• ঢাকা
  • সোমবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং | ১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৫ই মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

রাত ২:০৭

কুড়িগ্রামে বন্যার পানিতে ডুবে ২ সপ্তাহে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু


কুড়িগ্রামে বন্যার পানিতে ডুবে গত দুই সপ্তাহে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ভোরে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নে পানিতে পড়ে এক বৃদ্ধ মারা যান। খবর ইউএনবি’র।

রৌমারী সদর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সুজাউল ইসলাম জানান, ওই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মন্ডলপাড়া এলাকার খাইরুজ্জামান (৬৫) মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে ভেলায় করে বাড়ি ফেরার পথে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বন্যার পানিতে পড়ে মারা গেছেন।

এ নিয়ে এখন পর্যন্ত বন্যায় ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত হলেও মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক গুণ। নেই বিশুদ্ধ পানি, নেই খাদ্য, নেই শৌচকর্মের সুব্যবস্থা। এতে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। কারো ঘরে রান্না হলেও শুকনো ভাত লবণ দিয়ে খেতে হচ্ছে। এ দুর্ভোগ জেলার প্রায় সাড়ে ৮ লাখ বানভাসি মানুষের।

পানি কমলেও কোনো মানুষ এখনও ঘরে ফেরেনি। সরকারিভাবে ত্রাণ শুরু হলেও বেশিরভাগ বানভাসিদের কাছে তা পৌঁছায়নি। বিশাল এক জনগোষ্ঠী পানিবন্দী হওয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা চরম বিপাকে পড়েছেন। পানিবন্দী মানুষ তাদের কাছে ত্রাণ চাইছে।

এখনও ব্রহ্মপূত্র, ধরলা ও দুধকুমোর নদীর পানি বিপদসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গণকমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি কলামিস্ট নাহিদ নলেজ বলেন, এ অঞ্চলের মানুষদের বাঁচাতে হলে সরকারকে এখনই চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা হোক। কারণ এ তিনটি উপজেলার ৯৫ ভাগ মানুষ এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বানের পানিতে ভাসছে। ঘরে ঘরে খাদ্যের জন্য হাহাকার বিরাজ করছে। ঘটছে মানবিক বিপর্যয়। সাধারণ মানুষের একমাত্র সম্বল গবাদিপশুও রক্ষা করতে পারছে না। নেই গো-খাদ্য।

জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, বন্যার ফলে ৫৭টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৮ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ২০ হাজার হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক হাজার ২৪৫ কিলোমিটার রাস্তা, ৪০ কিলোমিটার বাঁধ ও ৪১টি ব্রিজ- কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৯ হাজার ৭৩৪টি। প্রায় ২ লক্ষাধিক গবাদিপশু পানিবন্দী রয়েছে।

ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির কারণে এখন পর্যন্ত ৭৫৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১২৮টি, মাদরাসা ৭০টি, মহাবিদ্যালয় ১৭টি এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৫৪০টি। এছাড়া ১ হাজার ২৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে ৫৩৬টি। নদী ভাঙনে বিলীন হয়েছে ৪টি। এতে ১ লাখ ৩৫ হাজার শিশুর পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে।

জেলা প্রশাসন থেকে এখন পর্যন্ত ৫ মেট্রিক টন জিআর চাল, ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৩ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৬ হাজার ৪২৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৬৩ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।