) ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে কৃষ্ণগহ্বরের ছবি প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

কৃষ্ণগহ্বরটির আকার প্রায় ৪০ বিলিয়ন কিলোমিটার। সহজ করে বললে, কৃষ্ণগহ্বরটি পৃথিবীর প্রায় ৩০ লাখ গুণ বড়! আকারে এটি এতটাই বিশাল যে বিজ্ঞানীরা একে ‘দৈত্যাকৃতি’র বলে উল্লেখ করেছেন।

কৃষ্ণগহ্বরটি পৃথিবী থেকে ৫০০ মিলিয়ন ট্রিলিয়ন কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। পৃথিবীজুড়ে স্থাপন করা ৮টি টেলিস্কোপের মাধ্যমে এই কৃষ্ণগহ্বরের ছবি ধারণ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

ব্ল্যাক হোল কী?

  •  ব্ল্যাক হোল হলো এমন একটি জায়গা, যেখানে কোনো কিছু প্রবেশ করলে আর ফিরে আসে না। এমনকি আলোও এই গহ্বরকে অতিক্রম করতে পারে না।
  • নাম গহ্বর হলেও ব্ল্যাক হোলের মধ্যে কিন্তু পুরোটা ফাঁকা জায়গা নয়। বরং এর মধ্যে খুব অল্প জায়গায় এত ভারী সব বস্তু আছে যে এসবের কারণে তীব্র মহাকর্ষীয় শক্তি উৎপন্ন হয়।
  •  ব্ল্যাক হোলের পেছনে ‘ইভেন্ট হরাইজন’ নামের একটি স্থান আছে, যাকে বলা হয় ‘পয়েন্ট অব নো রিটার্ন’। এই জায়গায় মহাকর্ষীয় শক্তি এতটাই তীব্র যে এখান থেকে কোনো কিছুই আর ফেরত আসতে পারে না।

আকৃতিতে কৃষ্ণগহ্বরটি আমাদের সমগ্র সৌরজগতের চেয়েও বড়। এর ভর সূর্যের ভরের চেয়ে ৬.৫ বিলিয়ন গুণ বেশি। আমাদের ধারণা, যতগুলো কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিত্ব রয়েছে, সব কটির মধ্যে এটি ভরের দিক থেকে অন্যতম। এটি স্রেফ দৈত্যাকৃতির একটি কৃষ্ণগহ্বর।’

একটি সম্পূর্ণ গোলাকৃতি ও অন্ধকার গহ্বরকে ঘিরে রয়েছে এই আগুনের চক্র। গহ্বরের ভেতরে আটকে পড়া উচ্চ তাপমাত্রার গ্যাসের কারণে এই আগুনের উৎপত্তি। চক্রাকার এই আগুনের কারণে উৎপন্ন হচ্ছে তীব্র এক আলোকরশ্মি। এই আলোর তীব্রতা এতটাই বেশি যে ওই ছায়াপথে অবস্থিত শত শত কোটি তারার মোট ঔজ্বল্যের চেয়েও উজ্জ্বল এই গহ্বর! এ কারণেই এত দূরে থাকা পৃথিবী থেকেও কৃষ্ণগহ্বরটিকে দেখা গেছে।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত দিন বিজ্ঞানীরা কৃষ্ণগহ্বরের আকৃতি সম্পর্কে যে তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা ও অনুমান করেছিলেন, বাস্তবের কৃষ্ণগহ্বরের সঙ্গে তার অধিকাংশই মিলে গেছে।

গহ্বরের চারপাশে এই উজ্জ্বল আলো কীভাবে সৃষ্টি হচ্ছে—সেটি সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত নন কেউ। তবে প্রথমবারের মতো এই ছবি প্রকাশিত হওয়ায় কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণার সুযোগ ও সম্ভাবনা—দুটোই আরও বেড়ে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।